হিন্দু ধর্ম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
বিমল ও শ্যামল দুজনেই স্কুলের ছাত্র। তারা একে অপরের প্রতিবেশী। বিমল নম্র ও ভদ্র। সে নিয়মিত পূজা করে, বড়দের সম্মান করে এবং সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করে। অপরদিকে শ্যামল দুষ্ট ও উচ্ছৃঙ্খল স্বভাবের। সে ধর্ম কর্মে অমনোযোগী, বড়দের অসম্মান করে। শ্যামলের মা বিমলের এমন নৈতিকতার কারণ জানতে চাইলে বিমলের মা বলে, নিয়মিত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের কারণে আমার ছেলে এখন বিনয়ী ও শান্ত।
- ক)(1)
ধর্মাচার কাকে বলে?
- খ)(2)
ধর্মানুষ্ঠান বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বিমল ও শ্যামলের আচার-ব্যবহারের মধ্যকার পার্থক্য বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
'ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে মানুষের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনকে প্রভাবিত করে।' উক্তিটি বিমল ও শ্যামলের জীবনের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
জীবনকে সুন্দর ও কল্যাণময় করার জন্য যে সমস্ত আচার-আচরণ চর্চিত হয়, তাকে ধর্মাচার বলে; এগুলোকে লোকাচারও বলা হয়।
- খ)
ধর্মশাস্ত্রে পূজা এবং অবশ্যকর্তব্য বিভিন্ন অনুষ্ঠানের যে নির্দেশ দেওয়া আছে, সেগুলোকেই ধর্মানুষ্ঠান বলে। ঈশ্বর ও দেব-দেবীর স্তব-স্তুতি করে যেসব অনুষ্ঠান করা হয়, তা ধর্মানুষ্ঠানের অন্তর্ভুক্ত। দোলযাত্রা, রথযাত্রা ও নামযজ্ঞ এর উদাহরণ। ধর্মাচার ও ধর্মানুষ্ঠান একই সূত্রে গাঁথা, কারণ ধর্মানুষ্ঠান করতে গেলে নির্দিষ্ট কিছু ধর্মাচারও পালন করতে হয়।
- গ)
উদ্দীপকে বিমল ও শ্যামলের আচার-ব্যবহারে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে, যার মূল কারণ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন ও অপালন।
ধারণা : জীবনকে সুন্দর ও মঙ্গলময় করে গড়ে তোলে যেসব আচার-আচরণ, তা ধর্মাচার। পাঠ্যবই অনুযায়ী ধর্মাচার বা ধর্মনীতি মানুষকে ভদ্র, নম্র ও বিনয়ী করে তোলে এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে। যিনি ধর্মাচার মেনে চলেন, তাঁর জীবনে শৃঙ্খলা ও সংযম আসে।
উদ্দীপকের সাথে প্রয়োগ : বিমল নিয়মিত পূজা করে, বড়দের সম্মান করে এবং সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করে। ফলে সে নম্র ও ভদ্র স্বভাবের হয়েছে। তার মা-ও বলেছেন, নিয়মিত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের কারণেই সে বিনয়ী ও শান্ত। অপরদিকে শ্যামল ধর্মকর্মে অমনোযোগী, বড়দের অসম্মান করে এবং দুষ্ট ও উচ্ছৃঙ্খল স্বভাবের। ধর্মাচারের চর্চা না থাকায় তার মধ্যে নৈতিকতা ও শিষ্টাচার গড়ে ওঠেনি।
অতএব, বিমল ধর্মীয় আচার পালনের ফলে নম্র, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও শ্রদ্ধাশীল, আর শ্যামল ধর্মাচারবিমুখ হওয়ায় উচ্ছৃঙ্খল ও অবিনয়ী।
- ঘ)
উক্তিটি যথার্থ। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে, যা বিমল ও শ্যামলের জীবনের পার্থক্যে স্পষ্ট।
ধারণা : জীবনকে কল্যাণময় করার আচার-আচরণকে ধর্মাচার এবং ধর্মশাস্ত্রে নির্দেশিত পূজা ও অবশ্যকর্তব্য অনুষ্ঠানকে ধর্মানুষ্ঠান বলে। পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে ধর্মাচারের গুরুত্ব অপরিসীম।
১. ব্যক্তিজীবনে প্রভাব : ধর্মাচার মানুষকে ভদ্র, নম্র ও বিনয়ী করে তোলে। বিমল নিয়মিত পূজা করে ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করে, তাই সে নম্র ও ভদ্র। ধর্মাচারের মাধ্যমে তার চরিত্রে সংযম ও নৈতিকতা গড়ে উঠেছে।
২. পারিবারিক জীবনে প্রভাব : ধর্মাচারের মাধ্যমে পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় হয়। ভাইফোঁটা, রাখীবন্ধন বা জামাইষষ্ঠীর মতো আচারে সদস্যদের মধ্যে স্নেহ ও ভালোবাসা বাড়ে। বিমলের মা সন্তানকে নিয়মিত ধর্মীয় আচারে অভ্যস্ত করেছেন, ফলে পরিবারে সুসম্পর্ক ও শান্তি বজায় থাকে। অন্যদিকে শ্যামলের আচরণে তার পরিবার অশান্তিতে পড়ে।
৩. সামাজিক জীবনে প্রভাব : ধর্মানুষ্ঠান ও ধর্মাচারে সবাই একত্র হয়, ভেদাভেদ ভুলে একাত্ম হয়। এতে সামাজিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বাড়ে। বিমল বড়দের সম্মান করে, ফলে সমাজে সে প্রশংসিত। শ্যামল বড়দের অসম্মান করায় সমাজে তার আচরণ নিন্দনীয়।
৪. তুলনা : দুজনই প্রতিবেশী ও স্কুলের ছাত্র, কিন্তু ধর্মাচার পালনের পার্থক্যে তাদের আচরণ আলাদা। এ থেকে বোঝা যায়, ধর্মাচার চরিত্র গঠনে ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখে।সুতরাং, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান মানুষের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে—উক্তিটি বিমল ও শ্যামলের জীবনের আলোকে সম্পূর্ণ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও