পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব : বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভ • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব 'ক' প্রথম জীবনে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে রাজনীতিতে যোগ দেন। তিনি অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ করেন যে, গ্রামের দরিদ্র কৃষকগণ মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। পরবর্তীতে জনপ্রতিনিধি হয়ে তিনি কৃষকদের রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
- ক)(1)
কাকে 'বাংলার সৈয়দ আহমদ' বলা হয়?
- খ)(2)
ফরায়েজি আন্দোলন বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব 'ক' এর সাথে তোমার পঠিত কোন রাজনীতিবিদের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত নেতার অবদান কেবল কৃষিক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নওয়াব আব্দুল লতিফকে 'বাংলার সৈয়দ আহমদ' বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তুল্লাহ কর্তৃক ভারতীয় উপমহাদেশে (বিশেষ করে পূর্ব বাংলায়) শুরু হওয়া একটি সংস্কারবাদী ও ধর্মীয়-সামাজিক আন্দোলনকে ফরায়েজি আন্দোলন বলা হয়। 'ফরায়েজি' শব্দটি এসেছে আরবি 'ফরজ' (বাধ্যতামূলক কর্তব্য) থেকে। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল মুসলমানদের অনৈসলামিক কুসংস্কার ও রীতিনীতি ত্যাগ করে ইসলামের অবশ্য পালনীয় কর্তব্যগুলো (ফরজ) পালনে বাধ্য করা এবং পরবর্তীতে তা নীলকর ও স্থানীয় জমিদারদের শোষণের বিরুদ্ধে কৃষক আন্দোলনে রূপ নেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব 'ক' এর সাথে অবিভক্ত বাংলার অবিসংবাদিত নেতা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের সাদৃশ্য রয়েছে।
শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক প্রথম জীবনে কলকাতা হাইকোর্টের একজন সফল আইনজীবী ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং বাংলার ঋণগ্রস্ত, নিঃস্ব ও শোষিত কৃষকদের দুর্দশা লাঘবে ব্রতী হন। তিনি প্রজাস্বত্ব আইন ও ঋণ সালিশী বোর্ড গঠনের মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। উদ্দীপকে জনাব 'ক' এর প্রথম জীবনে আইনজীবী থাকা, রাজনীতিতে আসা এবং চড়া সুদে সর্বস্বান্ত হওয়া কৃষকদের সুরক্ষায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টির সাথে এ. কে. ফজলুল হকের কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের অবদান কেবল কৃষিক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং শিক্ষা, রাজনীতি এবং বাঙালি জাতীয় জাগরণেও তিনি অসামান্য ভূমিকা পালন করেন।
কৃষকদের জন্য তিনি 'বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন' (১৯৩৬) সংশোধন করেন এবং 'মহাজনি আইন' ও 'ঋণ সালিশী বোর্ড' প্রতিষ্ঠা করে লক্ষ লক্ষ কৃষককে সুদের ভয়াল ফাঁদ ও জমি হারানো থেকে রক্ষা করেন। কিন্তু তাঁর কর্মকাণ্ড শুধু এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না:
১. শিক্ষা বিস্তার: বাংলার মুসলমানদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য তিনি কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা আন্দোলন, কারমাইকেল কলেজ, লেডি ব্র্যাবোর্ন কলেজ এবং ইডেন কলেজসহ বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
২. রাজনৈতিক নেতৃত্ব: তিনি নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি ও কৃষক প্রজা পার্টি গঠন করেন। ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের (১৯৪০) উত্থাপক ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে অন্যতম প্রধান নেতা হিসেবে মুসলিম লীগের পতন ঘটান এবং যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
সুতরাং, শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের অবদান শুধু কৃষির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল না; তিনি ছিলেন আধুনিক বাঙালি সমাজের রাজনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তরের প্রধান কারিগর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও