পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. 'A' ভারতীয় উপমহাদেশের একজন মুসলিম নেতা। তিনি ধর্মীয় কুসংস্কার দূরীকরণে জোর প্রচেষ্টা চালায়, এক পর্যায়ে তা আন্দোলনে রূপ নেয়। অপরদিকে মি. 'B' অন্যায়ের বিরুদ্ধে অত্যাচারী শাসক চক্রের হাত থেকে সাধারণ জনগণকে রক্ষায় একটি লাঠিয়াল বাহিনী গড়ে তোলেন। তাদের প্রশিক্ষণের জন্য দুর্গ নির্মাণ করেন।
- ক)(1)
'দেশবন্ধু' উপাধি দেয়া হয় কাকে?
- খ)(2)
'ভাগ কর ও শাসন কর নীতি' বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
মি. 'A' এর আন্দোলনের সাথে তোমার পঠিত কোন নেতার কার্যক্রমের মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো। ৩
- ঘ)(4)
মি. 'B' এর কার্যক্রম ব্রিটিশ বিরোধী চেতনা বিকাশে কতটুকু সহায়ক? বিশ্লেষণ করো। 8
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিত্তরঞ্জন দাশকে 'দেশবন্ধু' উপাধি দেওয়া হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ভাগ কর ও শাসন কর' (Divide and Rule) নীতি বলতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকদের এমন এক কৌশলকে বোঝায়, যার মাধ্যমে তারা ভারতবর্ষের বিভিন্ন সম্প্রদায়—বিশেষত হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় বা জাতিগত বিভেদ ও সন্দেহ তৈরি করে নিজেদের শাসন টিকিয়ে রাখত। এই নীতির মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয়দের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধকে দুর্বল করে ঔপনিবেশিক ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মি. 'A'-এর কার্যক্রমের সাথে আমার পঠিত ফরায়েজী আন্দোলনের প্রবর্তক হাজী শরীয়তুল্লাহর কার্যক্রমের গভীর মিল রয়েছে।
উনিশ শতকে হাজী শরীয়তুল্লাহ মুসলিম সমাজের মধ্য থেকে অনৈসলামিক রীতিনীতি, বিদআত ও কুসংস্কার দূর করার জন্য ফরায়েজী আন্দোলন শুরু করেন। তিনি ইসলাম ধর্মের মূল স্তম্ভ বা অবশ্যপালনীয় কর্তব্য (ফরজ) পালনের ওপর জোর দেন, যে কারণে এই আন্দোলন ফরায়েজী আন্দোলন নামে পরিচিতি পায়। উদ্দীপকে মি. 'A' যেমন ধর্মীয় কুসংস্কার দূরীকরণে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে তা আন্দোলনে রূপ দেন, একইভাবে হাজী শরীয়তুল্লাহ তৎকালীন শোষিত ও পিছিয়ে পড়া মুসলিম সম্প্রদায়কে ধর্মীয় ও আত্মিক দিক থেকে পুনরুজ্জীবিত করতে এই সংস্কারমূলক আন্দোলন পরিচালনা করেছিলেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মি. 'B'-এর কার্যক্রম নির্দেশ করে তিতুমীর (সৈয়দ মীর নিসার আলী)-এর প্রতিরোধ আন্দোলনকে, যা ব্রিটিশবিরোধী চেতনা বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
তিতুমীর অত্যাচারী হিন্দু জমিদার এবং নীলকরদের শোষণের বিরুদ্ধে সাধারণ কৃষক ও রায়তদের ঐক্যবদ্ধ করে একটি শক্তিশালী লাঠিয়াল বাহিনী গঠন করেন। তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদান এবং ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তিনি নারিকেলবাড়িয়ায় একটি ঐতিহাসিক 'বাঁশের কেল্লা' নির্মাণ করেন। আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বাঁশের কেল্লা থেকে তিনি ও তাঁর অনুসারীরা যে বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন, তা ভারতীয়দের মনে ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ লড়াইয়ের প্রবল সাহস ও জাতীয়তাবাদী প্রেরণা জোগায়। যদিও ১৮৩১ সালে ইংরেজদের কামানের আঘাতে তিনি শহীদ হন, তবুও তাঁর এই আত্মত্যাগ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ ও স্বাধীনতার স্পৃহাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও