সমাজকর্ম ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮

সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব মিজান একজন সমাজ সচেতন ব্যক্তি। তিনি কক্সবাজর জেলার 'Save Rohinga' নামে একটি মানব হিতৈষী সংস্থা গড়ে তোলেন। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে রাখাইন থেকে আগত শরণার্থীদের মানবিক সাহায্য প্রদান। এজন্য তিনি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা থেকে ব্যাপক অর্থ সংগ্রহ করেন।

  1. ক)

    গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা কে?

    (1)
  2. খ)

    UCEP এর লক্ষ্য দল কারা?

    (2)
  3. গ)

    জনাব মিজানের 'Save Rohinga' সংস্থার সাথে তোমার পঠিত বাংলাদেশের কোন সংস্থা প্রতিষ্ঠার পটভূমির সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সংস্থাটির কার্যক্রম বর্তমানে আরো বিস্তৃত- পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা হলেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইউসেপ (UCEP - Underprivileged Children's Educational Programs)-এর লক্ষ্য দল হলো শহরের সুবিধাবঞ্চিত, দরিদ্র, পথশিশু ও ঝরে পড়া কর্মজীবী শিশুরা, যাদের সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জনাব মিজানের 'Save Rohinga' সংস্থার সাথে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম বেসরকারি সংস্থা 'ব্র্যাক' (BRAC - Bangladesh Rural Advancement Committee) প্রতিষ্ঠার পটভূমির সাদৃশ্য রয়েছে।

    ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বহু মানুষ ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে ভারত থেকে ফিরে আসা যুদ্ধবিধ্বস্ত ও সহায়-সম্বলহীন শরণার্থীদের পুনর্বাসন ও মানবিক ত্রাণ সহায়তার উদ্দেশ্যে স্যার ফজলে হাসান আবেদ 'ব্র্যাক' প্রতিষ্ঠা করেন। উদ্দীপকে জনাব মিজানও রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা অসহায় রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্য দেওয়ার উদ্দেশ্যে 'Save Rohinga' সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেন। ফলে যুদ্ধ/সহিংসতাজনিত বাস্তুচ্যুত শরণার্থী জনগোষ্ঠীর জরুরি মানবিক ত্রাণ ও পুনর্বাসনের পটভূমিতে ব্র্যাক ও উদ্দীপকের সংস্থাটির মধ্যে সুস্পষ্ট সাদৃশ্য দেখা যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সংস্থাটি অর্থাৎ ব্র্যাক (BRAC)-এর বর্তমান কার্যক্রম শুধু প্রাথমিক ত্রাণ ও পুনর্বাসনেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ বহুমাত্রিক ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত।

    ব্র্যাকের বিস্তৃত কার্যক্রমের বিশ্লেষণ নিম্নরূপ:
    ১. দারিদ্র্য বিমোচন ও ক্ষুদ্রঋণ: ব্র্যাক দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি পরিচালনা করছে, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করেছে।
    ২. শিক্ষা কর্মসূচি: সুবিধাবঞ্চিত ও ঝরে পড়া শিশুদের জন্য ব্র্যাকের আনন্দ স্কুল ও উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা সারা দেশে সমাদৃত হয়েছে।
    ৩. স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি: মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবিকা নিয়োগের মাধ্যমে মা ও শিশু স্বাস্থ্য রক্ষা, যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ, ওরাল স্যালাইন বিতরণ ও স্যানিটেশনে ব্র্যাক বৈপ্লবিক অবদান রেখেছে।
    ৪. নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক অধিকার: পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ, আইনি সহায়তা প্রদান এবং নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সংস্থাটি অত্যন্ত সক্রিয়।
    ৫. আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল: বর্তমানে ব্র্যাক কেবল বাংলাদেশে নয়, এশিয়া ও আফ্রিকার বহু দেশে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় রূপান্তরিত হয়েছে।

    অতএব, একটি ছোট্ট শরণার্থী পুনর্বাসন প্রকল্প হিসেবে শুরু হলেও বর্তমানে ব্র্যাক মানবকল্যাণ ও জাতীয় উন্নয়নের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে একটি বহুমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে তার কার্যক্রমকে বিস্তৃত করেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন