বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
মন্বন্তরের সময় নিঃসন্তান হরিদাসী আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে ধানক্ষেতের পাশে পরিত্যক্ত একটি শিশু দেখতে পায়। পরম স্নেহে অসহায় শিশুকে কোলে তুলে নেয় সে এবং মাতৃত্বের মমতায় তাকে বড় করে তোলে। কিন্তু বাদ সাধে সমাজ। তাদের মতে হরিদাসীর কুড়িয়ে পাওয়া ছেলেটি মুসলমানের ছেলে, তাকে কাছে রাখলে ব্রাহ্মণ সমাজের অশুচি হবে। কিন্তু হরিদাসী এত কিছু ভাবতে চায় না। তার কাছে মাতৃত্বের দাবিদারই বড় বিষয়।
- ক)(1)
বুড়িকে মা বলে ডাকে কে?
- খ)(2)
চিনবে না। আমি অনেকদিন গাঁয়ে আসিনি"- উক্তিটি কে, কেন করেছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের হরিদাসীর মধ্যে 'আহ্বান' গল্পের কোন চরিত্রের ছায়াপাত লক্ষণীয় ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
প্রেক্ষাপট আলাদা হলেও বুড়ি ও হরিদাসীর মধ্যে প্রাধান্য পেয়েছে মাতৃত্বের হাহাকার- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বুড়িকে গোপাল (গল্পের কথক) 'মা' বলে ডাকে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি গল্পের কথক গোপাল করেছে।
গোপাল দীর্ঘদিন ধরে নিজের পৈতৃক গ্রাম ছেড়ে শহরে বাস করছিল। গ্রামে তার কোনো ঘরবাড়ি বা স্থায়ী টান ছিল না, তাই অনেক বছর পর গ্রামে এসে চকের পাড়ে বুড়ির মুখোমুখি হলে বুড়ি তাকে চিনতে পারবে কি না—সেই সংশয় থেকেই গোপাল সহজভাবে জানিয়েছিল যে, দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে বুড়ি তাকে চিনতে না-ও পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের হরিদাসীর মধ্যে 'আহ্বান' গল্পের 'বুড়ি' চরিত্রের ছায়াপাত লক্ষণীয়।
'আহ্বান' গল্পে বৃদ্ধা বুড়ির অন্তরে ছিল এক গভীর ও অকৃত্রিম বাৎসল্যস্নেহ। রক্ত বা ধর্মের সম্পর্ক না থাকলেও সে ভিন্ন ধর্মের গোপালকে নিজের ছেলের মতো আপন করে নেয়। শত সামাজিক দূরত্ব ও বৈষম্যের ঊর্ধ্বে উঠে স্নেহের টানে সে বারবার গোপালের কাছে ছুটে এসেছে, আম-শসা নিয়ে হাজির হয়েছে এবং গোপালকে মমতায় জড়িয়ে ধরেছে।
উদ্দীপকের হরিদাসীও একইভাবে নিঃস্বার্থ মাতৃত্বের প্রতীক। মন্বন্তরের সময় কুড়িয়ে পাওয়া মুসলিম শিশুটিকে সে পরম স্নেহে নিজের বুকে তুলে নেয়। সমাজ যেখানে ধর্মের দোহাই দিয়ে বাধা সৃষ্টি করেছে, সেখানে হরিদাসী ধর্মের সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে নিজের মাতৃত্বকে স্থান দিয়েছে। ফলে 'আহ্বান' গল্পের জাত-পাত ও সংস্কারের ঊর্ধ্বে স্থান পাওয়া বুড়ির বাৎসল্যমমতার সঙ্গে হরিদাসীর গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রেক্ষাপট আলাদা হলেও বুড়ি ও হরিদাসীর মধ্যে প্রাধান্য পেয়েছে মাতৃত্বের চিরন্তন হাহাকার ও স্নেহ—মন্তব্যটি যথার্থ।
'আহ্বান' গল্পে বৃদ্ধা বুড়ি চরম নিঃসঙ্গ ও দারিদ্র্যপীড়িত জীবনের প্রান্তে এসে গোপালকে খুঁজে পেয়েছিল অপত্যস্নেহের এক পরম অবলম্বন হিসেবে। রক্ত কিংবা ধর্মীয় কোনো সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও তার হৃদয়ের ব্যাকুলতা ও মাতৃত্বের প্রকাশ ঘটেছিল গোপালকে ঘিরে। জীবনের শেষ মুহূর্তেও বুড়ি গোপালের আসার পথ চেয়ে ছিল এবং গোপালকে নিজের ছেলের মতো বিশ্বাস করে কাফনের কাপড় কেনার দায়িত্বও দিয়েছিল।
অন্যদিকে উদ্দীপকে হরিদাসী মন্বন্তরের সময় পথের ধারে পাওয়া এক অনাথ মুসলিম শিশুকে নিজের বুকের ভালোবাসা দিয়ে সন্তানের মতো মানুষ করে তোলে। সমাজ তাদের ধর্মীয় গোঁড়ামির বেড়াজালে আটকে রাখতে চাইলেও হরিদাসীর কাছে সমাজের নিয়মের চেয়ে মাতৃত্বের বন্ধনই বড় হয়ে দেখা দেয়।
তুলনা করলে দেখা যায়, বুড়ির ক্ষেত্রে মাতৃত্বের প্রকাশ ঘটেছে এক বৃদ্ধ বয়সের নিঃসঙ্গতার মাঝে অপরিচিত গোপালকে ঘিরে, আর হরিদাসীর ক্ষেত্রে প্রকাশ পেয়েছে এক অনাথ শিশুকে লালন-পালনের দৃঢ় সংকল্পের মধ্য দিয়ে। স্থান, কাল ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উভয় চরিত্রেই সংস্কার ও ধর্মের সংকীর্ণতাকে অতিক্রম করে সন্তানের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও মাতৃত্বের এক গভীর আকুলতা প্রাধান্য পেয়েছে। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সম্পূর্ণ সত্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও