উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন
মানিক এন্টারপ্রাইজ-এর উৎপাদন সম্পর্কিত তথ্য নিম্নরূপ:

- ক)(1)
উৎপাদন মাত্রা কী?
- খ)(2)
"ক্ষুদ্র এন্টারপ্রাইজে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়"- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
মানিক এন্টারপ্রাইজ-এর কাম্য উৎপাদন মাত্রা কত? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"মাত্রাজনিত ব্যয় সংকোচ স্তর অতিক্রম করে উৎপাদন বাড়ালে গড় ব্যয় বাড়ে"- উদ্দীপকের আলোকে মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কী পরিমাণ উৎপাদন উপকরণ ব্যবহার করে কী পরিমাণ পণ্য বা সেবা উৎপাদন করে, তার আয়তন বা পরিধিকে উৎপাদন মাত্রা (Scale of Production) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ক্ষুদ্র এন্টারপ্রাইজে মালিক নিজেই সাধারণত প্রত্যক্ষভাবে ব্যবসা পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করেন। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা বা আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা থাকে না।
যেহেতু নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের জন্য কোনো পরিচালনা পর্ষদ বা দীর্ঘ সাংগঠনিক স্তরের অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না, তাই পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী মালিক একাই তাৎক্ষণিকভাবে ও দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে মানিক এন্টারপ্রাইজ-এর কাম্য উৎপাদন মাত্রা হলো ১৫,০০০ একক।
যে উৎপাদন মাত্রায় কোনো প্রতিষ্ঠানের গড় উৎপাদন ব্যয় সর্বনিম্ন হয়, তাকে কাম্য উৎপাদন মাত্রা বা মিতব্যয়ী উৎপাদন মাত্রা (Optimum Scale of Production) বলে। এ স্তরে প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ উৎপাদন দক্ষতা ও মিতব্যয়িতা অর্জন করে।
উদ্দীপকের চিত্রে X-অক্ষে উৎপাদনের পরিমাণ (একক) এবং Y-অক্ষে একক প্রতি গড় ব্যয় (টাকায়) দেখানো হয়েছে। চিত্রানুযায়ী, উৎপাদন যখন ৫,০০০ একক তখন গড় ব্যয় ১০ টাকা; উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে ১০,০০০ একক হলে গড় ব্যয় কমে হয় ৬ টাকা। উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পেয়ে ১৫,০০০ এককে পৌঁছালে দীর্ঘমেয়াদি গড় ব্যয় সর্বনিম্ন ৪ টাকায় নেমে আসে, যা চিত্রে 'মিতব্যয়ী উৎপাদনের মাত্রা' হিসেবে নির্দেশিত হয়েছে। যেহেতু ১৫,০০০ একক উৎপাদনে প্রতিষ্ঠানের একক প্রতি গড় ব্যয় সর্বনিম্ন, তাই মানিক এন্টারপ্রাইজ-এর কাম্য উৎপাদন মাত্রা ১৫,০০০ একক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে "মাত্রাজনিত ব্যয় সংকোচ স্তর অতিক্রম করে উৎপাদন বাড়ালে গড় ব্যয় বাড়ে"- বক্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধির প্রাথমিক পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিভিন্ন সুবিধার কারণে একক প্রতি উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পায়, যাকে মাত্রাজনিত ব্যয় সংকোচ বা মিতব্যয়িতা (Economies of Scale) বলে। কিন্তু এই অনুকূল স্তর বা কাম্য মাত্রা অতিক্রম করার পরও যদি উৎপাদন বৃদ্ধি করা অব্যাহত থাকে, তবে ব্যবস্থাপনাগত জটিলতা, সমন্বয়ের অভাব ও অদক্ষতার সৃষ্টি হয়, যার ফলে গড় ব্যয় পুনরায় বাড়তে থাকে। একে মাত্রাজনিত ব্যয় বৃদ্ধি বা অমিতব্যয়িতা (Diseconomies of Scale) বলে।
উদ্দীপকের চিত্রে দেখা যায়, দীর্ঘমেয়াদি গড় ব্যয় রেখাটি 'U' আকৃতির। উৎপাদন ৫,০০০ একক থেকে বাড়িয়ে ১০,০০০ একক এবং পরবর্তীতে ১৫,০০০ একক পর্যন্ত উন্নীত করার সময় গড় ব্যয় যথাক্রমে ১০ টাকা থেকে কমে ৬ টাকা এবং অবশেষে সর্বনিম্ন ৪ টাকায় পৌঁছায়। অর্থাৎ ১৫,০০০ একক পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি মাত্রাজনিত ব্যয় সংকোচের সুবিধা ভোগ করে।
কিন্তু চিত্রে সুস্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে যে, ১৫,০০০ এককের পর (মিতব্যয়ী উৎপাদনের মাত্রা অতিক্রমের পর) দীর্ঘমেয়াদি গড় ব্যয় রেখাটি ঊর্ধ্বগামী হয়েছে। অর্থাৎ কাম্য সীমার অতিরিক্ত উৎপাদন বাড়ানোর ফলে পরিচালনাগত জটিলতা ও সম্পদের অপচয় ঘটে, যার ফলে গড় ব্যয় ৪ টাকার চেয়ে বৃদ্ধি পায়।
সুতরাং উদ্দীপকের বিশ্লেষণ থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, মাত্রাজনিত ব্যয় সংকোচ স্তর অতিক্রম করে অতিরিক্ত উৎপাদন বাড়ালে দীর্ঘমেয়াদে একক প্রতি গড় ব্যয় বৃদ্ধি পায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও