সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৫
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
'ক' এমন একটি গ্রামে বাস করে যার অধিকাংশ মানুষ অলৌকিকতায় বিশ্বাস করে। তারা মনে করে সুখ-দুঃখ, উন্নতি-অবনতি সবকিছুই কপালের লিখন
- ক)(1)
ইবনে খালদুন রচিত বিখ্যাত গ্রন্থটির নাম কী?
- খ)(2)
গোষ্ঠী সংহতি বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' এর গ্রামটি অগাস্ট কোঁতের সমাজ বিকাশের কোন স্তরে অবস্থান করছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত স্তরে অবস্থানরত সমাজের প্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়-বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইবনে খালদুন রচিত বিখ্যাত গ্রন্থটির নাম 'আল-মুকাদ্দিমা' (Al-Muqaddimah বা Kitab al-Ibar এর ভূমিকা)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গোষ্ঠী সংহতি বলতে একটি সামাজিক গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যকার পারস্পরিক ঐক্য, গভীর একাত্মতা এবং পারস্পরিক নির্ভরশীলতার অনুভূতিকে বোঝায়। এটি কোনো সমাজের সদস্যদের মধ্যে সাধারণ মূল্যবোধ, বিশ্বাস ও অভিন্ন স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে একতাবদ্ধ থাকার প্রবণতা নির্দেশ করে, যার ফলে ব্যক্তি নিজের স্বার্থের চেয়ে গোষ্ঠীর কল্যাণকে প্রাধান্য দেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' এর গ্রামটি ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী অগাস্ট কোঁতের মানবজ্ঞানের বা সমাজ বিকাশের তিন স্তরের প্রথম স্তর অর্থাৎ 'ধর্মতাত্ত্বিক স্তর' (Theological Stage)-এ অবস্থান করছে।
অগাস্ট কোঁতের ত্রিস্তর সূত্র অনুসারে মানবচিন্তা ও সমাজের বিবর্তন তিনটি স্তরের মাধ্যমে ঘটে—ধর্মতাত্ত্বিক স্তর, অধিবিদ্যাগত স্তর এবং দৃষ্টবাদী বা বৈজ্ঞানিক স্তর। ধর্মতাত্ত্বিক স্তরে মানুষ জগতের সকল প্রাকৃতিক ও সামাজিক ঘটনাকে কোনো অলৌকিক শক্তি, দেব-দেবী বা ঈশ্বরের ইচ্ছা ও কার্যক্রম দ্বারা ব্যাখ্যা করে।
উদ্দীপকের 'ক' এর গ্রামের অধিকাংশ মানুষ অলৌকিকতায় বিশ্বাস করে এবং তারা মনে করে সুখ-দুঃখ, উন্নতি-অবনতি সবই কপালের লিখন বা অলৌকিক শক্তির ফল। বাস্তব কারণ বা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার পরিবর্তে সবকিছুর পেছনে অতিপ্রাকৃতিক কারণ আরোপ করার এই বৈশিষ্ট্যটি অগাস্ট কোঁতের সমাজ বিকাশের ধর্মতাত্ত্বিক স্তরের সাথে হুবহু মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অগাস্ট কোঁতের উল্লিখিত ধর্মতাত্ত্বিক স্তরে অবস্থানরত সমাজের প্রগতি ও আধুনিকায়ন ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ।
ধর্মতাত্ত্বিক স্তরে সমাজের মানুষ যুক্তি, বিজ্ঞান ও কার্যকারণ সম্পর্কের ওপর নির্ভর না করে অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার এবং অদৃষ্টবাদের ওপর ভরসা করে। এই স্তরের মানুষের চিন্তাধারা পরিবর্তনের প্রতি ইতিবাচক থাকে না; বরং তারা ঐতিহ্য ও অলৌকিক ধারণাকে পরম সত্য বলে গ্রহণ করে।
উদ্দীপকের গ্রামে দেখা যায় মানুষ সুখ-দুঃখ ও উন্নতিকে 'কপালের লিখন' বা ভাগ্যের বিষয় মনে করে। এই ধরনের অদৃষ্টবাদী মানসিকতা মানুষকে নিষ্ক্রিয় ও উদ্যোগহীন করে তোলে। মানুষ যখন মনে করে তাদের চেষ্টা দিয়ে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়, তখন তারা অর্থনৈতিক উন্নয়ন, উদ্ভাবন বা প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের দিকে অগ্রসর হয় না।
সামাজিক প্রগতির মূল ভিত্তি হলো বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তা, যুক্তিভিত্তিক সিদ্ধান্ত এবং বৈষয়িক উন্নয়নমূলক প্রচেষ্টা। ধর্মতাত্ত্বিক সমাজে যুক্তি বা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাকে ধর্মীয় রীতিনীতির পরিপন্থী মনে করে বর্জন করা হয়, যার ফলে সমাজে স্থবিরতা নেমে আসে। সুতরাং, অলৌকিকতা ও ভাগ্যনির্ভর চিন্তার কারণে উক্ত স্তরে অবস্থানরত সমাজের সার্বিক প্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও