সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
অঞ্চলটিতে ধান, পাটের মতো অর্থকরী ফসল উৎপন্ন হয়। কিন্তু এসব থেকে আয় চলে যায় শাসকদের অঞ্চলে। বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয় খুবই কম। কোনো কলকারখানা এই অঞ্চলে তৈরি করা হয় 'না। এসবের প্রতিবাদ করেন একজন রাজনৈতিক মানবিক নেতা। মানুষকে সংঘবদ্ধ করেন, প্রতিবাদ করেন, জেল খাটেন। অবশেষে ডাক দেন স্বাধীনতার।
- ক)(1)
বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৬৯ সাল গুরুত্বপূর্ণ কেন?
- খ)(2)
বাঙালি জাতীয়তাবাদ ধারণাটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত বৈষম্যের ধরনটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লেখিত নেতা আর আমাদের বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা এক ও অভিন্ন- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৬৯ সালে ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পতন ঘটে এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ রাজবন্দিরা মুক্তি পান, তাই বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৬৯ সাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাঙালি জাতীয়তাবাদ হলো এমন একটি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চেতনা, যা অভিন্ন ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে বাঙালি জনগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ করেছে।
পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠীর শোষণ, বঞ্চনা ও বাঙালি সংস্কৃতির ওপর আঘাতের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এ ধারণার বিকাশ ঘটে। এটি ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিয়ে একটি স্বাধীন জাতিরাষ্ট্র (বাংলাদেশ) প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে পাকিস্তান আমলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর চরম অর্থনৈতিক বৈষম্য ও শোষণের দিকটি চিত্রিত হয়েছে।
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে উৎপাদিত প্রধান অর্থকরী ফসল পাট ও চা রপ্তানি করে পাকিস্তানের অধিকাংশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতো। কিন্তু এই রাজস্বের সিংহভাগ ব্যয় হতো পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়ন এবং প্রতিরক্ষা খাতে। কেন্দ্রীয় বাজেটে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত নগণ্য বরাদ্দ দেওয়া হতো এবং এখানে কোনো উল্লেখযোগ্য ভারী শিল্প বা কলকারখানা গড়ে তোলা হয়নি। উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে—ধান ও পাটের মতো ফসলের রাজস্ব শাসকদের অঞ্চলে চলে যাওয়া, বাজেটে নামমাত্র বরাদ্দ এবং শিল্প-কারখানা না হওয়া মূলত পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক ধাঁচের সেই আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বৈষম্যকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত রাজনৈতিক নেতার ভূমিকা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা এক ও অভিন্ন।
পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পূর্ব বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ে বঙ্গবন্ধু অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি পেশ এবং ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তিনি বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যের প্রতিবাদ করায় বঙ্গবন্ধুকে জীবনের বহু বছর কারাগারে কাটাতে হয়েছিল। সবশেষে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তিনি ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার ডাক দেন এবং ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
উদ্দীপকের নেতাও ঠিক একইভাবে শোষিত অঞ্চলের মানুষের অধিকার আদায়ে প্রতিবাদ গড়ে তোলেন, জনগণকে সংঘবদ্ধ করেন, জেল খাটেন এবং চূড়ান্তভাবে স্বাধীনতার ডাক দেন। বঙ্গবন্ধুর সামগ্রিক রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ এবং নেতৃত্বের প্রতিফলনই উদ্দীপকের নেতার কর্মকাণ্ডে ফুটে উঠেছে। সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত নেতা এবং আমাদের বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা মূলত এক ও অভিন্ন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও