অর্থনীতি ২য় পত্র • উন্নয়ন ও পরিকল্পনা • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের চার্টটি লক্ষ কর এবং নিম্নোক্ত প্রশ্নসমূহের উত্তর দাও :
- ক)(1)
SDG-এর পূর্ণরূপ কী?
- খ)(2)
বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা (ADP) ধারণাটি ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
চার্টে উল্লিখিত 'ক' এবং 'গ' এর উন্নয়ন পরিকল্পনার পার্থক্য চিহ্নিত কর।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের মত দেশে উন্নয়নের জন্য 'গ' উন্নয়ন পরিকল্পনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
SDG-এর পূর্ণরূপ হলো Sustainable Development Goals (টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা (Annual Development Programme বা ADP) হলো সরকারের এক বছর মেয়াদি উন্নয়ন বাজেটের একটি রূপরেখা।
সাধারণত পঞ্চবার্ষিক বা মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার লক্ষ্যমাত্রাসমূহকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রতি অর্থবছরে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দিয়ে যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও প্রকল্পগুলো গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়, তাকে বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বলে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন খাতের (যেমন: যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ইত্যাদি) বার্ষিক উন্নয়ন ব্যয় নির্ধারিত ও বাস্তবায়িত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চার্টে উল্লিখিত 'ক' হলো স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা (১ বছর মেয়াদি) এবং 'গ' হলো দীর্ঘমেয়াদি বা প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (১০—২৫ বছর মেয়াদি)।
এদের মধ্যকার প্রধান পার্থক্যগুলো নিম্নরূপ:
১. মেয়াদকাল: 'ক' বা স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা সাধারণত ১ বছর মেয়াদের জন্য প্রণয়ন করা হয়। অন্যদিকে 'গ' বা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ১০ থেকে ২০ বা ২৫ বছর মেয়াদের জন্য গ্রহণ করা হয়।
২. উদ্দেশ্যের পরিধি: স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনায় তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধান বা বার্ষিক উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দিকে নজর দেওয়া হয়। পক্ষান্তরে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক রূপান্তর, কাঠামোগত পরিবর্তন ও দূরবর্তী জাতীয় লক্ষ্য অর্জনের রূপরেখা থাকে।
৩. নমনীয়তা: স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা তুলনামূলকভাবে সুনির্দিষ্ট এবং দ্রুত পরিবর্তনযোগ্য। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা একটি বৃহত্তর দিকনির্দেশনামূলক দলিল, যা সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন মধ্যমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হয়।
৪. উদাহরণ: বাংলাদেশে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP) হলো স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার উদাহরণ; অপরদিকে ২০ বছর মেয়াদি 'রূপকল্প ২০২১' বা 'রূপকল্প ২০৪১' (প্রেক্ষিত পরিকল্পনা) হলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার উদাহরণ। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চার্টে 'গ' দ্বারা 'দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা' বা 'প্রেক্ষিত পরিকল্পনা' (Perspective Plan)-কে নির্দেশ করা হয়েছে, যার মেয়াদকাল ১০—২৫ বছর। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উত্তরণের জন্য এই পরিকল্পনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বাংলাদেশের মতো দেশে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূরীকরণ: দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য থাকে টেকসই পদ্ধতিতে চরম দারিদ্র্য দূর করা এবং সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করে আয়বৈষম্য কমিয়ে আনা।
২. উচ্চ ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন: স্বল্পমেয়াদে সাময়িক অগ্রগতি হলেও দীর্ঘমেয়াদি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য না থাকলে উচ্চ জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিক রাখা সম্ভব নয়। এটি শিল্পায়ন ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করে।
৩. অবকাঠামোগত উন্নয়ন: মেগা প্রকল্প, বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিরাপত্তা, উন্নত যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দীর্ঘ সময় ও বিপুল বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়, যা কেবল দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমেই সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।
৪. মানবসম্পদ উন্নয়ন: দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণ করতে হয়।
৫. জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা ও টেকসই উন্নয়ন: জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি হ্রাস এবং পরিবেশ রক্ষা করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অন্যতম উদ্দেশ্য।
৬. উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশের মর্যাদায় পৌঁছানো: অনুন্নত বা উন্নয়নশীল স্তর থেকে উচ্চ-মধ্যম বা উন্নত দেশে রূপান্তরের (যেমন বাংলাদেশের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১) দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা প্রদান করে।
সুতরাং, বাংলাদেশের মতো দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির দেশে কাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ ও ভবিষ্যৎ রূপকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও