সমাজকর্ম ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮

সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন

'ক' নামক রাষ্ট্রটি একটি নব্য স্বাধীন রাষ্ট্র। দেশটি পুনর্গঠনের কাজে হাত নিয়ে সরকারকে বেশ কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে হলো। দেশটিতে জনবসতির ঘনত্ব অন্যান্য রাষ্ট্রের তুলনায় অনেক বেশি। সাধারণ চাহিদা তো দূরের কথা, মৌল মানবিক চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা। করাই দেশটির সরকারের পক্ষে দুরূহ হয়ে উঠলো।

  1. ক)

    বাংলাদেশে বিদ্যমান যেকোনো একটি সামাজিক নীতির নাম উল্লেখ করো।

    (1)
  2. খ)

    পরিকল্পনা বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    'ক' নামক রাষ্ট্রটিতে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সরকার সর্বাগ্রে যে সামাজিক নীতি গ্রহণ করতে পারে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত নীতির বাস্তবায়ন, না ঘটলে 'ক' নামক রাষ্ট্রটিতে যে ধরনের বিরূপ প্রভাব পরিলক্ষিত হতে পারে তা নিরূপণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশে বিদ্যমান একটি সামাজিক নীতি হলো 'জাতীয় জনসংখ্যা নীতি' (অথবা 'জাতীয় শিক্ষানীতি' / 'জাতীয় শিশুনীতি')।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরিকল্পনা হলো ভবিষ্যতে কোনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য কী করা হবে, কীভাবে করা হবে, কখন করা হবে এবং কার দ্বারা সম্পন্ন হবে—তা পূর্বেই সুচিন্তিত ও সুবিন্যস্তভাবে নির্ধারণ করার প্রক্রিয়া।
    এটি ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বা নীলনকশা (blueprint), যা সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্ধারিত উদ্দেশ্য পূরণে সহায়তা করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'ক' নামক রাষ্ট্রটিতে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সরকার সর্বাগ্রে যে সামাজিক নীতি গ্রহণ করতে পারে তা হলো 'জনসংখ্যা নীতি' (Population Policy)।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, নবগঠিত রাষ্ট্রটিতে জনবসতির ঘনত্ব অন্যান্য রাষ্ট্রের তুলনায় অনেক বেশি। অত্যধিক জনসংখ্যার চাপের কারণেই সাধারণ চাহিদা এবং অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণ করা সরকারের পক্ষে দুরূহ হয়ে উঠেছে।

    সামাজিক নীতি হলো সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ ও সমস্যা নিরসনে গৃহীত দিকনির্দেশনা। একটি দেশের জনসংখ্যা যদি তার ভূখণ্ড ও সম্পদের তুলনায় অতিরিক্ত হয়, তবে সেখানে সম্পদ বণ্টন এবং উন্নয়ন কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হয়। জনসংখ্যা নীতির মাধ্যমে জন্মহার নিয়ন্ত্রণ, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম জোরদারকরণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাড়তি জনগোষ্ঠীকে মানবসম্পদে রূপান্তরের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নেওয়া যায়। তাই 'ক' রাষ্ট্রের মৌল মানবিক চাহিদার সংকট ও ঘনবসতি সমস্যার সমাধানে সর্বাগ্রে একটি কার্যকর 'জাতীয় জনসংখ্যা নীতি' প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা আবশ্যক।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জনসংখ্যা নীতির সঠিক ও সময়োপযোগী বাস্তবায়ন না ঘটলে 'ক' নামক রাষ্ট্রটিতে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে বহুমুখী সুদূরপ্রসারী বিরূপ প্রভাব পরিলক্ষিত হতে পারে। নিচে তা নিরূপণ করা হলো:

    ১. মৌল মানবিক চাহিদার তীব্র সংকট: জনসংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এর ফলে বস্তি সমস্যা, অপুষ্টি ও গৃহহীন মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাবে।
    ২. দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বৃদ্ধি: অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির তুলনায় জনসংখ্যা বেশি বাড়লে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে। ফলে বেকারত্ব বাড়বে এবং জনগণের বড় একটি অংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাবে।
    ৩. সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও অপরাধ প্রবণতা: জীবনযাত্রার মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে না পেরে সমাজে চুরি, ছিনতাই, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়বে।
    ৪. স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মানের অবনতি: ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে সুপেয় পানি, পয়ঃনিষ্কাশন এবং স্বাস্থ্যসেবার অভাবে বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধি ও মহামারির প্রাদুর্ভাব দেখা দেবে, যা গড় আয়ু ও জীবনযাত্রার মান হ্রাস করবে।
    ৫. পরিবেশগত বিপর্যয়: অতিরিক্ত মানুষের চাহিদা মেটাতে বন উজাড়, জলাশয় ভরাট ও প্রাকৃতিক সম্পদের অতিব্যবহারের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে নষ্ট হবে।

    সুতরাং, উপযুক্ত জনসংখ্যা নীতির বাস্তবায়ন না ঘটলে 'ক' রাষ্ট্রটি উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের পথে ব্যর্থ হয়ে একটি স্থবির, অস্থিতিশীল ও চরম সংকটাপন্ন রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন