অর্থনীতি ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
রমিজ মিয়া একজন সাধারণ অশিক্ষিত কৃষক। তিনি তার নিজের জমি সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করেন। এতে বেশি ফসল পান না। টেলিভিশনে তিনি কৃষির ওপর একটি প্রতিবেদন দেখে জানতে পারেন বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের উদ্ভাবিত কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষি উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বেড়েছে। এতে খাদ্য ঘাটতি সমস্যার সমাধান হয়েছে।
- ক)(1)
কৃষিজোত কী?
- খ)(2)
'বাংলাদেশের কৃষকরা প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রযুক্তি চিহ্নিত করো এবং বাংলাদেশের কৃষিতে উৎপাদনের ওপর তার প্রভাব আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশে উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রযুক্তি সম্প্রসারণের পথে বাধাসমূহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একজন কৃষক বা কৃষক পরিবারের অধীনে থাকা মোট চাষযোগ্য জমির পরিমাণকে কৃষিজোত বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের অধিকাংশ কৃষক নিরক্ষর হওয়ায় তারা জটিল প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ প্রক্রিয়ার সাথে খাপ খাওয়াতে পারে না। তাছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জামানত ও জমির বৈধ মালিকানার নথিপত্র সাধারণ কৃষকদের থাকে না। ঋণ মঞ্জুরে দীর্ঘসূত্রতা ও দুর্নীতির কারণে কৃষকরা প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ থেকে বঞ্চিত হয়ে স্থানীয় মহাজনদের চড়া সুদের ঋণের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রযুক্তিটি হলো 'আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি' (বা উচ্চফলনশীল বীজ/উফশী প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকীকরণ)।
বাংলাদেশের কৃষিতে উৎপাদনের ওপর এর প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী:
১. উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: উফশী ও হাইব্রিড জাতের বীজ, সুষম সার এবং সেচ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে একরপ্রতি ফসলের উৎপাদন বহুগুণ বেড়েছে।
২. খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন: এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলেই বাংলাদেশের বাড়তি জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণ করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব হয়েছে।
৩. নিবিড় চাষাবাদ: আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে একই জমিতে বছরে একাধিকবার ফসল উৎপাদন (দ্বি-ফসলি বা ত্রি-ফসলি) করা সম্ভব হচ্ছে, ফলে মোট কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশে উদ্দীপকে উল্লিখিত আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি দ্রুত সম্প্রসারণের পথে বেশ কিছু আর্থ-সামাজিক ও কাঠামোগত বাধা রয়েছে। বাধাগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. কৃষকদের নিরক্ষরতা ও সচেতনতার অভাব: অধিকাংশ কৃষক সনাতন চিন্তাধারায় অভ্যস্ত এবং আধুনিক যন্ত্র বা উপকরণের ব্যবহার সম্পর্কে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নয়।
২. কৃষিজমির খণ্ডবিখণ্ডতা: উত্তরাধিকার আইনের কারণে জমি ছোট ছোট খণ্ডে বিভক্ত, যা আধুনিক বৃহদায়তন কৃষি যন্ত্রপাতি (যেমন- ট্রাক্টর, কম্বাইন হারভেস্টার) ব্যবহারের জন্য অনুপযোগী।
৩. মূলধনের সংকট: আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত বীজ-সারের ব্যয়ভার বহন করার মতো পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য প্রান্তিক কৃষকদের নেই।
৪. ঋণ সুবিধার অপ্রতুলতা: সহজ শর্তে সময়মতো কৃষকদের প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ পাওয়ার সুযোগ কম।
৫. জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট: আধুনিক সেচযন্ত্র ও কৃষি যন্ত্রপাতি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের অভাব রয়েছে।সুতরাং, উপযুক্ত কৃষি সম্প্রসারণ নীতি, প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ এবং জমির সমন্বিত ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির বিস্তার পুরোপুরি সফল হতে পারে না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও