অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। ইতোমধ্যেই দেশটি সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে। দেশে বৃহৎ শিল্প কারখানা, পাওয়ার প্লান্ট, পদ্মা সেতুসহ বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণ হচ্ছে। এসব কার্য সম্পাদনে সরকারের রাজস্ব তহবিল থেকে অর্থায়ন পুরোপুরি সম্ভব নয়। তাই অর্থায়নের জন্য প্রায়ই বিদেশি সাহায্যের উপর নির্ভর করতে হয়। এসব বৈদেশিক সাহায্যনির্ভর অর্থায়ন হ্রাস করতে বর্তমান সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
- ক)(1)
শেয়ার কী?
- খ)(2)
বন্ড বিনিয়োগ ঝুঁকি নেই কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে অর্থায়নের কোন উৎসের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত অবকাঠামোগুলোর উন্নয়নে সাহায্যের পরিবর্তে সরকার কোন কোন উৎস হতে অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে পারে? আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যৌথ মূলধনি কোম্পানির মোট মূলধনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সমান অংশকে শেয়ার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বন্ড হলো একটি দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দলিল, যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান বা সরকার জনসাধারণের কাছ থেকে নির্দিষ্ট সুদের শর্তে ঋণ গ্রহণ করে।
বন্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে নির্দিষ্ট হারে নিয়মিত সুদ প্রদান করা হয় এবং মেয়াদপূর্তিতে মূল অর্থ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে। বিশেষ করে সরকারি বন্ডের ক্ষেত্রে ডিফল্ট বা অর্থ অনাদায়ী হওয়ার কোনো আশঙ্কা থাকে না এবং কোম্পানির মুনাফা হোক বা লোকসান হোক, বন্ডধারীদের প্রাপ্য সুদ পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক। ফলে সাধারণ শেয়ারের তুলনায় বন্ড বিনিয়োগ ঝুঁকিমুক্ত বা অত্যন্ত কম ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সরকারি অর্থায়নের 'বহিঃস্থ উৎস' বা 'বৈদেশিক উৎস'-এর কথা বলা হয়েছে।
সরকার তার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক—এই দুই উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে। যখন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব ও অন্যান্য উৎস থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থান সম্ভব হয় না, তখন সরকার বিদেশি সাহায্য, অনুদান ও ঋণের ওপর নির্ভর করে। একে বহিঃস্থ বা বৈদেশিক অর্থায়ন বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশে বৃহৎ শিল্প কারখানা, পাওয়ার প্লান্ট, পদ্মা সেতুসহ বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণে রাজস্ব তহবিল থেকে পুরোপুরি অর্থায়ন সম্ভব হয় না। ফলে অর্থায়নের জন্য প্রায়ই 'বিদেশি সাহায্য'-এর ওপর নির্ভর করতে হয়। এই বিদেশি সাহায্য (যেমন—দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান) সরকারি অর্থায়নের বহিঃস্থ উৎসের অন্তর্ভুক্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত অবকাঠামোগুলোর উন্নয়নে বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভরতা হ্রাস করে সরকার বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ উৎস হতে অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে পারে। নিচে এ জাতীয় উৎসসমূহ আলোচনা করা হলো:
১. কর রাজস্ব বৃদ্ধি: প্রত্যক্ষ কর (আয়কর, কর্পোরেট কর) এবং পরোক্ষ করের (মূসক, শুল্ক) আওতা বৃদ্ধি করে এবং কর ফাঁকি রোধ করে সরকার অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয় বহুগুণে বৃদ্ধি করতে পারে।
২. সরকারি বন্ড ও ট্রেজারি বিল ইস্যু: সরকার অবকাঠামো বিনির্মাণে জনগণের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের অংশ হিসেবে অবকাঠামো বন্ড (Infrastructure Bond), ট্রেজারি বন্ড ইত্যাদি বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করতে পারে।
৩. জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিক্রয়: বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র বিক্রয়ের মাধ্যমে সরকার সাধারণ মানুষের অলস সঞ্চয় সংগ্রহ করে উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার করতে পারে।
৪. কর-বহির্ভূত রাজস্ব বাড়ানো: সরকারি বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা ও প্রাকৃতিক সম্পদ হতে অর্জিত মুনাফা ও লভ্যাংশ বৃদ্ধি করে তহবিল সংগ্রহ করা যায়।
৫. সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (PPP): বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেল গ্রহণ করে দেশীয় বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকে কাজে লাগানো যায়।
৬. প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) ও প্রবাসীদের জন্য বন্ড: প্রবাসীদের জন্য বিশেষ উন্নয়ন বন্ড (যেমন- ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড) চালুর মাধ্যমে রেমিট্যান্সের অর্থ বড় প্রকল্পে অর্থায়ন করা সম্ভব।
সুতরাং, উপযুক্ত আর্থিক সংস্কার ও অভ্যন্তরীণ সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে সরকার বিদেশি সাহায্যের বিকল্প হিসেবে স্বনির্ভর অর্থায়ন নিশ্চিত করতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও