ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
রংপুরের পঞ্চাশ জন কলাচাষী কলার নায্যমূল্য প্রাপ্তির জন্য একটি সংগঠন গঠন করে। তারা প্রতি সপ্তাহে ট্রাকে করে ঢাকায় পাইকারি বাজারে কলা বিক্রয় করে। তাদের পূর্বের তুলনায় অনেক মুনাফা হয়। তাদের দেখে অনেকে জমিতে কলা চাষে উদ্বুদ্ধ হয়। এ সংগঠনটি সকলের মতামতের ভিত্তিতে একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠন করেছে। সংগঠনে একজন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আছে যে মতামত দেয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কোনো সুবিধা পায় না।
- ক)(1)
সমবায়ের উপবিধি কী?
- খ)(2)
উৎপাদকে সমবায় সমিতি বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত সংগঠনটি কোন ধরনের সমিতি? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে সমিতিটিতে মতামতের অধিকার যে নীতি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার তাৎপর্য মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমবায় সমিতির উপবিধি হলো এমন একটি লিখিত দলিল বা অভ্যন্তরীণ নিয়মাবলি, যার সাহায্যে সমবায় সমিতির দৈনন্দিন কার্যাবলি ও অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বল্প পুঁজির উৎপাদকগণ মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ থেকে রক্ষা পেতে এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে যে সমবায় সমিতি গঠন করে, তাকে উৎপাদক সমবায় সমিতি বলে। এ ধরনের সমিতি সদস্যদের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি সুলভে সরবরাহ করে এবং উৎপাদিত পণ্য লাভজনক মূল্যে সরাসরি বাজারে বিক্রির ব্যবস্থা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত সংগঠনটি একটি 'উৎপাদক সমবায় সমিতি' (বা উৎপাদকদের বিক্রয়/বিপণন সমবায় সমিতি)।
ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক উৎপাদকগণ নিজেদের উৎপাদিত পণ্যের উপযুক্ত বাজারজাতকরণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যে সমবায় সমিতি গঠন করে, তাকে উৎপাদক সমবায় সমিতি বলা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রংপুরের পঞ্চাশ জন কলাচাষী মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এড়িয়ে কলার ন্যায্যমূল্য পাওয়ার জন্য একটি সংগঠন গড়ে তোলে। তারা প্রতি সপ্তাহে ট্রাকে করে ঢাকায় পাইকারি বাজারে সরাসরি কলা বিক্রি করে আগের চেয়ে অনেক বেশি মুনাফা অর্জন করে। যেহেতু সমমনা ও একই পেশার উৎপাদকরা (কলাচাষী) তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা ও পণ্যের লাভজনক বিক্রির লক্ষ্যে একত্রিত হয়েছে, তাই সংগঠনটি নিশ্চিতভাবেই একটি উৎপাদক সমবায় সমিতি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সমিতিটিতে মতামতের অধিকার সমবায়ের 'গণতান্ত্রিক নীতি' দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যার তাৎপর্য সমবায় আন্দোলনের ভিত্তি হিসেবে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও অপরিসীম।
গণতান্ত্রিক নীতি সমবায় সমিতির অন্যতম প্রধান আদর্শ। এ নীতি অনুযায়ী, সমবায় সমিতিতে শেয়ার বা সামাজিক পদমর্যাদা নির্বিশেষে প্রতিটি সদস্যের একটিমাত্র ভোটের অধিকার থাকে (এক ব্যক্তি, এক ভোট)। ফলে সমিতিতে কোনো ধনী, প্রভাবশালী বা পদস্থ ব্যক্তি একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করতে পারে না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কলাচাষীদের সংগঠনটি সকলের মতামতের ভিত্তিতে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করেছে। এমনকি সংগঠনের একজন সদস্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (জনপ্রতিনিধি) হওয়া সত্ত্বেও মতামত বা ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি কোনো বাড়তি সুবিধা পান না। অর্থাৎ সামাজিক মর্যাদা বা পদবির কারণে কারো অধিকার কম বা বেশি হয়নি; প্রত্যেকের ভোটাধিকার সমান।
এই গণতান্ত্রিক নীতির তাৎপর্য হলো:
১. সমতা ও সাম্য প্রতিষ্ঠা: সদস্যদের মধ্যে সমতা বজায় থাকে এবং ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূর হয়।
২. স্বৈরতন্ত্রের অবসান: কোনো একক প্রভাবশালী ব্যক্তি বা মধ্যস্বত্বভোগী সমিতির নিয়ন্ত্রণ দখল করতে পারে না।
৩. সম্প্রীতি ও একতা বৃদ্ধি: সবাই সমগুরুত্ব পাওয়ায় সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস, আস্থা ও একতা সুদৃঢ় হয়।সুতরাং, সমবায় সমিতির মূল লক্ষ্য অর্থাৎ সকলের অর্থনৈতিক মুক্তি ও সম্মিলিত কল্যাণ নিশ্চিত করতে গণতান্ত্রিক নীতি অপরিহার্য এবং উদ্দীপকে এর যথাযথ প্রতিফলন অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও