ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব জসীম একজন সরকারি চাকরিজীবী। অফিসে যাতায়াতের সুবিধার্থে তিনি একটি মোটরসাইকেল ক্রয় করে এর পূর্ণ মূল্য ২ লক্ষ টাকার একটি বিমা কোম্পানির সাথে বিমা করেন। দুর্ঘটনায় বাইকটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে চুক্তি মোতাবেক বিমা কোম্পানি থেকে ১ লক্ষ টাকাক্ষতিপূরণ পান। পরবর্তীতে বিমা কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত মোটরসাইকেলটি ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করলে জনাব জসীম অংশ বিশেষ দাবি করেন।
- ক)(1)
বিমাযোগ্য স্বার্থ কী?
- খ)(2)
সদ্বিশ্বাসের নীতি বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
বিমার কোন নীতির কারণে জনাব জসীম সম্পত্তির পূর্ণ মূল্যের কম ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বিমা কোম্পানি কর্তৃক বিক্রিত মোটরসাইকেলের অর্থের অংশ বিশেষ জনাব জসীমের দাবির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিমাযোগ্য স্বার্থ হলো বিমাকৃত বিষয়বস্তুর ওপর বিমাগ্রহীতার এমন এক আর্থিক বা আইনগত স্বার্থ, যার অস্তিত্বে বিমাগ্রহীতা আর্থিকভাবে লাভবান হন এবং এর ক্ষতি বা ধ্বংসে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সদ্বিশ্বাসের নীতি বলতে বিমা চুক্তির উভয় পক্ষ কর্তৃক বিমাকৃত বিষয়বস্তু সম্পর্কিত সকল বস্তুগত ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সততার সাথে একে অপরের কাছে প্রকাশ করার নীতিকে বোঝায়। এ নীতি অনুযায়ী কোনো পক্ষই কোনো প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন করতে পারবে না বা মিথ্যা তথ্য দিতে পারবে না; অন্যথায় চুক্তিটি বাতিলযোগ্য হবে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিমার 'ক্ষতিপূরণের নীতি'র কারণে জনাব জসীম সম্পত্তির পূর্ণ মূল্যের চেয়ে কম ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন।
ক্ষতিপূরণের নীতি অনুযায়ী, বিমাগ্রহীতাকে দুর্ঘটনার ফলে সংঘটিত প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণের চেয়ে বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় না। এর উদ্দেশ্য হলো বিমাগ্রহীতাকে বিপদমুক্ত করে আর্থিক ক্ষতির পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা, কোনো মুনাফা অর্জনের সুযোগ না দেওয়া।
উদ্দীপকে জনাব জসীম ২ লক্ষ টাকার মোটরসাইকেল ক্রয় করে পূর্ণ মূল্যে বিমা করেছিলেন। তবে দুর্ঘটনায় বাইকটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে বিমা কোম্পানি চুক্তি মোতাবেক ১ লক্ষ টাকা প্রদান করে। ক্ষতিপূরণের নীতির কারণেই মোটরসাইকেলের বিমাকৃত পূর্ণ মূল্য ২ লক্ষ টাকা না দিয়ে কেবল প্রকৃত ক্ষতি ১ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিমা কোম্পানি কর্তৃক বিক্রিত ক্ষতিগ্রস্ত মোটরসাইকেলের অর্থের অংশ বিশেষ দাবি করার ক্ষেত্রে জনাব জসীমের দাবিটি যৌক্তিক নয়।
বিমার 'স্থলাভিষিক্ততার নীতি' বা অধিকার অর্পণের নীতি অনুসারে, বিমা কোম্পানি যদি বিমাগ্রহীতার ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করে, তবে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির অবশিষ্ট অংশ বা ধ্বংসাবশেষের মালিকানা স্বত্ব সরাসরি বিমা কোম্পানির নিকট বর্তায়। এর ফলে উদ্ধারকৃত বা অবশিষ্ট সম্পত্তি বিক্রি করে অর্জিত অর্থের ওপর বিমাগ্রহীতার আর কোনো আইনগত অধিকার থাকে না।
উদ্দীপকে জনাব জসীমের ক্ষতিগ্রস্ত বাইকের ক্ষতি নিরূপণ করে চুক্তি অনুযায়ী সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ (১ লক্ষ টাকা) বিমা কোম্পানি পরিশোধ করেছে। এরপর কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত বাইকটি ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে। স্থলাভিষিক্ততার নীতি অনুসারে ওই ধ্বংসাবশেষের ওপর একক মালিকানা বিমা কোম্পানির। সুতরাং, জনাব জসীমের ওই বিক্রিত অর্থের অংশ দাবি করা বিমা আইন ও নীতি অনুযায়ী সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও