ইসলাম • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
ইসলাম প্রশ্ন
জনাব হাবিব আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য একটি দেশে গমন করে পৃথ্বিীর প্রথম ঘর প্রদক্ষিণ করেন। দুইটি বিশেষ প্রান্তরে অবস্থানসহ আরো কিছু কাজ সম্পাদন করে দেশে ফিরে আসেন। তার বন্ধু আবির একটি গার্মেন্টস কারখানার মালিক। কিন্তু সময়মতো তিনি শ্রমিকদের বেতনাদি পরিশোধ করেন না। বরং অনেক সময় তাদের অতিরিক্ত কাজের বোঝা চাপিয়ে দেন। মাঝেমধ্যেই কারখানার শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়। এক পর্যায়ে কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়।
- ক)(1)
হাদিস অনুসারে একজন অধীনস্থ কর্মচারীকে কতবার ক্ষমা করা যেতে পারে?
- খ)(2)
'সব জ্ঞানই গ্রহণীয় নয়'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
হাবিব সাহেব ইসলামের কোন গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত পালন করেছেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, আবির সাহেবের কর্মকাণ্ডের ফলে কারাখানাটি বন্ধ হয়েছে? তার কর্মকাণ্ড চিহ্নিতপূর্বক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
হাদিস অনুসারে একজন অধীনস্থ কর্মচারীকে প্রতিদিন সত্তর বার ক্ষমা করা যেতে পারে।
- খ)
জ্ঞান দুই প্রকার: কল্যাণকর ও অকল্যাণকর। যে জ্ঞান মানুষকে আল্লাহর পরিচয় ও সৎ পথের সন্ধান দেয় এবং সমাজের উপকার করে, তা গ্রহণীয়। কিন্তু যে জ্ঞান মানুষকে অন্যায়, ক্ষতি ও ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়, যেমন জাদুবিদ্যা বা মানবতাবিরোধী কাজে ব্যবহৃত জ্ঞান, তা গ্রহণযোগ্য নয়। তাই বলা হয়েছে, সব জ্ঞানই গ্রহণীয় নয়।
- গ)
হাবিব সাহেব বাইতুল্লাহ (কাবা ঘর) তাওয়াফ করেছেন, আরাফাত ও মুজদালিফার মতো প্রান্তরে অবস্থান করেছেন এবং আরও কিছু কাজ করেছেন। তিনি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হজ পালন করেছেন।
হজ ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি। আর্থিক ও শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। এতে ইহরাম বাঁধা, তাওয়াফ, আরাফাতে অবস্থান ও কুরবানির মতো কাজ রয়েছে। আল্লাহ বলেছেন, সামর্থ্যবানদের জন্য কাবা ঘরের হজ করা ফরজ। সুতরাং, হাবিব সাহেব হজ পালন করেছেন।
- ঘ)
হ্যাঁ, আবির সাহেবের কর্মকাণ্ডের ফলেই কারখানাটি বন্ধ হয়েছে বলে আমি মনে করি।
আবিরের কর্মকাণ্ড ছিল—সময়মতো শ্রমিকদের বেতন না দেওয়া এবং তাদের ওপর অতিরিক্ত কাজের বোঝা চাপানো। বিশ্লেষণ:
১. মজুরি বিলম্ব: রাসুল (স) বলেছেন, “শ্রমিকের শরীরের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি দিয়ে দাও।” আবির এর বিপরীত কাজ করেছেন।
২. সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ: হাদিসে নির্দেশ আছে, অধীনস্থদের এমন কাজ দিও না যা তাদের সাধ্যের বাইরে; দিলে তাদের সাহায্য করো।
৩. ফলাফল: এমন আচরণে শ্রমিকদের মনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়, কর্মস্পৃহা কমে যায় এবং উৎপাদন ব্যাহত হয়।সুতরাং, শ্রমিকদের অধিকার লঙ্ঘন ও অন্যায় আচরণের কারণেই কারখানাটি বন্ধ হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও