মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

সুমন, রাজন, মোহন তিন বন্ধু। বন্ধুরা মিলে কক্সবাজার বেড়াতে যায়। সুমন রাত ৮টায় একাকী হোটেল থেকে বেরিয়ে সামনের রাস্তায় পায়চারী করছিল। হঠাৎ তার চোখে পড়ে একটি মেয়েকে টিজ করা হচ্ছে। তার মধ্যে ক্রোধ সৃষ্টি হয় এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মেয়েটিকে রক্ষা করে। মেয়েটি নিরাপদে হোটেলে ফিরে যায়। খবর পেয়ে রাজন ও মোহন দৌড়ে এসে দেখে সুমন সেখানে বসে আছে। তার বুক ধড়ফড় করছে এবং শরীর থেকে ঘাম ঝরছে। বন্ধুরা তাকে নিকটস্থ ডাক্তারখানায় নিয়ে যায়। তিনি (ডাক্তার) স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে সুমনকে বিশ্রাম নিতে বলেন। এক ঘণ্টা পর সুমন স্বাভাবিক হলে তারা হোটেলে ফিরে আসে।

  1. ক)

    স্নায়ুতন্ত্র কী?

    (1)
  2. খ)

    অনালি গ্রন্থিকে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    সুমনের শারীরিক পরিবর্তনের মূলে প্রভাব বিস্তারকারী স্নায়ুতন্ত্রের বিবরণ দাও ।

    (3)
  4. ঘ)

    রাজন ও মোহনের দৌড়ে আসার ঘটনা এবং সুমনের বিশ্রাম গ্রহণের মূলে নিহিত স্নায়ুতন্ত্রের পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে তন্ত্রের সাহায্যে প্রাণী পরিবেশের উদ্দীপনা গ্রহণ করে, বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে এবং উদ্দীপনা অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া বা উপযুক্ত আচরণ প্রকাশ করে, তাকে স্নায়ুতন্ত্র বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অনালি গ্রন্থিগুলোর কোনো নির্দিষ্ট নালি বা ক্ষরণ পথ থাকে না। এদের নিঃসৃত হরমোন কোনো নালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত না হয়ে সরাসরি রক্ত বা লসিকায় মিশে সারা দেহে পরিবাহিত হয় এবং নির্দিষ্ট অঙ্গের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। যেহেতু এদের কোনো নির্গমন নালি থাকে না এবং অভ্যন্তরীণ রক্তপ্রবাহে সরাসরি ক্ষরণ ঘটে, তাই অনালি গ্রন্থিকে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি (Endocrine Gland) বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতিতে সুমনের ক্রোধ, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লড়াই করা এবং পরবর্তীকালে বুক ধড়ফড় করা ও ঘাম ঝরার পেছনে 'স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র'-এর অন্তর্গত 'সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র' (Sympathetic Nervous System) প্রভাব বিস্তার করেছে।

    বিবরণ:
    ১. জরুরি অবস্থার মোকাবিলা: সুমনের সামনে যখন একটি বিপজ্জনক ও উত্তেজক পরিস্থিতি (টিজিং) সৃষ্টি হয়, তখন স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের সমবেদী শাখাটি তাৎক্ষণিকভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই শাখা জরুরি বা সংকটকালীন শারীরিক তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করে, যাকে 'লড়াই অথবা পলায়ন' (Fight or Flight) প্রতিক্রিয়া বলা হয়।
    ২. শারীরিক ক্রিয়া বৃদ্ধি: সমবেদী স্নায়ুতন্ত্রের প্রভাবে অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে হরমোন নিঃসৃত হয়, যা হৃৎপিণ্ডের গতি ও রক্তচাপ দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। এর ফলেই সুমনের বুক ধড়ফড় করছিল।
    ৩. শক্তি সঞ্চার ও ঘাম ঝরা: এই স্নায়ুতন্ত্রের কারণে পেশিতে রক্তসঞ্চালন বাড়ে যাতে শরীর দ্রুত কাজ করতে পারে। একই সাথে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য ঘর্মগ্রন্থি সক্রিয় হয়, যার দরুন সুমনের শরীর থেকে প্রচুর ঘাম ঝরছিল।

    অতএব, আকস্মিক সংকট মোকাবিলায় সুমনের শরীরকে প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে সমবেদী স্নায়ুতন্ত্রই প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রাজন ও মোহনের দৌড়ে আসার ঘটনাটি 'ঐচ্ছিক স্নায়ুতন্ত্র' (বা সমবেদী স্নায়ুর সহায়তাপুষ্ট ঐচ্ছিক পেশির কাজ) দ্বারা পরিচালিত এবং সুমনের বিশ্রাম নিয়ে শান্ত হওয়ার প্রক্রিয়াটি 'পরাসমেবেদী স্নায়ুতন্ত্র' দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। নিচে এ দুটির পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. গঠন ও নিয়ন্ত্রণগত পার্থক্য:

    • রাজন ও মোহনের দৌড়ে আসা: এটি মূলত প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্রের ঐচ্ছিক স্নায়ুতন্ত্র (Somatic Nervous System) এবং কঙ্কাল পেশির সমন্বয়ে গঠিত, যা প্রাণীর সচেতন ইচ্ছা ও মস্তিষ্কের কর্টেক্সের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।
    • সুমনের বিশ্রাম গ্রহণ: এটি স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের অন্তর্গত পরাসমেবেদী স্নায়ুতন্ত্র (Parasympathetic Nervous System) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, যা প্রাণীর ইচ্ছার অধীন নয় এবং অবচেতনভাবে অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে।

    ২. কার্যাবলি ও শক্তির ব্যয়ের দিক:

    • রাজন-মোহনের আচরণে দৈহিক শক্তি দ্রুত খরচ হয়। বন্ধুদের সাহায্য করার জন্য সচেতনভাবে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
    • সুমনের ক্ষেত্রে পরাসমেবেদী স্নায়ুতন্ত্র অতিরিক্ত উত্তেজনার পর দেহকে শান্ত করে এবং শক্তির অপচয় রোধ করে পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করে।

    ৩. শারীরবৃত্তীয় প্রভাব:

    • দৌড়ে আসার ফলে রাজন ও মোহনের হৃৎস্পন্দন ও পেশির সক্রিয়তা সাময়িকভাবে বাড়ে।
    • সুমনের বিশ্রাম গ্রহণের সময় পরাসমেবেদী স্নায়ুতন্ত্রের প্রভাবে সুমনের দ্রুত হৃৎস্পন্দন হ্রাস পেয়ে স্বাভাবিক হয়, রক্তচাপ কমে আসে, ঘাম বন্ধ হয় এবং দেহের স্বাভাবিক অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য (Homeostasis) প্রতিষ্ঠিত হয়।

    সুতরাং, রাজন ও মোহনের দৌড়ে আসা ছিল সচেতন ও ঐচ্ছিক স্নায়বিক প্রক্রিয়ার বহিঃপ্রকাশ, অন্যদিকে সুমনের বিশ্রাম নিয়ে স্বাভাবিক হওয়া ছিল স্বয়ংক্রিয় পরাসমেবেদী স্নায়ুতন্ত্রের ভারসাম্যমূলক ক্রিয়ার ফলাফল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন