যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১ : কারামুক্তির পরপরই সাবেক প্রেসিডেন্ট আততায়ীর গুলিতে নিহত হলেন। সুতরাং কারামুক্তিই প্রেসিডেন্টের মৃত্যুর কারণ।
দৃশ্যকল্প-২ : একটি ক্লাসের ১০ জন ছাত্রের মধ্যে ৫ জন টিফিনে অন্যান্য খাবারের সাথে চটপটি খেয়েছে। আর ঐ ৫ জনই পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়েছে। অতএব, চটপটি খাওয়াই পেটের পীড়ার কারণ।

  1. ক)

    পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতি কাকে বলে ?

    (1)
  2. খ)

    অবৈধ সার্বিকীকরণ অনুপপত্তি কেন ঘটে ? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ কোন ধরনের অনুপপত্তি ঘটেছে ? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এর কার্য-কারণ সম্পর্ক প্রমাণ পদ্ধতিটি বেশি সুবিধাজনক ? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের জন্য জন স্টুয়ার্ট মিল যে পরীক্ষণমূলক বা আরোহাত্মক পদ্ধতিগুলোর কথা বলেছেন, সেগুলোকে পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর ভিত্তি না করে কেবল কয়েকটি অনুকূল বা অবাধ অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে তাড়াহুড়ো করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে অবৈধ সার্বিকীকরণ অনুপপত্তি (Fallacy of Illicit Generalization) ঘটে। পর্যাপ্ত দৃষ্টান্ত নিরীক্ষণ না করে কোনো বিরুদ্ধ দৃষ্টান্ত আছে কি না তা যাচাই না করেই সিদ্ধান্ত টানা হলে এ অনুপপত্তি দেখা দেয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এ 'কাকতালীয় অনুপপত্তি' (Post hoc ergo propter hoc) ঘটেছে।

    কোনো একটি ঘটনা অন্য একটি ঘটনার ঠিক আগে ঘটলেই পূর্ববর্তী ঘটনাটিকে পরবর্তী ঘটনার কারণ বলে মনে করার ভুল যুক্তিকে কাকতালীয় অনুপপত্তি বলে। কারণ ও কার্যের মধ্যে অনিবার্য সম্বন্ধ থাকতে হয়, কেবল সময়ের ব্যবধানে আগে ঘটলেই তা কারণ হতে পারে না।

    উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ সাবেক প্রেসিডেন্টের কারামুক্তির পরপরই তিনি আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। এখানে কারামুক্তি একটি পূর্ববর্তী ঘটনা এবং মৃত্যু পরবর্তী ঘটনা। কিন্তু কারামুক্তির সাথে মৃত্যুর কোনো অপরিহার্য বা প্রত্যক্ষ কার্যকারণ সম্পর্ক নেই; কেবল পূর্বে ঘটেছে বলেই কারামুক্তিকে মৃত্যুর কারণ বিবেচনা করায় এখানে কাকতালীয় অনুপপত্তি ঘটেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২ এ কার্য-কারণ সম্পর্ক প্রমাণের জন্য মিলের 'ব্যতিরেকী পদ্ধতি' (Method of Difference) প্রয়োগের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। আমার মতে, কার্য-কারণ সম্পর্ক নির্ণয়ে ব্যতিরেকী পদ্ধতি অত্যন্ত সুবিধাজনক ও নির্ভরযোগ্য।

    ব্যতিরেকী পদ্ধতির মূল নিয়ম হলো—যদি আলোচ্য ঘটনাটি বিদ্যমান রয়েছে এমন একটি দৃষ্টান্ত এবং আলোচ্য ঘটনাটি বিদ্যমান নেই এমন আরেকটি দৃষ্টান্তের মধ্যে মাত্র একটি বিষয় ছাড়া বাকি সব বিষয়ে মিল থাকে, তবে যে বিষয়ে অমিল রয়েছে সেটিই আলোচ্য ঘটনার কারণ বা কার্য।

    দৃশ্যকল্প-২ এ দেখা যায়, ক্লাসের ১০ জনের মধ্যে ৫ জন অন্যান্য খাবারের সাথে অতিরিক্ত হিসেবে চটপটি খেয়েছে এবং তারাই অসুস্থ হয়েছে; বাকি ৫ জন চটপটি খায়নি এবং অসুস্থও হয়নি। এখানে চটপটি খাওয়া বা না খাওয়ার একমাত্র পার্থক্যই রোগের উপস্থিত ও অনুপস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করেছে।

    মিলের পরীক্ষামূলক পদ্ধতিগুলোর মধ্যে ব্যতিরেকী পদ্ধতিকে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রমাণ পদ্ধতি বলা হয়। কারণ এটি মূলত পরীক্ষণের ওপর নির্ভরশীল। পরীক্ষণ সম্ভব হলে কৃত্রিমভাবে অন্যান্য পারিপার্শ্বিক অবস্থাকে অপরিবর্তিত রেখে একমাত্র সম্ভাব্য কারণটিকে উপস্থিত বা অনুপস্থিত করে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়। অন্বয়ী পদ্ধতির মতো এতে বহুকারণবাদের সম্ভাবনা থাকে না এবং অপ্রয়োজনীয় শর্ত সহজেই অপসারণ করা যায়। অতএব, সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে প্রমাণের ক্ষেত্রে ব্যতিরেকী পদ্ধতিটি সবচেয়ে বেশি সুবিধাজনক ও নির্ভরযোগ্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন