কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • ভূমি সম্পৃক্ত কৃষি প্রযুক্তি • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

ধানচাষি রফিক কয়েক বছর যাবৎ তার জমিতে পর্যাপ্ত রাসায়নিক সার প্রয়োগ করেও ভালো ফলন পাচ্ছেন না। এ সমস্যায় তিনি কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী তার জমির মাটি মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে পরীক্ষা করান। পরীক্ষায় দেখা যায় যে, তার জমির মাটির অম্লমান ৮.০৮.০। কৃষি কর্মকর্তা তার জমিতে ফলন ভালো না হওয়ার কারণগুলো ব্যাখ্যা করেন এবং উক্ত সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।

  1. ক)

    মালচিং কী?

    (1)
  2. খ)

    পানি সেচ কেন প্রয়োজন?

    (2)
  3. গ)

    রফিকে র জমিতে ফলন ভালো না হওয়ার কারণগুলো ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে রফিকের জমির সমস্যা সমাধানে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা এবং আগাছা দমনের জন্য খড়কুটা, পাতা বা পলিথিন দিয়ে মাটির উপরিভাগ ঢেকে দেওয়ার পদ্ধতিকে মালচিং বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলির জন্য পানি সেচ অত্যন্ত প্রয়োজন। সেচের পানি মাটিতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানকে দ্রবীভূত করে, যা শিকড়ের মাধ্যমে উদ্ভিদের সহজে গ্রহণ করতে সহায়তা করে। এছাড়া কোষের স্ফীতি বজায় রাখা এবং প্রস্বেদন প্রক্রিয়ার ভারসাম্য রক্ষায় পানির প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রফিকের জমিতে পর্যাপ্ত রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা সত্ত্বেও ফলন ভালো না হওয়ার প্রধান কারণ হলো মাটির ক্ষারত্ব বৃদ্ধি বা অতিরিক্ত অম্লমান (pH)।

    উদ্দীপক অনুযায়ী পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা গেছে রফিকের জমির মাটির অম্লমান ৮.০ (৮.০৮.০ হিসেবে উল্লেখিত, যা মূলত ৮.০)। নিরপেক্ষ মাটির pH মান সাধারণত ৭.০ এবং ধানের জন্য অনুকূল pH হলো ৫.৫ থেকে ৬.৫ বা সর্বোচ্চ ৭.৫ পর্যন্ত। মাটির অম্লমান ৭.০-এর বেশি হলে তা ক্ষারীয় মাটিতে পরিণত হয়। ক্ষারীয় মাটিতে ফসফরাস, দস্তা (জিঙ্ক), লোহা এবং ম্যাঙ্গানিজের মতো অতি প্রয়োজনীয় অণুখাদ্যগুলো মাটির সাথে স্থায়ীভাবে আবদ্ধ হয়ে যায় এবং গাছ তা গ্রহণ করতে পারে না। ফলে জমিতে প্রচুর সার দেওয়া হলেও গাছ তা শোষণ করতে না পারায় অপুষ্টিতে ভোগে এবং আশানুরূপ ফলন পাওয়া যায় না।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রফিকের জমির অম্লমান ৮.০ হওয়ায় মাটি ক্ষারীয় হয়ে পড়েছে, যা ধান চাষের জন্য প্রতিকূল। এই সমস্যা সমাধানে কৃষি কর্মকর্তার প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান ছিল অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত ও সময়োপযোগী।

    মাটির অতিরিক্ত ক্ষারত্ব কমাতে কৃষি কর্মকর্তার নিম্নোক্ত পরামর্শগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখবে:
    ১. জৈব সারের প্রয়োগ: জমিতে বেশি পরিমাণে গোবর সার, কম্পোস্ট ও সবুজ সার (যেমন- ধৈঞ্চা চাষ করে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া) প্রয়োগ করা হলে জৈব এসিড উৎপন্ন হয়ে মাটির ক্ষারত্ব স্বাভাবিক মাত্রায় নেমে আসে।
    ২. গন্ধক বা জিপসাম ব্যবহার: ক্ষারীয় মাটির সমস্যা দূর করতে নির্দিষ্ট মাত্রায় জিপসাম (ক্যালসিয়াম সালফেট) বা গন্ধক প্রয়োগ করা উচিত, যা ক্ষারীয় বিক্রিয়া প্রশমিত করে।
    ৩. অম্লীয় সার প্রয়োগ: ইউরিয়া এবং অ্যামোনিয়াম সালফেট সারের সঠিক ব্যবহার মাটির ক্ষারীয় ভাব কমাতে সাহায্য করে।
    ৪. অনুখাদ্যের ঘাটতি পূরণ: মাটিতে পর্যাপ্ত জিংক সালফেট প্রয়োগ করে দস্তার অভাব দূর করা দরকার।

    সুতরাং, কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ গ্রহণ করে মাটির pH নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলে গাছের পুষ্টি উপাদান গ্রহণের ক্ষমতা পুনরুদ্ধার হবে এবং রফিক পুনরায় ভালো ফলন অর্জন করতে সক্ষম হবেন। তাই পরামর্শটি ছিল যথোপযুক্ত ও ফলপ্রসূ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন