যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৮
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
শ্রেণিকরণ কী?
- খ)(2)
দৈনন্দিন জীবনে শ্রেণিকরণ প্রয়োজন কেন ?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প- ১ কোন ধরনের শ্রেণিকরণ নির্দেশ করেছে? ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-১ এবং দৃশ্যকল্প-২ এর মধ্যকার পার্থক্য আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে বস্তু বা ঘটনাগুলোকে তাদের পারস্পরিক সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের ভিত্তিতে মনের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণি বা উপশ্রেণিতে বিন্যস্ত করার মানসিক প্রক্রিয়াকে শ্রেণিকরণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৈনন্দিন জীবনে শৃঙ্খলা রক্ষা ও সময় বাঁচানোর জন্য শ্রেণিকরণ অত্যন্ত প্রয়োজন। আমাদের চারপাশে অগণিত বস্তু রয়েছে। এগুলো যদি অবিন্যস্তভাবে থাকে, তবে প্রয়োজনীয় মুহূর্তে কোনো জিনিস সহজে খুঁজে পাওয়া যায় না। যেমন—লাইব্রেরিতে বিষয় অনুযায়ী বই সাজানো থাকলে কিংবা রান্নাঘরে মসলা আলাদা করে রাখলে সহজেই ব্যবহার করা যায়। শ্রেণিকরণ জ্ঞানকে সুশৃঙ্খল ও সহজবোধ্য করে এবং ব্যবহারিক জীবনে যেকোনো কাজ দ্রুত ও সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে সাহায্য করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ নির্দেশ করেছে।
প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ হলো এমন একটি মানসিক প্রক্রিয়া, যেখানে কোনো বিশেষ ব্যবহারিক উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভর না করে বস্তুসমূহের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ, মৌলিক এবং অন্তর্নিহিত প্রাকৃতিক সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের ভিত্তিতে শ্রেণিকরণ করা হয়। এ ধরনের শ্রেণিকরণে বস্তুর নিজস্ব প্রকৃতি ও বিজ্ঞানসম্মত দিকটি প্রাধান্য পায়।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ 'উদ্ভিদ জগৎ'-কে 'সপুষ্পক উদ্ভিদ' এবং 'অপুষ্পক উদ্ভিদ'—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এখানে ফুল হওয়া বা না-হওয়ার বিষয়টি উদ্ভিদের জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, অপরিহার্য ও মৌলিক বৈশিষ্ট্য। এটি কোনো মানুষের ব্যক্তিগত বা বাহ্যিক প্রয়োজনের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং উদ্ভিদের স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন। সুতরাং, দৃশ্যকল্প-১ যুক্তিবিদ্যার প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ হলো 'প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ' এবং দৃশ্যকল্প-২ হলো 'কৃত্রিম শ্রেণিকরণ'। এদের মধ্যকার মূল পার্থক্যসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. ধারণাগত পার্থক্য: দৃশ্যকল্প-১ এ মৌলিক ও অপরিহার্য সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে উদ্ভিদ জগৎকে সপুষ্পক ও অপুষ্পক শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়েছে, যা প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ। অপরদিকে, দৃশ্যকল্প-২ এ কোনো মৌলিক গুণের পরিবর্তে বাহ্যিক রূপ (রঙিন ও অ-রঙিন)-এর ওপর ভিত্তি করে বইকে বিন্যস্ত করা হয়েছে, যা কৃত্রিম শ্রেণিকরণ।
২. উদ্দেশ্যের পার্থক্য: প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের মূল উদ্দেশ্য হলো যথার্থ জ্ঞান অর্জন ও বস্তুর আসল স্বরূপ উদ্ঘাটন করা। কিন্তু কৃত্রিম শ্রেণিকরণের প্রধান উদ্দেশ্য হলো ব্যবহারিক সুবিধা বা কোনো তাৎক্ষণিক বিশেষ প্রয়োজন মেটানো (যেমন—বই খুঁজে পাওয়ার সুবিধা)।
৩. গুণের গুরুত্ব: দৃশ্যকল্প-১ এ যে লক্ষণের ভিত্তিতে শ্রেণিবিভাগ হয়েছে (ফুল ধারণের ক্ষমতা), তা উদ্ভিদের একটি গভীর ও সার্বিক গুণ। পক্ষান্তরে, দৃশ্যকল্প-২ এ বইয়ের প্রচ্ছদ বা পাতা রঙিন কি রঙিন নয়—তা বইয়ের ভেতরের মৌলিক জ্ঞানের ক্ষেত্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ গুণ নয়, এটি নিতান্তই বাহ্যিক ও পরিবর্তনশীল।
৪. বৈজ্ঞানিক মূল্য: দৃশ্যকল্প-১ বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন এবং এর তাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক মূল্য অনেক বেশি। দৃশ্যকল্প-২ মূলত ব্যবহারিক ও দৈনন্দিন সুবিধাকেন্দ্রিক, যার বৈজ্ঞানিক মূল্য নেই বললেই চলে।
৫. স্থায়িত্ব: প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ প্রাকৃতিক নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় তা চিরন্তন ও স্থায়ী। কিন্তু কৃত্রিম শ্রেণিকরণ ব্যক্তির রুচি, স্থান বা সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে।
পরিশেষে বলা যায়, দৃশ্যকল্প-১ বস্তুর অন্তর্নিহিত গভীর সত্যকে প্রকাশ করে বিধায় এটি প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ, আর দৃশ্যকল্প-২ কেবল বাহ্যিক সুবিধার নিমিত্তে গঠিত হওয়ায় এটি কৃত্রিম শ্রেণিকরণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও