কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
সুমাইয়া এবং সিয়াম দুই ভাইবোন। তারা একদিন মুন্সিগঞ্জে মামার সাথে বেড়াতে যাওয়ার পথে কৃষকদের ক্ষেত থেকে আলু উঠানোর পদ্ধতি দেখে মুগ্ধ হলো। মামা কৃষকদের বাড়ি হতে ২০ কেজি পরিমাণ আলু নিয়ে আসলেন। সিয়াম বলল, 'মামা এত আলু কী করবেন?' মামা বললেন 'তোমরা ছোটবেলায় ঢাকা হতে ট্রেনে' আসার পথে আলুর তৈরি যে মুখরোচক হালকা খাবার খেয়েছিলে তা তৈরি করা হবে।
- ক)(1)
আচার কী?
- খ)(2)
ব্লাঞ্চিং বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের বর্ণিত মুখরোচক হালকা খাবারটি কী? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ফসলের বহুমুখী ব্যবহারে সুমাইয়া ও সিয়ামের মামার উদ্যোগটি মূল্যায়ন করো ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আচার হলো তেল, লবণ, ভিনেগার এবং বিভিন্ন মশলা সহযোগে প্রক্রিয়াজাত করে দীর্ঘকাল সংরক্ষণ করা ফল বা সবজির এক ধরনের মুখরোচক খাদ্য।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফল বা সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণের পূর্বে নির্দিষ্ট সময় ধরে ফুটন্ত গরম পানিতে বা বাষ্পে আংশিক সিদ্ধ করে অবিলম্বে ঠান্ডা পানিতে ডুবিয়ে ঠান্ডা করার প্রক্রিয়াকে ব্লাঞ্চিং বলে।
ব্লাঞ্চিংয়ের ফলে ফলের ভেতরের এনজাইম নিষ্ক্রিয় হয়, স্বাভাবিক রঙ ও পুষ্টিগুণ বজায় থাকে এবং ক্ষতিকর অণুজীব ধ্বংস হয়ে খাদ্যদ্রব্যের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পায়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত মুখরোচক হালকা খাবারটি হলো 'আলুর চিপস' (Potato Chips)।
উদ্দীপকে উল্লেখ আছে যে, সুমাইয়া ও সিয়াম ছোটবেলায় ট্রেনে আসার পথে আলুর তৈরি একটি মুখরোচক খাবার খেয়েছিল, যা মামা ২০ কেজি আলু দিয়ে তৈরি করার কথা বলেছেন। আলু দিয়ে তৈরি বহুল পরিচিত এবং জনপ্রিয় শুকনো হালকা নাস্তা হলো চিপস।
আলুর চিপস তৈরির জন্য প্রথমে ভালো মানের ও বড় আকারের আলু নির্বাচন করে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে খোসা ছাড়ানো হয়। এরপর স্লাইসারের সাহায্যে পাতলা পাতলা গোল টুকরো করে কাটা হয়। কাটার পর অতিরিক্ত স্টার্চ দূর করার জন্য ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রেখে হালকা ব্লাঞ্চিং করে নেওয়া হয়। এরপর পানি ঝরিয়ে ও শুকিয়ে গরম ডুবোতেলে মুচমুচে করে ভাজা হয়। সবশেষে স্বাদমতো লবণ ও মশলা মিশিয়ে বায়ুরোধী প্যাকেটে সংরক্ষণ করা হয়। এভাবেই আলু প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে চিপস তৈরি করা হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফসলের বহুমুখী ব্যবহার এবং সংরক্ষণে সুমাইয়া ও সিয়ামের মামার আলু প্রক্রিয়াজাতকরণের উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী। নিচে তা মূল্যায়ন করা হলো:
১. কৃষিপণ্যের অপচয় রোধ: বাংলাদেশে আলুর মৌসুমে প্রচুর ফলন হয়। সংরক্ষণের অভাবে বা হিমাগারে জায়গার স্বল্পতার কারণে প্রতি বছর প্রচুর আলু পচে নষ্ট হয়। উদ্দীপকে মামা কৃষকের কাছ থেকে আলু সংগ্রহ করে চিপস তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন, যা আলুর অপচয় হ্রাসে সহায়ক।
২. মূল্য সংযোজন (Value Addition): কাঁচা আলুর তুলনায় প্রক্রিয়াজাতকৃত আলুর তৈরি খাদ্যদ্রব্য যেমন চিপস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ইত্যাদির বাজারমূল্য অনেক বেশি। ফসলের বহুমুখী ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষক ও উদ্যোক্তা অধিক অর্থনৈতিক মুনাফা অর্জন করতে পারেন।
৩. কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতি: এ ধরণের কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ক্ষুদ্র ও মাঝারি কুটির শিল্প গড়ে তুলতে সাহায্য করে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
৪. পুষ্টির চাহিদা ও রুচির পরিবর্তন: মুখরোচক খাবার হিসেবে চিপস শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য, যা খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনে।সুতরাং, আলুকে কেবল সাধারণ রান্নায় সীমাবদ্ধ না রেখে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে চিপস তৈরির এই উদ্যোগটি কৃষিজাত ফসলের সদ্ব্যবহার, লোকসান রোধ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি কার্যকর ও ইতিবাচক পদক্ষেপ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও