কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • ভূমি সম্পৃক্ত কৃষি প্রযুক্তি • Combined Board • যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
মিঃ রিপন কয়েক বছর যাবত তার জমিতে ফসলের ভালো ফলন পাচ্ছেন না। জমিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করেও ফল হয়নি। এ সমস্যায় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী তিনি তার জমির মাটি "মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে" পরীক্ষা করান। পরীক্ষায় দেখা যায় যে তার জমিতে মাটির অম্লমান ৪.৫। কৃষি কর্মকর্তা তার জমিতে অম্লত্ব সৃষ্টির কারণগুলো ব্যাখ্যা করেন এবং সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।
- ক)(1)
মৃত্তিকা বুনট কী?
- খ)(2)
জৈব পদার্থকে 'মাটির প্রাণ' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
মিঃ রিপনের জমিতে সমস্যার কারণগুলো কী কী হতে পারে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
মিঃ রিপনের সমস্যা সমাধানে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাটিতে বিদ্যমান বালি, পলি ও কাদা কণার পারস্পরিক অনুপাত বা শতকরা হারকে মৃত্তিকা বুনট বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জৈব পদার্থ মাটির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক গুণাবলি নিয়ন্ত্রণ করে মাটির স্বাস্থ্য ও উর্বরতা সজীব রাখে। এটি মাটির কণার সংযুক্তি উন্নত করে, মাটির পানি ধারণ ও বায়ু চলাচলের ক্ষমতা বাড়ায় এবং উপকারী অণুজীবদের প্রধান খাদ্য ও শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। যে মাটিতে পর্যাপ্ত জৈব পদার্থ থাকে না, সে মাটি প্রাণহীন ও অনুর্বর হয়ে পড়ে। তাই মাটির জীবনীশক্তি ও উৎপাদনক্ষমতা টিকিয়ে রাখার প্রধান নিয়ামক হওয়ায় জৈব পদার্থকে 'মাটির প্রাণ' বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মিঃ রিপনের জমির মাটি পরীক্ষার ফলে মাটির অম্লমান বা pH পাওয়া গেছে ৪.৫, যা নির্দেশ করে জমিটি অতিরিক্ত মাত্রায় অম্লীয়। তাঁর জমিতে এই অম্লত্ব সৃষ্টির সম্ভাব্য কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. অম্ল সৃষ্টিকারী রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহার: জমিতে দীর্ঘদিন ধরে মাত্রাতিরিক্ত অম্লীয় সার (যেমন: ইউরিয়া, অ্যামোনিয়াম সালফেট) ব্যবহার করলে মাটিতে হাইড্রোজেন আয়নের মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং মাটি অম্লীয় হয়ে পড়ে। উদ্দীপকে তিনি পর্যাপ্ত রাসায়নিক সার প্রয়োগ করেছেন বলে উল্লেখ রয়েছে।
২. পুষ্টি উপাদানের ধৌতকরণ (Leaching): অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত বা সেচের পানির সাথে মাটির ক্ষারীয় উপাদানসমূহ (যেমন: ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি) ধুয়ে নিচে চলে গেলে মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি পায়।
৩. জৈব পদার্থের অম্লীয় পচন: মাটিতে জৈব পদার্থ অতিরিক্ত আর্দ্রতায় পচনের ফলে জৈব অ্যাসিড তৈরি হয়ে অম্লমান কমিয়ে দিতে পারে।
৪. অম্লীয় শিলা থেকে মাটির উৎপত্তি: এলাকাভিত্তিক ভূপ্রাকৃতিক কারণে বা অম্লীয় মূল শিলা থেকে মাটি তৈরি হলে তা প্রাকৃতিকভাবেই অম্লীয় বৈশিষ্ট্যের হয়ে থাকে।মূলত মাটির এই উচ্চ অম্লতার কারণেই পুষ্টি উপাদানের সহজলভ্যতা ব্যাহত হচ্ছিল এবং ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছিল না।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মিঃ রিপনের ফসলের ফলন বিপর্যয় দূর করতে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকর।
মাটির অম্লমান ৪.৫ হওয়া মানে মাটিটি অত্যন্ত অম্লীয়। সাধারণ ফসলের জন্য অনুকূল pH হলো ৬.০ থেকে ৭.৫। অতিরিক্ত অম্লতার কারণে মাটিতে ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামের মতো পুষ্টি উপাদানের সহজলভ্যতা মারাত্মকভাবে কমে যায় এবং অ্যালুমিনিয়াম ও আয়রনের বিষাক্ততা দেখা দেয়, যার ফলে সার দিলেও ফসল তা গ্রহণ করতে পারে না। কৃষি কর্মকর্তা এ বিষয়টি সঠিকভাবে শনাক্ত করেছেন।
এই সমস্যা সমাধানে কৃষি কর্মকর্তা যেসব কার্যকর পরামর্শ দিতে পারেন:
১. চুন বা ডলোমাইট প্রয়োগ: অম্লীয় মাটিতে কৃষি চুন (ক্যালসিয়াম কার্বনেট) বা ডলোমাইট প্রয়োগ করলে তা মাটির অম্লত্ব নিষ্ক্রিয় করে pH স্বাভাবিক মাত্রায় নিয়ে আসে।
২. পর্যাপ্ত জৈব সার ব্যবহার: কম্পোস্ট, গোবর সার বা সবুজ সার প্রয়োগ করলে মাটির বাফারিং ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং ক্ষতিকর অম্লভাব প্রশমিত হয়।
৩. অম্লীয় সারের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ: ইউরিয়ার মতো অম্ল সৃষ্টিকারী সারের ব্যবহার কমিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ সার ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা।
৪. অম্লসহনশীল ফসলের চাষ: মাটি পুরোপুরি শোধনের আগ পর্যন্ত অম্লসহনশীল ফসল নির্বাচন করা।অতএব, মৃত্তিকা পরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিত করে বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে চুন ও জৈব সার প্রয়োগের মতো পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়ায় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ মিঃ রিপনের জমির উর্বরতা পুনরুদ্ধার ও আশানুরূপ ফলন ফিরিয়ে আনতে শতভাগ ফলপ্রসূ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও