ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • সমবায় সমিতি • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন

'সৃজন' সমবায় সমিতির মোট মূলধন ২ লক্ষ টাকা, যা ১০ টাকার ২০ হাজার শেয়ারে বিভক্ত। ১০০ জন রিকশাচালক এর সদস্য হিসেবে থাকতে সম্মত হয়েছে। এদের মধ্যে একজন সদস্য একাই ৫ হাজার শেয়ার ক্রয় করতে চাইলে কার্যকরি কমিটি উক্ত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।

  1. ক)

    প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যা কত জন?

    (1)
  2. খ)

    সমবায়ে সম-ভোটাধিকার বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    সদস্য প্রকৃতি বিচারে 'সৃজন' কোন ধরনের সমবায় সমিতি? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে কার্যকরি কমিটি কর্তৃক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করো `

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যা ৫০ জন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমবায়ে সম-ভোটাধিকার বলতে বোঝায়, সমবায় সমিতিতে শেয়ারের সংখ্যা যা-ই হোক না কেন, প্রত্যেক সদস্যের কেবল একটিমাত্র ভোট প্রদানের অধিকার থাকা ('এক সদস্য, এক ভোট')।

    গণতান্ত্রিক নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সমবায় সমিতিতে সদস্যদের অর্থনৈতিক অবস্থার ভিত্তিতে নয়, বরং ব্যক্তি হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়। তাই একজন সদস্য যত শেয়ারেরই মালিক হোন না কেন, তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণে একটির বেশি ভোট দিতে পারেন না। এটিই সমবায়ে সম-ভোটাধিকার।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সদস্যের প্রকৃতি বিচারে 'সৃজন' একটি 'পেশাভিত্তিক সমবায় সমিতি' (বা শ্রমিক/রিকশাচালক সমবায় সমিতি)।

    একই পেশার বা একই ধরনের জীবিকায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা নিজেদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বার্থ রক্ষার জন্য পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে যে সমবায় সমিতি গঠন করে, তাকে পেশাভিত্তিক সমবায় সমিতি বলে।

    উদ্দীপকে 'সৃজন' সমবায় সমিতির সকল সদস্য (১০০ জন) হলেন রিকশাচালক। তারা একই সমজাতীয় নিম্ন আয়ের পেশায় নিয়োজিত থেকে নিজেদের অর্থনৈতিক মুক্তি ও কল্যাণের উদ্দেশ্যে সমবায়টি গড়ে তুলেছেন। সদস্যদের একই পেশাগত পরিচয় থাকায় এটি সদস্যের প্রকৃতি বিচারে একটি পেশাভিত্তিক সমবায় সমিতি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে কার্যকরি কমিটি কর্তৃক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তটি আইনগত ও নীতিগত দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ যৌক্তিক।

    বাংলাদেশ সমবায় আইন অনুসারে, কোনো সমবায় সমিতির একজন একক সদস্য সমিতির মোট শেয়ার মূলধনের সর্বোচ্চ এক-পঞ্চমাংশ (১/৫ অংশ) বা ২০%-এর বেশি শেয়ার ক্রয় করতে পারেন না। এই বিধানের মূল উদ্দেশ্য হলো সমবায় সমিতিতে কোনো একক ব্যক্তির একচ্ছত্র আধিপত্য, শোষণ বা পুঁজিবাদী মানসিকতা রোধ করা এবং সমবায় নীতি ও পারস্পরিক সাম্য রক্ষা করা।

    উদ্দীপকে 'সৃজন' সমবায় সমিতির মোট শেয়ারের সংখ্যা ২০,০০০টি।
    আইন অনুযায়ী একজন সদস্যের সর্বোচ্চ শেয়ার ক্রয়ের সীমা =
    ২০,০০০ × (১/৫) = ৪,০০০টি শেয়ার।
    অথচ ঐ সদস্য একাই ৫,০০০টি শেয়ার ক্রয় করতে চেয়েছেন, যা মোট শেয়ারের (৫,০০০ ÷ ২০,০০০) = ২৫% বা এক-চতুর্থাংশ। এটি আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

    অতএব, আইনগত সীমা লঙ্ঘন করায় এবং সমবায়ের মূল স্পিরিট ও সাম্য বজায় রাখার স্বার্থে কার্যকরি কমিটি কর্তৃক উক্ত সদস্যের ৫ হাজার শেয়ার ক্রয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ সঠিক ও যৌক্তিক হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন