সমাজকর্ম ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
সীতানাথ বসু এবং রিয়াজুল ইসলাম একই গ্রামের বাসিন্দা। ধার্মিক ও দানশীল হিসাবে উভয়েরই গ্রামে যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। জীবন সায়াহ্নে এসে উভয়েই স্রষ্টার সন্তুষ্টি এবং জনকল্যাণের জন্য তাদের সম্পত্তির একটা বড় অংশ যে যার ধর্মমতে। আইনের সাহায্য নিয়ে দান করে দিলেন। উক্ত দানকৃত সম্পত্তির দ্বারা গ্রামে মন্দির মসজিদ, বিদ্যালয়সহ নানা জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান। গড়ে উঠতে লাগলো।
- ক)(1)
প্রাক শিল্প যুগের সমাজকল্যাণ ধারার নাম কী?
- খ)(2)
দানশীলতা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে সীতানাথ বসুর দান প্রথাটি তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে রিয়াজুল ইসলামের দান প্রথাটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাক-শিল্প যুগের সমাজকল্যাণ ধারার নাম সনাতন বা ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অসহায়, দরিদ্র ও বিপদগ্রস্ত মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে নিঃস্বার্থভাবে অর্থ, সম্পদ বা সেবা প্রদান করাকে দানশীলতা বলে। প্রাচীনকাল থেকেই ধর্মীয় অনুশাসন, মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে মানুষ দানশীলতার চর্চা করে আসছে, যা মূলত তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ব্যক্তি বা দলগত পর্যায়ে পরিচালিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সীতানাথ বসুর দান প্রথাটি হিন্দুধর্মীয় 'দেবোত্তর' প্রথাকে নির্দেশ করে।
হিন্দু আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি ধর্মীয় বা জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে দেবতার নামে স্থায়ীভাবে সম্পত্তি উৎসর্গ করলে তাকে দেবোত্তর সম্পত্তি বলা হয়। উৎসর্গীকৃত সম্পত্তির মালিকানা দেবতার ওপর ন্যস্ত থাকে এবং তা ক্রয়-বিক্রয় বা হস্তান্তরযোগ্য নয়। এ সম্পত্তি পরিচালনার জন্য একজন সেবাইত বা ট্রাস্টি নিয়োজিত থাকেন।
উদ্দীপকে সীতানাথ বসু ধর্মীয় বিশ্বাস ও জনকল্যাণার্থে নিজ ধর্মের নিয়ম মেনে আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পত্তি দান করেন, যা দিয়ে মন্দির, বিদ্যালয় ইত্যাদি গড়ে ওঠে। এটি সম্পূর্ণভাবে দেবোত্তর প্রথার বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রিয়াজুল ইসলামের দান প্রথাটি হলো ইসলাম ধর্মের ‘ওয়াক্ফ’ প্রথা, যার সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম।
ওয়াক্ফ হলো কোনো মুসলমান কর্তৃক আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে নিজস্ব স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি চিরতরে উৎসর্গ করা। এ সম্পত্তির মালিকানা একমাত্র আল্লাহর নামে সমর্পিত হয় এবং এটি পরিচালনা করেন একজন মুতাওয়াল্লি। ওয়াক্ফকৃত সম্পত্তি বিক্রি বা ব্যক্তিগত কাজে হস্তান্তর করা যায় না।
উদ্দীপকে রিয়াজুল ইসলাম ধর্মমতে আইনের মাধ্যমে সম্পত্তি দান করেন, যার মাধ্যমে মসজিদ ও বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়। ওয়াক্ফ প্রথা সমাজের দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা বিস্তার, স্বাস্থ্যসেবা ও অসহায়দের পুনর্বাসনে স্থায়ী আয়ের উৎস হিসেবে কাজ করে। এভাবে সামাজিক নিরাপত্তা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের বিকাশে ওয়াক্ফের গুরুত্ব অত্যন্ত ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও