সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব “ক” ১৯৭২ সালে যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত নিঃস্ব মানুষের পুনর্বাসনের জন্য একটি এনজিও প্রতিষ্ঠা করেন। যার উদ্দেশ্য ছিল গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়ন। গ্রামের দরিদ্র নারী আমেনা ও রাহেলা উক্ত এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ও সেলাইয়ের প্রশিক্ষণ নিয়ে সংসারে সচ্ছলতা নিয়ে আসে। বর্তমানে গ্রামের অনেক নারী তাদের সাথে কাজ করে।
- ক)(1)
গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা কে?
- খ)(2)
সামাজিক উন্নয়ন হল সমাজ কাঠামোগত উন্নয়ন - ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন এনজিওকে নির্দেশ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
গ্রামীণ নারীদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বর্ণিত কার্যাবলীর ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা হলেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক উন্নয়ন বলতে শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা আয় বৃদ্ধি বোঝায় না, বরং সমাজের মৌলিক কাঠামো অর্থাৎ সামাজিক স্তরবিন্যাস, প্রতিষ্ঠান, মূল্যবোধ, শ্রেণিসম্পর্ক ও প্রাতিষ্ঠানিক রীতিনীতির ইতিবাচক ও গুণগত পরিবর্তনকে বোঝায়। সমাজ কাঠামোর ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাজে বিদ্যমান অসমতা, দারিদ্র্য ও বঞ্চনা হ্রাস পায় এবং মানুষের জীবনমান ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হয়। এজন্য সামাজিক উন্নয়নকে সমাজ কাঠামোগত উন্নয়ন বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ব্র্যাক (BRAC - Bangladesh Rural Advancement Committee) নামক এনজিওটিকে নির্দেশ করা হয়েছে।
স্যার ফজলে হাসান আবেদ ১৯৭২ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুহারা মানুষদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে এটি গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়নে বহুমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'জনাব ক' ১৯৭২ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের পুনর্বাসনের জন্য এনজিওটি প্রতিষ্ঠা করেন, যা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ব্র্যাক ও এর প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের উদ্যোগকে প্রতিফলিত করে। এই প্রতিষ্ঠানটি ঋণদান ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণ দিয়ে গ্রামীণ নারীদের সাবলম্বী করে তোলে, যা উদ্দীপকের আমেনা ও রাহেলার সেলাই প্রশিক্ষণ ও ঋণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনের বর্ণনার সাথে সরাসরি মিলে যায়। সুতরাং, উদ্দীপকে নির্দেশিত এনজিওটি হলো ব্র্যাক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গ্রামীণ নারীদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে উদ্দীপকে বর্ণিত ক্ষুদ্রঋণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের ভূমিকা অত্যন্ত কার্যকর ও সুদূরপ্রসারী।
প্রথমত, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে ক্ষুদ্রঋণ মূলধন হিসেবে কাজ করে। দরিদ্র নারীরা জামানতবিহীন ঋণ গ্রহণ করে নিজেদের ক্ষুদ্র ব্যবসা, হাঁস-মুরগি পালন বা হস্তশিল্প গড়ে তোলে। উদ্দীপকে আমেনা ও রাহেলা সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে ও ঋণ গ্রহণ করে সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছে, যা সরাসরি তাঁদের অর্থনৈতিক মুক্তির পথ তৈরি করে।
দ্বিতীয়ত, নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীরা দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত হয়। ফলে শুধু নিজেদের পরিবারেই নয়, সমাজে অন্যান্য নারীদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে, যা উদ্দীপকে অন্যান্য নারীদের তাদের সাথে কাজ করার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
তৃতীয়ত, অর্থনৈতিক মুক্তির পাশাপাশি নারীদের সামাজিক মর্যাদা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। পরিবারে নারীর মতামত গুরুত্ব পায় এবং সমাজে তাদের ক্ষমতায়ন ঘটে।
সুতরাং, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্রঋণের মতো কার্যক্রম গ্রামীণ দরিদ্র নারীদের পরনির্ভরশীলতা দূর করে তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও সামগ্রিক ক্ষমতায়নে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও