কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • ফল ও শাকসবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

সুমনার বাগানে আম, জলপাই, চালতার গাছ আছে। তাদের জমিতে চাল কুমড়া চাষ হয়। এসব ফল সংরক্ষণের ব্যাপারে তারা কম জানত বলে নষ্ট হয়ে যেত। দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী সুমনা তার মাকে বলল, তারা দুজনে মিলে ফলগুলো প্রক্রিয়াজাত করে মুখরোচক খাদ্যদ্রব্য বানাবে। সুমনা ও তার মা আম, জলপাই ও চালতা লবণ ও ভিনেগার দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করল। অতঃপর চাল কুমড়ার খোসা ছাড়িয়ে বড় বড় টুকরা করে ঘন চিনির দ্রবণে জাল দিয়ে সংরক্ষণ করে রাখল। বাড়ির সবাই মুখরোচক এসব খাবার খেয়ে খুশি হল।

  1. ক)

    কিউরিং কী?

    (1)
  2. খ)

    ফল ও শাকসবজি পচে কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আম, জলপাই, চালতা দ্বারা তৈরিকৃত প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    সুমনা ও তার মায়ের গৃহীত কার্যক্রমের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ফসল তোলার পর এর আর্দ্রতা কমিয়ে সংরক্ষণ উপযোগী করার প্রাথমিক প্রক্রিয়াকরণকে কিউরিং (Curing) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ফল ও শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে এবং এদের নিজস্ব বিভিন্ন এনজাইমের সক্রিয়তার কারণে প্রাকৃতিক ভাঙন প্রক্রিয়া শুরু হয়। এছাড়া ব্যাকটেরিয়া, ঈস্ট ও ছত্রাকের মতো অণুজীবের আক্রমণ ও দ্রুত বংশবৃদ্ধির ফলে ফল ও শাকসবজির রাসায়নিক রূপান্তর ঘটে। উপযুক্ত তাপমাত্রা ও আর্দ্রতায় এসব জীবাণু দ্রুত খাদ্যবস্তু পচিয়ে ফেলে এবং খাওয়ার অনুপযোগী করে তোলে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আম, জলপাই ও চালতা দ্বারা লবণ ও ভিনেগার ব্যবহার করে মুখরোচক যে খাদ্যদ্রব্য তৈরি করা হয়েছে, তা হলো 'আচার' তৈরির প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতি।

    পদ্ধতিটি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. ফল প্রস্তুতি: প্রথমে আম, জলপাই ও চালতা ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে নির্দিষ্ট আকারে টুকরো করে নেওয়া হয়।
    ২. লবণ প্রয়োগ: টুকরোগুলোতে লবণ মাখিয়ে রোদে শুকিয়ে অতিরিক্ত পানি দূর করা হয়। লবণ অণুজীবের জন্য প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করে এবং জলীয় অংশ টেনে বের করে।
    ৩. মশলা ও তেলের ব্যবহার: বিভিন্ন সুগন্ধি মশলা এবং সরিষার তেলে ফলগুলো ভালোভাবে কষানো বা জ্বাল দেওয়া হয়। তেল ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে বাতাসের অক্সিজেন বাধাগ্রস্ত করে।
    ৪. ভিনেগার (অ্যাসিটিক এসিড) সংযোজন: দ্রবণে ভিনেগার যোগ করা হয়, যা খাদ্যের পিএইচ (pH) কমিয়ে অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে। এই অম্লীয় পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক বাঁচতে পারে না।

    এভাবে লবণ ও ভিনেগার প্রিজারভেটিভ হিসেবে কাজ করে ফলগুলোকে দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য ও মুখরোচক খাদ্যে রূপান্তরিত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সুমনা ও তার মায়ের গৃহীত কার্যক্রমটি হলো ফল ও সবজির অপচয় রোধে প্রক্রিয়াজাতকরণ (আচার ও মোরব্বা তৈরি), যা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ। নিচে এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. খাদ্য অপচয় রোধ: মৌসুমে প্রচুর ফল ও সবজি একসাথে উৎপাদিত হলে সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করার কারণে নষ্ট হয়ে যায়। প্রক্রিয়াজাতকরণের ফলে এসব অপচয় পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
    ২. পুষ্টি নিরাপত্তা বিধান: মৌসুম ছাড়াও অসময়ে এসব খাদ্য থেকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের চাহিদা পূরণ করা যায়।
    ৩. মুখরোচক ও বৈচিত্র্যময় খাদ্য তৈরি: কাঁচা ফল ও সবজিকে লবণ, চিনি ও ভিনেগার দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে অত্যন্ত সুস্বাদু আচার ও মোরব্বায় রূপান্তর করে খাদ্যে বৈচিত্র্য আনা যায়।
    ৪. অর্থনৈতিক সাশ্রয় ও উপার্জনের সুযোগ: ঘরে তৈরি প্রক্রিয়াজাত খাবার বাইরের কেনা পণ্যের খরচ বাঁচায়। এছাড়া অতিরিক্ত পণ্য বাজারে বিক্রি করে কুটির শিল্পের রূপ দেওয়া যায়, যা পারিবারিক আয় বাড়াতে পারে।
    ৫. দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ: লবণ, চিনি ও ভিনেগার প্রাকৃতিক সংরক্ষক হিসেবে খাদ্যকে জীবাণুমুক্ত ও দীর্ঘদিন ভালো রাখতে সাহায্য করে।

    সুতরাং, ফল ও সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ করে সুমনা ও তার মা পারিবারিক খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সাশ্রয়ে এক দৃষ্টান্তমূলক ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন