অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
নিজের ছকটি লক্ষ্য কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও :

- ক)(1)
মাঝারি শিল্প কাকে বলে?
- খ)(2)
ফার্ম ও শিল্পের মূল পার্থক্য কি?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পের সমস্যা গুলো চিহ্নিত কর।
- ঘ)(4)
আমদানি বিকল্প হিসেবে উক্ত শিল্পের ভূমিকা আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী, উৎপাদনমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি ও কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১৫ কোটি টাকার অধিক এবং অনূর্ধ্ব ৫০ কোটি টাকা অথবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ১২১ থেকে ৩০০ জন শ্রমিক নিয়োজিত থাকে, তাকে মাঝারি শিল্প বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফার্ম ও শিল্পের মূল পার্থক্য হলো পরিধি ও কাঠামোগত অবস্থানে।
ফার্ম হলো একক মালিকানা বা ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত একটি স্বতন্ত্র উৎপাদন প্রতিষ্ঠান, যা নির্দিষ্ট কোনো দ্রব্য বা সেবা উৎপাদনের সাথে যুক্ত থাকে। অন্যদিকে, একই ধরনের বা সমজাতীয় দ্রব্য উৎপাদনে নিয়োজিত সমস্ত ফার্মের সমষ্টিকে একত্রে শিল্প বলা হয়। অর্থাৎ, ফার্ম হলো শিল্পের একটি ক্ষুদ্র অংশ বা একক এবং শিল্প হলো ফার্মসমূহের সামগ্রিক রূপ। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কাঁচাপাট ও পাটজাত দ্রব্যের পরিসংখ্যানের মাধ্যমে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী 'পাটশিল্প'-এর চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ছকটিতে দেখা যায়, পাটজাত পণ্যের আয় বা উৎপাদন ২০২০-২১ অর্থবছরে বৃদ্ধি পেলেও ২০২১-২২ অর্থবছরে তা পুনরায় হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশের পাটশিল্প বর্তমানে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন, যা নিচে আলোচনা করা হলো:
১. আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব ও পুরনো প্রযুক্তি: অধিকাংশ পাটকলে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি পুরনো ও সেকেলে হওয়ায় উৎপাদনশীলতা কম এবং উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক বেশি।
২. কৃত্রিম তন্তুর সাথে প্রতিযোগিতা: বাজারে সিনথেটিক ও পলিথিন পণ্যের সহজলভ্যতা ও কম মূল্যের কারণে পাটজাত পণ্যের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে।
৩. মূলধনের সংকট: প্রয়োজনীয় চলতি মূলধন ও সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগের ঘাটতি এ শিল্পের আধুনিকায়নে বড় বাধা।
৪. সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও দক্ষ শ্রমিকের অভাব: রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলোতে অব্যবস্থাপনা, লোকসান এবং কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ শ্রমিকের স্বল্পতা অন্যতম প্রধান সমস্যা।
৫. বাজারজাতকরণ ও বহুমুখীকরণের অভাব: আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবর্তিত রুচি অনুযায়ী পাটজাত দ্রব্যের বৈচিত্র্যকরণ এবং কার্যকর বিপণন কৌশলের ঘাটতি রয়েছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পটি হলো বাংলাদেশের পাটশিল্প। আমদানি বিকল্প শিল্প হিসেবে পাটশিল্পের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময়।
আমদানি বিকল্পায়ন বলতে বোঝায় যেসব পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, সেগুলো দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদন করে আমদানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস করা। পাটশিল্প এ ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত ভূমিকা পালন করতে পারে:
১. সিনথেটিক ও প্লাস্টিক পণ্যের বিকল্প: দেশে প্যাকেজিং এবং বিভিন্ন কাজে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক ও সিনথেটিক কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ, বস্তা ও মোড়ক তৈরির মাধ্যমে এ ধরনের ক্ষতিকর দ্রব্যের আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব।
২. বস্ত্র ও গৃহসজ্জা সামগ্রী: পাট ও তুলার মিশ্রণে তৈরি সুতা দ্বারা কাপড় তৈরি করে বস্ত্র খাতের আমদানি নির্ভরতা কমানো যায়। এছাড়া পর্দা, কার্পেট, কুশন কভার ও ম্যাটের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পাটের মাধ্যমে পূরণ করা যায়।
৩. বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়: পাটজাত নানাবিধ পণ্য যেমন—জিও-টেক্সটাইল, কাগজের মণ্ড বা পাল্প ইত্যাদি দেশেই উৎপাদন করা গেলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, যা অন্য উন্নয়নমূলক খাতে ব্যবহার করা সম্ভব।
৪. সোনালী ব্যাগ ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের বাজার: সম্প্রতি আবিষ্কৃত পাটের পলিথিন বা ‘সোনালী ব্যাগ’ প্রচলিত পলিথিনের সম্পূর্ণ বিকল্প হতে পারে, যা পলিথিন তৈরির আমদানি করা পেট্রোকেমিক্যালস উপাদানের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।অতএব, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে পাটশিল্পকে কার্যকরভাবে আমদানি বিকল্প শিল্প হিসেবে গড়ে তুলে দেশের অর্থনীতিকে স্বনির্ভর করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও