অর্থনীতি ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

'Y' দেশের ২০২৩ সালের সামগ্রিক দামস্তর ১৫০ টাকা। ২০২৪ সালে সামগ্রিক দামস্তর হয় ২২০ টাকা, যা একটি জাতীয় সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দামস্তরের এরূপ পরিবর্তনের ফলে নির্দিষ্ট আয়ের লোক, শ্রমজীবী, স্বল্প আয়ের লোক এবং ক্রেতা ও ভোগকারীর ওপর এক ধরনের প্রভাব পড়ে। অন্যদিকে ঋণগ্রহীতা, উৎপাদনকারী, ব্যবসায়ী শ্রেণি ও করদাতা ইত্যাদির ওপর আরেক ধরনের প্রভাব পড়ে।

  1. ক)

    যুদ্ধকালীন মুদ্রাস্ফীতি কী?

    (1)
  2. খ)

    চাহিদার বৃদ্ধিজনিত ও.ব্যয় বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতির মধ্যে পার্থক্য লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'Y' দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয় করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের প্রভাবসমূহ কি একই? তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুদ্ধ পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত অর্থসংস্থান ও সামরিক ব্যয় মেটানোর লক্ষ্যে সরকার যখন অতিরিক্ত বিহিত মুদ্রা বা নোট ইস্যু করে, তার ফলে সৃষ্ট সামগ্রিক দামস্তরের ঊর্ধ্বগতিকে যুদ্ধকালীন মুদ্রাস্ফীতি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চাহিদা বৃদ্ধিজনিত ও ব্যয় বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতির মধ্যে মূল পার্থক্যগুলো নিম্নরূপ:
    ১. কারণগত পার্থক্য: সামগ্রিক জোগানের তুলনায় সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে যে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হয়, তাকে চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি বলে। অপরদিকে, কাঁচামালের দাম, শ্রমিকের মজুরি বা উৎপাদন ব্যয়ের অন্যান্য উপাদান বৃদ্ধির ফলে সামগ্রিক জোগান হ্রাস পেয়ে যে মুদ্রাস্ফীতি ঘটে, তাকে ব্যয় বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি বলে।
    ২. রেখাচিত্রের শিফট: চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতিতে সামগ্রিক চাহিদা রেখা (AD) ডানদিকে স্থানান্তরিত হয়। কিন্তু ব্যয় বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতিতে সামগ্রিক জোগান রেখা (AS) বামদিকে স্থানান্তরিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী,
    ভিত্তি বছর ২০২৩ সালের সামগ্রিক দামস্তর (P0P_0) = ১৫০ টাকা
    চলতি বছর ২০২৪ সালের সামগ্রিক দামস্তর (P1P_1) = ২২০ টাকা

    মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয়ের সূত্র:
    মুদ্রাস্ফীতির হার = P1−P0P0×১০০\frac{P_1 - P_0}{P_0} \times ১০০

    মান বসিয়ে পাই,
    মুদ্রাস্ফীতির হার = ২২০−১৫০১৫০×১০০\frac{২২০ - ১৫০}{১৫০} \times ১০০
    = ৭০১৫০×১০০\frac{৭০}{১৫০} \times ১০০
    = ৪৬.৬৭% (প্রায়)

    অতএব, 'Y' দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার ৪৬.৬৭%।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভিন্ন শ্রেণির ওপর মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবসমূহ একই নয়; বরং তা পরস্পর বিপরীতমুখী ও বৈষম্যমূলক।

    মুদ্রাস্ফীতির ফলে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়। ফলে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির ওপর এর প্রভাব ভিন্ন ভিন্ন হয়:
    ১. নির্দিষ্ট ও স্বল্প আয়ের মানুষ এবং শ্রমজীবী শ্রেণি: মুদ্রাস্ফীতির কারণে পণ্যমূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও চাকরিজীবী বা শ্রমিকদের আর্থিক আয় সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে না। ফলে তাদের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমে যায় এবং জীবনযাত্রার মান হ্রাস পায়। একইভাবে ক্রেতা ও সাধারণ ভোক্তারা অধিক মূল্যে পণ্য কিনতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
    ২. উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা শ্রেণি: পণ্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে ব্যবসায়ী ও উৎপাদকদের মুনাফার পরিমাণ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়, কারণ তারা আগের কম ব্যয়ে উৎপাদিত পণ্য বা মজুত পণ্য বেশি দামে বিক্রি করতে পারেন।
    ৩. ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতা: ঋণগ্রহীতারা মুদ্রাস্ফীতির ফলে লাভবান হন, কারণ তারা যে সময় ঋণ নিয়েছিলেন তখনকার তুলনায় পরিশোধের সময় অর্থের প্রকৃত মূল্য বা ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়। পক্ষান্তরে ঋণদাতারা ক্ষতিগ্রস্ত হন।
    ৪. করদাতা: প্রগতিশীল কর ব্যবস্থার ক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতির সময় আর্থিক আয় বাড়ায় উচ্চ করের আওতায় পড়তে হতে পারে, তবে নির্দিষ্ট অঙ্কের করের প্রকৃত ভার কমে যায়।

    সুতরাং, মুদ্রাস্ফীতি ধনী-উৎপাদক-ব্যবসায়ী শ্রেণিকে লাভবান করলেও সাধারণ ক্রেতা, শ্রমিক ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষকে মারাত্মক অর্থনৈতিক দুর্দশায় ফেলে। তাই প্রভাবসমূহ কখনোই এক নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন