রসায়ন ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
রসায়ন ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
আয়োডোমিতি কাকে বলে?
- খ)(2)
ল্যাকটিক এসিডের আলোক সমাণুতা ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের চুল্লীতে সংঘটিত বিক্রিয়াসমূহ লেখ।
- ঘ)(4)
পরিবেশ এবং অর্থনৈতিক উভয় ক্ষেত্রে A এর রিসাইকেল অতি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো জারক পদার্থের সাথে আয়োডাইডের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন মুক্ত আয়োডিনকে প্রমাণ সোডিয়াম থায়োসালফেট দ্রবণ দ্বারা টাইট্রেশন করে জারক পদার্থের পরিমাণ বা ঘনমাত্রা নির্ণয় করার পদ্ধতিকে আয়োডোমিতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ল্যাকটিক এসিডে [] একটি অপ্রতিসম বা কাইরাল কার্বন পরমাণু বিদ্যমান। কাইরাল কার্বনের সাথে চারটি ভিন্ন মূলক বা পরমাণু (, , , ) যুক্ত থাকায় এটি আলোক সক্রিয়তা প্রদর্শন করে।
ল্যাকটিক এসিডের দুটি ত্রিমাত্রিক রূপ বা এনানশিওমার পাওয়া যায়, যা পরস্পরের দর্পণ প্রতিবিম্ব কিন্তু একে অপরের উপর উপরিপাতনযোগ্য নয়। এর একটি রূপ এক-বর্ণী সমতল সমবর্তিত আলোর তলকে ডান দিকে আবর্তন করায় একে d-ল্যাকটিক এসিড বা (+)-ল্যাকটিক এসিড বলে। অপর রূপটি সমবর্তিত আলোর তলকে সমপরিমাণ কোণে বাম দিকে আবর্তন করায় একে l-ল্যাকটিক এসিড বা (-)-ল্যাকটিক এসিড বলে। এভাবেই ল্যাকটিক এসিড আলোক সমাণুতা প্রদর্শন করে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ফ্লোচার্টটি কাঁচ (A) তৈরির শিল্পোৎপাদন প্রক্রিয়া নির্দেশ করছে। কাঁচ তৈরিতে চুল্লীতে উচ্চ তাপমাত্রায় (প্রায় ১৪০০°C – ১৫০০°C) কাঁচামালগুলোর (সিলিকা, চুনাপাথর, সোডাঅ্যাশ) মধ্যে নিম্নলিখিত রাসায়নিক বিক্রিয়াসমূহ সংঘটিত হয়:
১. সিলিকার সাথে সোডাঅ্যাশের বিক্রিয়ায় সোডিয়াম সিলিকেট উৎপন্ন হয়:
২. সিলিকার সাথে চুনাপাথরের বিক্রিয়ায় ক্যালসিয়াম সিলিকেট উৎপন্ন হয়:
৩. সামগ্রিকভাবে সোডিয়াম সিলিকেট, ক্যালসিয়াম সিলিকেট এবং অতিরিক্ত সিলিকা পরস্পর যুক্ত হয়ে কাঁচ বা সোডা-লাইম কাঁচের জটিল সমসত্ত্ব মিশ্রণ গঠন করে:
(কাঁচ) - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রস্তুতকৃত উৎপাদ 'A' হলো কাঁচ। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অর্থনৈতিক লাভ উভয়ের প্রেক্ষাপটেই কাঁচ বা কাঁচের ভগ্নাবশেষের (কিউলেট) রিসাইকেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
পরিবেশগত গুরুত্ব:
১. কাঁচ একটি অপচনশীল পদার্থ। এটি মাটিতে ফেললে তা মাটির উর্বরতা নষ্ট করে এবং জলজ পরিবেশ দূষিত করে। রিসাইকেলের মাধ্যমে কাঁচ বর্জ্যের স্তূপ হ্রাস পায়।
২. নতুন কাঁচ তৈরিতে প্রাকৃতিক কাঁচামাল যেমন সিলিকা বালি, চুনাপাথর উত্তোলনের প্রয়োজন হয়, যা পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট করে। রিসাইকেল করলে এই প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদের অপচয় রোধ হয়।
৩. ভাঙা কাঁচের গলনাঙ্ক নতুন কাঁচামালের চেয়ে কম হওয়ায় চুল্লীতে কম তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়। এর ফলে কম জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়াতে হয় এবং বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাস () নিঃসরণ বহুলাংশে হ্রাস পায়।অর্থনৈতিক গুরুত্ব:
১. জ্বালানি খরচ সাশ্রয়: কাঁচ রিসাইকেল করে পুনরায় প্রক্রিয়াকরণ করতে প্রায় ৩০-৪০% শক্তি ও জ্বালানি সাশ্রয় হয়, যা শিল্পকারখানার উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়।
২. কাঁচামাল খরচ সাশ্রয়: নতুন কাঁচামাল (সোডাঅ্যাশ, বালি ইত্যাদি) ক্রয়ের পেছনে যে বিশাল ব্যয় হয়, ব্যবহৃত বা ভাঙা কাঁচ পুনরায় ব্যবহার করায় সেই খরচ বেঁচে যায়।
৩. যন্ত্রপাতি বা চুল্লীর দীর্ঘস্থায়িত্ব: কিউলেট ব্যবহারে চুল্লী কম তাপমাত্রায় কাজ করতে পারে, যার ফলে চুল্লীর অবক্ষয় কম হয় এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ সাশ্রয় হয়।
৪. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বর্জ্য কাঁচ সংগ্রহ, পৃথকীকরণ ও পুনর্ব্যবহার প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।সুতরাং, কাঁচ রিসাইকেলিং পরিবেশ দূষণ রোধ ও সম্পদ সংরক্ষণের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত লাভজনক একটি প্রক্রিয়া।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও