পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
কত তারিখে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে?
- খ)(2)
বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য লেখো
- গ)(3)
উদ্দীপকে প্রশ্ন (?) চিহ্নিত স্থানের সংস্থাটি গঠনের প্রেক্ষাপট সংক্ষেপে বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
পারস্পরিক সম্পর্ক ও স্বার্থ রক্ষায় উত্ত সংস্থার ভূমিকা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭৪ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্যপদ লাভ করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো জাতীয় সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা। বাংলাদেশ সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হলো 'সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়'। এর উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্বের সকল দেশের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখা, অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তি এবং সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামরত নিপীড়িত জনগণের পাশে থাকা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রশ্নবোধক (?) চিহ্নিত স্থানের সংস্থাটি হলো 'সার্ক' (SAARC - South Asian Association for Regional Cooperation)।
সার্ক গঠনের প্রেক্ষাপট সংক্ষেপে নিম্নে বর্ণনা করা হলো:
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ভৌগোলিক সান্নিধ্য, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক নৈকট্য সত্ত্বেও রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পারস্পরিক আস্থার অভাব বিদ্যমান ছিল। এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, সামাজিক প্রগতি এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে একটি আঞ্চলিক সহযোগিতামূলক ফোরামের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। ১৯৭০-এর দশকের শেষভাগে বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একটি প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার ধারণা প্রস্তাব করেন। তিনি ১৯৮০ সালে দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠান। পরবর্তীতে দীর্ঘ কূটনৈতিক তৎপরতা ও পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে ১৯৮৫ সালের ৮ই ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম শীর্ষ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সার্ক (SAARC) প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে সাতটি সদস্য রাষ্ট্র (বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপ) নিয়ে গঠিত হলেও ২০০৭ সালে আফগানিস্তান এর অষ্টম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত সংস্থাটি হলো 'সার্ক'। পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থ রক্ষায় সংস্থাটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। নিচে সার্কের ভূমিকা মূল্যায়ন করা হলো:
১. অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা: দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় সার্ক 'সাফটা' (SAFTA - South Asian Free Trade Area) চুক্তি প্রণয়ন করেছে, যার লক্ষ্য বাণিজ্য বাধা দূরীকরণ এবং শুল্কমুক্ত সুবিধা নিশ্চিত করা।
২. মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন: সার্ক দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসারে বিভিন্ন আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপন করে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর তথ্য ও সম্পদ বিনিময়ে এটি ভূমিকা রাখছে।
৩. সন্ত্রাসবাদ দমন: এ অঞ্চলের যৌথ স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সার্ক কনভেনশন অন সাবপ্রেশন অব টেররিজম স্বাক্ষরিত হয়, যা পারস্পরিক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সহায়ক।
৪. সীমাবদ্ধতা ও দ্বিপাক্ষিক টানাপোড়েন: সার্কের চার্টার অনুযায়ী দ্বিপাক্ষিক ও বিতর্কিত বিষয় আলোচনা করার সুযোগ নেই। ভারত ও পাকিস্তানের মতো প্রধান সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক বৈরিতা এবং রাজনৈতিক আস্থার অভাবের কারণে সংস্থাটির স্বাভাবিক কার্যক্রম প্রায়শই ব্যাহত হয় এবং শীর্ষ সম্মেলনগুলো নিয়মিত অনুষ্ঠিত হতে পারে না।পরিশেষে বলা যায়, নানাবিধ ভূ-রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সত্ত্বেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পারস্পরিক সম্প্রীতি, শান্তি রক্ষা এবং যৌথ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বার্থে সার্ক একটি কার্যকর ও সম্ভাব্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিদ্যমান। পারস্পরিক আস্থা ও অঙ্গীকার বৃদ্ধি পেলে সার্ক তার লক্ষ্য অর্জনে আরো জোরালো ভূমিকা পালন করতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও