জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    স্থূলতা কী?

    (1)
  2. খ)

    রাসায়নিক পরিপাক বলতে কী বুঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের C অংশটির গঠন ও কাজ ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের A ও B অংশ কীভাবে সম্মিলিতভাবে পরিপাক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শরীরে অতিরিক্ত চর্বি বা মেদ জমার কারণে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির সৃষ্টি হলে সেই দৈহিক অবস্থাকে স্থূলতা (Obesity) বলে। সাধারণত BMI ৩০ বা তার বেশি হলে তাকে স্থূলতা বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে প্রক্রিয়ায় পরিপাক নালিতে বিভিন্ন পরিপাক গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত এনজাইম ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতিতে জটিল, অদ্রবণীয় ও অশোষণযোগ্য খাদ্য উপাদান ভেঙে সরল, দ্রবণীয় এবং কোষে শোষণোপযোগী উপাদানে পরিণত হয়, তাকে রাসায়নিক পরিপাক বলে। যেমন—অ্যামাইলেজ, পেপসিন ও লাইপেজ এনজাইমের প্রভাবে যথাক্রমে শর্করা, আমিষ ও লিপিডের বিশ্লেষণ ঘটে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিহ্নিত C অংশটি হলো অগ্ন্যাশয় (Pancreas)। নিচে এর গঠন ও কাজ ব্যাখ্যা করা হলো:

    গঠন:
    ১. অগ্ন্যাশয় পাকস্থলীর নিচে ডিওডেনামের 'U' আকৃতির বাঁকে অবস্থিত একটি চ্যাপ্টা ও মাংসল মিশ্র গ্রন্থি। এটি দেখতে অনেকটা মরিচ বা পাতার মতো এবং এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১২–১৫ সেমি।
    ২. এটি প্রধানত চারটি অংশে বিভক্ত—মস্তক (Head), দেহ (Body), গ্রীবা (Neck) এবং লেজ (Tail)।
    ৩. অগ্ন্যাশয়ের ভেতরের নালিকে উইরসাং-এর নালি (Duct of Wirsung) বলে, যা সাধারণ পিত্তনালির সাথে মিলিত হয়ে হেপাটোপ্যানক্রিয়াটিক অ্যাম্পুলা গঠন করে ডিওডেনামে উন্মুক্ত হয়।
    ৪. কলাতাত্ত্বিকভাবে অগ্ন্যাশয়ে দুই ধরনের অংশ রয়েছে: বহিঃক্ষরা অংশ (অ্যাসিনাস বা অ্যাসিনাই—যা এনজাইম ক্ষরণ করে) এবং অন্তঃক্ষরা অংশ (আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স—যা হরমোন ক্ষরণ করে)।

    কাজ:
    ১. বহিঃক্ষরা কাজ: অগ্ন্যাশয় রস ক্ষরণ করে যাতে ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন, অ্যামাইলেজ, লাইপেজ ইত্যাদি পাচক এনজাইম থাকে। এগুলো প্রোটিন, শর্করা ও লিপিড পরিপাকে সহায়তা করে।
    ২. অন্তঃক্ষরা কাজ: আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স থেকে গ্লুকাগন (আলফা কোষ), ইনসুলিন (বিটা কোষ), সোমাটোস্ট্যাটিন (ডেল্টা কোষ) ও প্যানক্রিয়াটিক পলিপেপটাইড (পিপি বা এফ কোষ) ক্ষরিত হয়। ইনসুলিন ও গ্লুকাগন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে প্রধান ভূমিকা পালন করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত A অংশটি হলো যকৃত (Liver) এবং B অংশটি হলো পিত্তথলি (Gallbladder)। এরা উভয়ে পরিপাকতন্ত্রে সম্মিলিতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. পিত্তরস উৎপাদন ও সংরক্ষণ: যকৃতের হেপাটোসাইট কোষে অবিরাম পিত্তরস (Bile) উৎপাদিত হয়। উৎপাদিত পিত্তরস যকৃত নালি দিয়ে এসে পিত্তথলিতে (B) জমা হয়। পিত্তথলি কেবল পিত্তরস জমা রাখে না, বরং এর জলীয় অংশ শোষণ করে একে অধিক ঘনীভূত করে।

    ২. পিত্তরস ক্ষরণ ও নিয়ন্ত্রণ: পাকস্থলীতে খাদ্যমণ্ড তৈরি হওয়ার পর তা ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনামে পৌঁছালে সেখানে থাকা ফ্যাটের উপস্থিতিতে এন্টেরোক্রাইনিনের প্রভাবে পিত্তথলি সংকুচিত হয়। এর ফলে সাধারণ পিত্তনালির মাধ্যমে ঘনীভূত পিত্তরস ডিওডেনামে প্রবেশ করে।

    ৩. অম্লত্ব প্রশমন ও ক্ষারীয় পরিবেশ সৃষ্টি: পাকস্থলী থেকে ডিওডেনামে আসা হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডযুক্ত অ্যাসিডিক কাইমকে পিত্তরসের ক্ষারীয় উপাদানসমূহ (যেমন—সোডিয়াম বাইকার্বনেট) প্রশমিত করে। এটি অগ্ন্যাশয় ও অন্ত্রীয় এনজাইমের সক্রিয়তার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষারীয় পরিবেশ তৈরি করে।

    ৪. স্নেহদ্রব্যের ইমালসিফিকেশন: পিত্তরসে থাকা পিত্তলবণ (সোডিয়াম গ্লাইকোকোলেট এবং সোডিয়াম তাওরোকোলেট) বড় বড় লিপিড অণুকে ভেঙে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ফোঁটায় পরিণত করে। এই প্রক্রিয়াকে ইমালসিফিকেশন (Emulsification) বলে। এর ফলে স্নেহ পদার্থের পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি পায় এবং অগ্ন্যাশয়ের লাইপেজ এনজাইমের কার্যকর ক্রিয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

    ৫. শোষণ ও পরিবহন: পিত্তলবণ ফ্যাটি অ্যাসিড, মনোগ্লিসারাইড এবং স্নেহ-দ্রবণীয় ভিটামিন (A, D, E, K) শোষণে মিচেল (Micelle) গঠনের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ সহায়তা করে।

    সুতরাং, যকৃত (A) পিত্তরস সংশ্লেষণ করে এবং পিত্তথলি (B) তা সঞ্চয়, ঘনীভবন ও সময়মতো নিঃসৃত করে মানবদেহের খাদ্য পরিপাক, বিশেষত লিপিড পরিপাকে অবিচ্ছেদ্য ও সমন্বিত ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন