মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: দৃশ্যকল্প-২: ছবি ও দিবা দুই বোন। ছবি বাস্তববাদী। তার কাছে অর্থ উপার্জন নৈতিকতার চেয়েও বেশি। অন্যদিকে দিবা সৌন্দর্যপিপাসু এবং সে সবকিছুর মধ্যেই সৌন্দর্য খুঁজে পায়।
- ক)(1)
মূল্যবোধ কী?
- খ)(2)
কেন মূল্যবোধকে সমাজের চালিকাশক্তি বলা হয়?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এর চিহ্নিত চিত্রটি কীভাবে ব্যক্তির মূল্যবোধ গঠনে ভূমিকা রাখে?
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এ ছবি ও দিবার মূল্যবোধগুলোর তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মূল্যবোধ হলো মানুষের এমন কিছু স্থায়ী ও সুদৃঢ় বিশ্বাস বা মানদণ্ড, যা তার আচরণ, পছন্দ-অপছন্দ এবং ভালো-মন্দ বিচারকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মূল্যবোধ হলো একটি সমাজের ভিত্তিপ্রস্তর, যা সমাজকে সুসংহত ও সুশৃঙ্খল রাখে। মূল্যবোধ ব্যক্তির আচরণকে সমাজস্বীকৃত পথে পরিচালিত করে এবং সামাজিক শৃঙ্খলা, ন্যায়বিচার, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতা বজায় রাখতে উদ্বুদ্ধ করে। যে সমাজে ইতিবাচক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত থাকে, সে সমাজ প্রগতি ও শান্তির পথে এগিয়ে যায়। তাই সমাজকে গতিশীল, ঐক্যবদ্ধ ও সঠিকভাবে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে এর অপরিসীম ভূমিকার কারণে মূল্যবোধকে সমাজের চালিকাশক্তি বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এর চিহ্নিত চিত্রে একটি 'পরিবার'-এর চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। ব্যক্তির মূল্যবোধ গঠনে পরিবার সবচেয়ে প্রাথমিক ও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে।
একটি শিশুর মূল্যবোধ অর্জনের প্রক্রিয়া শুরু হয় পারিবারিক পরিমণ্ডলে। পিতামাতা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের আচরণ, দৃষ্টিভঙ্গি, ধর্মীয় ও নৈতিক বিশ্বাস শিশু নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং তা অনুকরণ করার চেষ্টা করে। শৈশবে পরিবারের মাধ্যমে শিশু সত্যবাদিতা, সততা, সহমর্মিতা, বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা এবং অন্যায়ের প্রতি ঘৃণা শিখতে পারে।
পরিবারে অনানুষ্ঠানিক শিক্ষার মধ্য দিয়ে শিশু ভালো-মন্দের পার্থক্য বোঝে এবং সামাজিক রীতিনীতির সঙ্গে পরিচিত হয়। পরিবারে দেওয়া পুরস্কার ও শাস্তির মাধ্যমে কোন আচরণ সমাজের চোখে গ্রহণযোগ্য আর কোনটি বর্জনীয়, তা শিশুর মনে প্রোথিত হয়। এভাবে দৃশ্যকল্প-১ এর পরিবার ব্যক্তির প্রাথমিক সামাজিকীকরণ ঘটিয়ে তার স্থায়ী জীবনদৃষ্টি ও মূল্যবোধ গঠনে ভিত্তি স্থাপন করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২-এ সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানী এডুয়ার্ড স্প্র্যাঞ্জার (Eduard Spranger)-এর মূল্যবোধের শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী দুই ধরনের মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। ছবির ক্ষেত্রে 'অর্থনৈতিক মূল্যবোধ' (Economic Value) এবং দিবার ক্ষেত্রে 'নান্দনিক মূল্যবোধ' (Aesthetic Value) প্রতিফলিত হয়েছে। নিচে এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:
১. দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য: ছবি বাস্তববাদী এবং তার প্রাধান্য হলো অর্থ উপার্জন ও উপযোগিতা। অর্থাৎ, সে কোনো কাজের উপযোগিতা, লাভ-ক্ষতি এবং অর্থনৈতিক স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেয়, যা অর্থনৈতিক মূল্যবোধের মূল বৈশিষ্ট্য। অন্যদিকে, দিবা সৌন্দর্যপিপাসু। সে জাগতিক লাভ-ক্ষতির চেয়ে রূপ, সৌন্দর্য, সামঞ্জস্য ও শিল্পের প্রতি আকৃষ্ট, যা নান্দনিক মূল্যবোধের প্রধান দিক।
২. অর্জনের মাপকাঠি: ছবির সন্তুষ্টি অর্জিত হয় সম্পদ, আর্থিক নিরাপত্তা ও বাস্তব জীবনের ব্যবহারিক প্রাপ্তির মাধ্যমে। এমনকি সে নৈতিকতার চেয়েও অর্থকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। পক্ষান্তরে, দিবা মানসিক ও আত্মিক তৃপ্তি পায় পরিবেশ, প্রকৃতি বা সৃষ্টির মাঝে সৌন্দর্য অবলোকন করে।
৩. আচরণিক ভিন্নতা: অর্থনৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা সাধারণত বস্তুবাদী, হিসাবি ও বাস্তবমুখী হয়ে থাকেন, যা ছবির আচরণে সুস্পষ্ট। অন্যদিকে, নান্দনিক মূল্যবোধের অধিকারী দিবা আবেগপ্রবণ, সংবেদনশীল এবং শিল্পমনা প্রকৃতির।
পরিশেষে বলা যায়, ছবি ও দিবা একই পরিবারের দুই বোন হওয়া সত্ত্বেও তাদের মূল্যবোধ সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। একজন বাস্তবমুখী আর্থিক লাভালাভে তৃপ্ত, অপরজন মানসিক ও আত্মিক সৌন্দর্যে নিবেদিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও