ইসলাম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯

ইসলাম প্রশ্ন

জনাব আবু সালেহ একজন নির্বাচিত ইউনিয়ন চেয়ারম্যান। নির্বাচিত হওয়ার পরেও তিনি পরিবারের যাবতীয় কাজকর্ম নিজ হাতে সম্পাদন করেন। তার মাসিক বেতনের সামান্য অংশ পরিবার-পরিজনের ব্যয়ভার বহনের জন্য রেখে বাকি অর্থ এলাকার গরিব- দুঃস্থদের পুনর্বাসন ও ধর্মীয় শিক্ষার কাজে ব্যয় করেন। অপরদিকে তার বন্ধু জামিল সাহেব একজন মানব দরদি মানুষ। একদিন রাতের বেলায় পাশের বাড়ি থেকে কান্নার আওয়াজ ভেসে এল। তিনি সকালে ফজরের নামায শেষে বাড়িতে খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পারেন, পাশের বাড়ির এক বৃদ্ধ মহিলা ব্যথা-বেদনায় বিছানায় ছটফট করছে। বৃদ্ধার বাড়িতে কোনো লোকজন নেই। তিনি তখন বাড়ি এসে তার স্ত্রীকে নিয়ে বৃদ্ধার বাড়িতে গিয়ে সেবা-যত্ন করেন।

  1. ক)

    'আস-সাবউল মুআল্লাকাত' কী?

    (1)
  2. খ)

    হযরত আলি (রা)কে 'জ্ঞানের শহরের দরজা' বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    জনাব আবু সালেহ এর কর্মকাণ্ডে কোন খলিফার চরিত্র ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    জনাব জামিলের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য যে খলিফার কর্মকান্ডের সাথে মিল রয়েছে তার চরিত্র বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    আস-সাবউল মুআল্লাকাত হলো কাবাঘরের দেয়ালে ঝুলানো সাতটি শ্রেষ্ঠ আরবি কবিতা, যা জাহিলি যুগের কবিদের রচিত।

  2. খ)

    রাসুল (স.) বলেছেন, আমি জ্ঞানের শহর আর আলি তার দরজা। হযরত আলি (রা.) কুরআন ও হাদিসে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। তিনি ফিকহ, বিচারকার্য ও আরবি সাহিত্যেও দক্ষ ছিলেন। সাহাবিরা জটিল বিষয়ে তাঁর কাছে সমাধান চাইতেন। তাই তাঁকে জ্ঞানের শহরের দরজা বলা হয়।

  3. গ)

    জনাব আবু সালেহের কর্মকাণ্ডে হযরত আবু বকর (রা.)-এর চরিত্র ফুটে উঠেছে।

    খলিফা হয়েও আবু বকর (রা.) সাধারণ জীবনযাপন করতেন। তিনি বায়তুল মাল থেকে কেবল প্রয়োজন মাফিক সামান্য ভাতা নিতেন। ক্ষমতা ও পদের অহংকার তাঁর ছিল না। আবু সালেহও নির্বাচিত চেয়ারম্যান হয়ে পরিবারের সব কাজ নিজে করেন, বেতনের সামান্য রেখে বাকি অর্থ গরিব-দুঃস্থ ও ধর্মীয় শিক্ষায় ব্যয় করেন। এ সরলতা ও ত্যাগ আবু বকর (রা.)-এর আদর্শের অনুরূপ।

  4. ঘ)

    জনাব জামিলের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে হযরত উমর (রা.)-এর কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে।

    উমর (রা.)-এর চরিত্র:
    ১. প্রজাদরদি: তিনি রাতে ছদ্মবেশে প্রজাদের খোঁজখবর নিতেন। অভুক্ত ও অসহায় মানুষের কথা জানলে নিজে খাবার পৌঁছে দিতেন।
    ২. দায়িত্ববোধ: তিনি বলতেন, ফুরাত নদীর তীরে একটি কুকুরও না খেয়ে মরলে এর জন্য আমাকে জবাবদিহি করতে হবে।
    ৩. ন্যায়পরায়ণতা ও সরলতা: তিনি খলিফা হয়েও সাধারণ জীবনযাপন করতেন।

    জামিল রাতের কান্না শুনে সকালেই বৃদ্ধার খোঁজ নিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে সেবা করেছেন, যা উমর (রা.)-এর অসহায় মানুষের সেবার আদর্শের প্রতিফলন।

    সুতরাং, জামিলের মানব দরদি চরিত্র হযরত উমর (রা.)-এর আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন