অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

মুদ্রাস্ফীতির ফলে ভূমিহীন কৃষক, গরিব জনসাধারণ, মধ্যবিত্ত, চাকরিজীবী ও সীমিত আয়ের লোকদের পক্ষে জীবনযাত্রা নির্বাহ করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি ব্যয়, ব্যাংক হার পরিবর্তন, কর, খোলাবাজার নীতি, সরকারি ঋণ ও নগদ জমার অনুপাত পরিবর্তন ইত্যাদি হাতিয়ার ব্যবহার করে থাকে।

  1. ক)

    মুদ্রাসংকোচন কী?

    (1)
  2. খ)

    প্রাকৃতিক দুর্যোগ কীভাবে মুদ্রাস্ফীতির জন্য দায়ী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক হতে আর্থিক নীতি ও রাজস্বনীতির হাতিয়ারসমূহের একটি তালিকা প্রস্তুত করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আর্থিক নীতির হাতিয়ারসমূহ কীভাবে কাজ করে? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অর্থের যোগান কমে গিয়ে বা সামগ্রিক চাহিদা হ্রাসের কারণে যখন দ্রব্যসামগ্রীর দামস্তর ক্রমাগত হ্রাস পায় এবং অর্থের মূল্য বৃদ্ধি পায়, তখন তাকে মুদ্রাসংকোচন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কৃষিপণ্য ও শিল্পপণ্যের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এর ফলে বাজারে দ্রব্যের যোগান বা সরবরাহ সামগ্রিক চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়। দ্রব্যের চাহিদা অপরিবর্তিত বা বেশি থাকা অবস্থায় যোগান কমে যাওয়ায় সামগ্রিক দামস্তর বৃদ্ধি পায়, যা মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি করে। সুতরাং, প্রাকৃতিক দুর্যোগ যোগান হ্রাসের মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতির জন্য দায়ী হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যেসব হাতিয়ারের উল্লেখ রয়েছে, সেগুলোকে আর্থিক নীতি ও রাজস্বনীতির অধীনে নিম্নরূপ তালিকায় বিভক্ত করা যায়:

    ১. আর্থিক নীতির হাতিয়ারসমূহ:
    ক. ব্যাংক হার পরিবর্তন
    খ. খোলাবাজার নীতি
    গ. নগদ জমার অনুপাত পরিবর্তন

    ২. রাজস্বনীতির হাতিয়ারসমূহ:
    ক. সরকারি ব্যয়
    খ. কর
    গ. সরকারি ঋণ

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক পরিচালিত আর্থিক নীতির হাতিয়ারসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উদ্দীপকে উল্লেখিত আর্থিক নীতির হাতিয়ারগুলো মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যেভাবে কাজ করে তা নিম্নরূপ:

    ১. ব্যাংক হার বৃদ্ধি: কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে সুদের হারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেয় তাকে ব্যাংক হার বলে। মুদ্রাস্ফীতির সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক হার বৃদ্ধি করে। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদের হার বাড়ে এবং ঋণগ্রহণ ব্যয়বহুল হওয়ায় জনগণ ও ব্যবসায়ীদের ঋণ গ্রহণের প্রবণতা হ্রাস পায়। এতে বাজারে অর্থের যোগান কমে দামস্তর হ্রাস পায়।

    ২. খোলাবাজার নীতি: এ নীতির আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক খোলাবাজারে সরকারি ঋণপত্র, ট্রেজারি বিল ও সিকিউরিটিজ বিক্রি করে। বাণিজ্যিক ব্যাংক ও জনগণ এগুলো ক্রয় করায় তাদের হাত থেকে অতিরিক্ত অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চলে যায়, ফলে ব্যাংকের ঋণদান ক্ষমতা সংকুচিত হয় এবং সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পায়।

    ৩. নগদ জমার অনুপাত বৃদ্ধি: বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের মোট আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ বাধ্যতামূলকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নগদ হিসেবে জমা রাখতে হয়। মুদ্রাস্ফীতি রোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই অনুপাত বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণদানযোগ্য তহবিলের পরিমাণ হ্রাস পায় এবং বাজারে অর্থের প্রবাহ কমে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    সুতরাং, উদ্দীপকের আর্থিক নীতির হাতিয়ারগুলো মূলত বাজারে অর্থের যোগান ও ঋণের পরিমাণ সংকুচিত করার মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন