অর্থনীতি ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
একটি দেশে বিহিত মুদ্রার পরিমাণ (M) = ৬০০, বিহিত মুদ্রার প্রচলন গতি (V) = ২০, ঋণপত্রেরপরিমাণ (M) = ৩০০, ঋণপত্রের প্রচলন গতি (V') = ২০ এবং লেনদেনের পরিমাণ (T) = ১০০০।
- ক)(1)
বিহিত মুদ্রা কী?
- খ)(2)
মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন ব্যাংকিং এর মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করো।
- গ)(3)
উদ্দীপক হতে ফিশারের বিনিময় সমীকরণের সাহায্যে দামস্তর নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
মুদ্রার পরিমাণ দ্বিগুণ হলে দামস্তর ও অর্থের মূল্যের ওপর যে প্রভাব পড়বে তা নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গুণগত পদ্ধতির ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে মুদ্রা সরকারি আইন দ্বারা প্রচলিত এবং দেশের জনগণ যা লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করতে আইনত বাধ্য, তাকে বিহিত মুদ্রা (Fiat Money বা Legal Tender) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন ব্যাংকিং উভয়ই ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং সেবা হলেও এদের মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে:
১. মাধ্যম: মোবাইল ব্যাংকিং মূলত মোবাইল নেটওয়ার্ক ও বিশেষ অ্যাপ (বা USSD কোড) ব্যবহার করে পরিচালিত হয়; অন্যদিকে অনলাইন বা ইন্টারনেট ব্যাংকিং ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের ব্রাউজার বা মূল ব্যাংকিং অ্যাপ দিয়ে পরিচালিত হয়।
২. সেবা ও পরিধি: মোবাইল ব্যাংকিং সাধারণত ক্ষুদ্র অংকের লেনদেন, ক্যাশ-ইন, ক্যাশ-আউট, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়। পক্ষান্তরে, অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক হিসাব পরিচালনা, যেকোনো পরিমাণ ফান্ড ট্রান্সফার, স্টেটমেন্ট পর্যবেক্ষণ, চেক বই রিকোয়েস্টসহ ব্যাংকের সার্বিক সেবা ঘরে বসে পাওয়া যায়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফিশারের সম্প্রসারিত বিনিময় সমীকরণটি হলো:
PT = MV + M'V'
বা, P = (MV + M'V') / Tউদ্দীপক হতে প্রাপ্ত তথ্য:
বিহিত মুদ্রার পরিমাণ (M) = ৬০০
বিহিত মুদ্রার প্রচলন গতি (V) = ২০
ঋণপত্রের পরিমাণ (M') = ৩০০
ঋণপত্রের প্রচলন গতি (V') = ২০
লেনদেনের পরিমাণ (T) = ১০০০মান বসিয়ে পাই,
P = {(৬০০ × ২০) + (৩০০ × ২০)} / ১০০০
= (১২০০০ + ৬০০০) / ১০০০
= ১৮০০০ / ১০০০
= ১৮অতএব, উদ্দীপক অনুযায়ী নির্ধারিত দামস্তর (P) হলো ১৮ একক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুদ্রার পরিমাণ দ্বিগুণ হলে:
নতুন M₁ = ৬০০ × ২ = ১২০০ এবং নতুন M'₁ = ৩০০ × ২ = ৬০০।
অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে নতুন দামস্তর,
P₁ = (M₁V + M'₁V') / T = {(১২০০ × ২০) + (৬০০ × ২০)} / ১০০০ = (২৪০০০ + ১২০০০) / ১০০০ = ৩৬।
দেখা যায়, অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণ হওয়ায় দামস্তরও দ্বিগুণ (১৮ থেকে ৩৬) হয়েছে। ফলে অর্থের মূল্য (Vm = 1/P) পূর্বের ১/১৮ থেকে কমে ১/৩৬ হয়েছে, অর্থাৎ অর্থের মূল্য অর্ধেক বা ৫০% হ্রাস পেয়েছে। এটি অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি নির্দেশ করে।এই পরিস্থিতি (মুদ্রাস্ফীতি) নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গুণগত বা নির্বাচনমূলক ঋণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ভূমিকা নিম্নরূপ:
১. ঋণের প্রান্তিক হার বা মার্জিন পরিবর্তন: অনুৎপাদনশীল বা ফটকাবাজারি খাতে ঋণের ওপর জামানতি মার্জিন বাড়িয়ে ঋণের প্রবাহ কমানো হয়।
২. কিস্তিবন্দি ঋণের নিয়ন্ত্রণ: ভোগ্যপণ্য ক্রয়ে প্রদত্ত ঋণের প্রাথমিক নগদ জমার পরিমাণ বাড়িয়ে এবং পরিশোধের মেয়াদ কমিয়ে ভোক্তাদের ঋণগ্রহণকে নিরুৎসাহিত করা হয়।
৩. ঋণের রেশনিং বা বরাদ্দকরণ: কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য সর্বোচ্চ ঋণসীমা বেঁধে দিয়ে অর্থের সরবরাহ সীমিত রাখে।
৪. প্রত্যক্ষ ব্যবস্থা ও নৈতিক প্ররোচনা: বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে অতিরিক্ত ঋণ সম্প্রসারণ না করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক নৈতিকভাবে পরামর্শ ও প্রয়োজনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।অতএব, দামস্তর বৃদ্ধি ও অর্থের মূল্য হ্রাস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণের গুণগত পদ্ধতিগুলো অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও