বাংলা ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

নদী কভু পান নাহি করে নিজ জল, তরুগণ নাহি খায় নিজ নিজ ফল, গাভি কভু নাহি করে নিজ দুগ্ধ পান; কাষ্ঠ দগ্ধ হয়ে করে পরে অন্ন দান। স্বর্ণ করে নিজ রূপে অপরে শোভিত, বংশী করে নিজ সুরে অপরে মোহিত। শস্য জন্মাইয়া নাহি খায় জলধরে; সাধুর ঐশ্বর্য শুধু পরহিত তরে।

  1. ক)

    আবুল ফজল ছাত্রজীবনে কোন আন্দোলনের সাথে যুক্ত হন?

    (1)
  2. খ)

    'স্রেফ সদিচ্ছার দ্বারা মানব-কল্যাণ সাধিত হয় না।'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    'উদ্দীপকে 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকটি 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের আংশিক প্রতিফলন। উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আবুল ফজল ছাত্রজীবনে 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' আন্দোলনের সাথে যুক্ত হন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাস্তব কর্মপদ্ধতি ও যথাযথ প্রয়োগ ছাড়া কেবল ভালো ইচ্ছা বা মনোভাব দিয়ে প্রকৃত মানবকল্যাণ অর্জন করা সম্ভব নয়—এ কথাই উক্তিটিতে বোঝানো হয়েছে।

    অনেকের মনেই মানুষের উপকার করার সদিচ্ছা থাকে, কিন্তু তা যদি মানুষের আত্মমর্যাদা রক্ষা না করে এবং তাদের সার্বিক মুক্তির বাস্তব উপায় তৈরি না করে, তবে তা ফলপ্রসূ হয় না। মানবকল্যাণ একটি সক্রিয় ও বাস্তবমুখী প্রক্রিয়া; মানুষের সার্বিক বিকাশ ও মর্যাদাপূর্ণ অস্তিত্ব নিশ্চিত করতে সদিচ্ছার সাথে সঠিক কর্মপ্রয়াস ও দূরদৃষ্টির সংযোজন আবশ্যক।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের পরোপকার, নিঃস্বার্থ সেবা এবং বিলিয়ে দেওয়ার মানসিকতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

    আবুল ফজলের 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে মানবকল্যাণ বলতে শুধু বাহ্যিক দান-খয়রাতকে বোঝানো হয়নি, বরং মানুষের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, তাদের সার্বিক মুক্তি এবং নিজ স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে পরার্থে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মানবকল্যাণের মূল প্রেরণা হলো স্বার্থহীনভাবে অন্যের উপকারে আত্মনিয়োগ করা।

    উদ্দীপকের কবিতাংশে দেখা যায়, নদী, তরু, গাভী, কাষ্ঠ, স্বর্ণ, বাঁশি ও মেঘ—প্রকৃতির এই উপাদানগুলো নিজেদের ভোগ না করে নিঃস্বার্থভাবে অপরের জন্য নিজেদের উজাড় করে দেয়। একইভাবে মহৎ বা সাধু ব্যক্তিরাও তাঁদের সমস্ত অর্জন ও ঐশ্বর্য পরের কল্যাণে ব্যয় করেন। উদ্দীপকের এই পরোপকারী ও নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের বৈশিষ্ট্যটি 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে আলোচিত পরহিতৈষণা ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধের দিকটির সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকটি 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের আংশিক প্রতিফলন—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।

    উদ্দীপকের কবিতায় প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান যেমন—নদী, গাছ, গাভী ইত্যাদির পরোপকারী স্বভাব এবং সাধুর ধনসম্পদ পরের মঙ্গলে ব্যয় করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ, এখানে মূলত স্বার্থহীন পরোপকার ও দানশীলতার একটি চিরাচরিত রূপ উপস্থাপিত হয়েছে।

    কিন্তু আবুল ফজলের 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে মানবকল্যাণের ধারণাটি কেবল চিরাচরিত দান-খয়রাত বা পরোপকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা অত্যন্ত বিস্তৃত, আধুনিক ও গভীর। প্রাবন্ধিকের মতে, ওপর থেকে নিচে ফেলা করুণা বা ভিক্ষা দেওয়া প্রকৃত মানবকল্যাণ নয়, এতে গ্রহীতার আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়। প্রকৃত মানবকল্যাণ হলো মানুষের মানবিক মর্যাদা বৃদ্ধি করা, তাদের ভেতরের সুপ্ত সম্ভাবনাকে বিকশিত করা এবং একটি শোষণহীন মানবিক সমাজ গড়ে তোলা। এটি মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও আত্মিক মুক্তির সাথে সম্পর্কিত এক সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি।

    উদ্দীপকে কেবল নিঃস্বার্থ পরোপকারের দিকটি এসেছে, কিন্তু মানুষের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠা, শোষণমুক্ত সমাজ গঠন এবং মানবিক শক্তির সামগ্রিক জাগরণের যে মূল বক্তব্য প্রবন্ধে রয়েছে, তা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। সুতরাং, উদ্দীপকটি সামগ্রিক নয়, বরং 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের একটি আংশিক দিকের প্রতিফলন মাত্র।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন