বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
- ক)(1)
পাথরের যুগ কাকে বলে?
- খ)(2)
মিশরকে নীল নদের দান বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের চিত্রে কোন সভ্যতার ইজ্জিাত রয়েছে- উক্ত সভ্যতার, নগর পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
স্থাপত্য ও ভাস্কর্য ক্ষেত্রে টুক্ত সভ্যতার অবদান ছিল অপরিসীম- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
মানুষ যে যুগে পাথর দিয়ে অস্ত্র ও হাতিয়ার তৈরি করত এবং পাথরের ব্যবহারই ছিল প্রধান, সেই যুগকে পাথরের যুগ বলে।
- খ)
প্রাচীনকালে প্রতিবছর নীল নদে বন্যা হতো। বন্যার পানি সরে গেলে নদীর দুই তীরে পলিমাটি জমে জমি উর্বর হতো এবং সেখানে নানা ধরনের ফসল ফলত। নীল নদ না থাকলে মিশর মরুভূমিতে পরিণত হতো। এ কারণে ইতিহাসের জনক হেরোডোটাস বলেছেন, 'মিশর নীল নদের দান'।
- গ)
উদ্দীপকের চিত্রে একটি প্রাচীন নগরের ধ্বংসাবশেষ দেখা যাচ্ছে, যেখানে পরিকল্পিত রাস্তা ও ঘরবাড়ির কাঠামো স্পষ্ট। এটি সিন্ধু সভ্যতার মহেঞ্জোদাড়ো-হরপ্পা ধরনের নগরের ইঙ্গিত দেয়।
নগর পরিকল্পনা:
১. সিন্ধু সভ্যতার নগরগুলো পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছিল। রাস্তাগুলো ছিল সোজা ও পরস্পরকে সমকোণে ছেদ করত।
২. বাড়িঘর তৈরিতে পোড়া ইট ব্যবহার করা হতো।
৩. পানি নিষ্কাশনের জন্য সুপরিকল্পিত নালা-নর্দমা ব্যবস্থা ছিল।
৪. নগরের পাশাপাশি স্নানাগার ও শস্যাগারের মতো সরকারি স্থাপনা ছিল।এই পরিকল্পনা প্রাচীন বিশ্বের নগরায়ণে সিন্ধু সভ্যতার উন্নত চিন্তার পরিচয় দেয়।
- ঘ)
উক্ত সভ্যতা অর্থাৎ সিন্ধু সভ্যতার স্থাপত্য ও ভাস্কর্যে অবদান সত্যিই অপরিসীম ছিল।
১. স্থাপত্য: সিন্ধু সভ্যতার মানুষ পোড়া ইটের সুদৃঢ় ঘরবাড়ি, প্রশস্ত রাস্তা ও নালা-নর্দমা তৈরি করেছিল। মহেঞ্জোদাড়োর বিশাল স্নানাগার ও শস্যাগার তাদের উন্নত স্থাপত্যজ্ঞানের নিদর্শন।
২. পরিকল্পিত নগর: রাস্তা ও ঘরবাড়ি সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো ছিল, যা তাদের নগর স্থাপত্যের দক্ষতা প্রমাণ করে।
৩. ভাস্কর্য: খননে পাওয়া পোড়ামাটি ও ধাতুর ছোট মূর্তি, নর্তকীর ব্রোঞ্জমূর্তি এবং খোদাই করা সিলমোহর তাদের ভাস্কর্য ও শিল্পদক্ষতার পরিচয় বহন করে।সুতরাং, স্থাপত্য ও ভাস্কর্য উভয় ক্ষেত্রেই সিন্ধু সভ্যতার অবদান অপরিসীম, এ উক্তি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও