যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
তথ্য-১ : মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন প্রাণী।তথ্য-২ : মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন সৌন্দর্যপ্রিয় প্রাণী।তথ্য-৩ : মানুষ হয় স্তন্যপায়ী প্রাণী, যার দুটি হাত, দুটি পা, দুটি চোখআছে।
- ক)(1)
সংজ্ঞার্থ পদ কাকে বলে?
- খ)(2)
মনের মৌলিক গুণের সংজ্ঞা দেওয়া যায় না কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে তথ্য-২ কোন ধরনের সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে তথ্য-১ ও তথ্য-৩ এর পার্থক্য পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যৌক্তিক সংজ্ঞায় যে পদটির সংজ্ঞা দেওয়া হয়, তাকে সংজ্ঞার্থ পদ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মনের মৌলিক গুণাবলি (যেমন—আনন্দ, বেদনা, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি) হলো চরম ও সরল অনুভূতি, যেগুলোর কোনো বৃহত্তর জাতি বা কোনো রূপ বিভেদক লক্ষণ নেই। যৌক্তিক সংজ্ঞা দিতে হলে আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণের উল্লেখ করতে হয়। কিন্তু মৌলিক গুণগুলো অবিভাজ্য ও একক হওয়ায় এদের অন্য কোনো সরলতর ধারণার মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করা যায় না, শুধু উপলব্ধি করা যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের তথ্য-২ এ 'মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন সৌন্দর্যপ্রিয় প্রাণী' বলায় 'অবান্তর লক্ষণজনিত অনুপপত্তি' ঘটেছে।
যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম অনুসারে, কোনো পদের সংজ্ঞায় কেবল পদটির আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করতে হবে। কোনো অবান্তর লক্ষণ যোগ করা যাবে না। সংজ্ঞেয় পদে যদি কোনো উপলক্ষণ ছাড়া অতিরিক্ত অবান্তর লক্ষণ জুড়ে দেওয়া হয়, তখন অবান্তর লক্ষণজনিত অনুপপত্তি ঘটে।
মানুষের মৌলিক বিভেদক লক্ষণ হলো বুদ্ধিবৃত্তি। কিন্তু তথ্য-২ এ 'সৌন্দর্যপ্রিয়তা' অতিরিক্ত হিসেবে যোগ করা হয়েছে, যা মানুষের একটি অবান্তর লক্ষণ। ফলে এটি যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম লঙ্ঘন করে অবান্তর লক্ষণজনিত অনুপপত্তি ঘটিয়েছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে তথ্য-১ হলো মানুষের একটি যথার্থ যৌক্তিক সংজ্ঞা এবং তথ্য-৩ হলো মানুষের একটি বর্ণনা। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে এ দুটির পার্থক্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. স্বরূপগত পার্থক্য: তথ্য-১-এ মানুষের আসন্নতম জাতি (জীব/প্রাণী) এবং বিভেদক লক্ষণ (বুদ্ধিবৃত্তি) উল্লেখ করা হয়েছে, যা যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রথম নিয়ম পূর্ণ করে। এটি একটি যথার্থ সংজ্ঞা। অন্যদিকে তথ্য-৩ এ মানুষের কয়েকটি বাহ্যিক ও অবান্তর বৈশিষ্ট্য (স্তন্যপায়ী, দুটি হাত, পা, চোখ) উল্লেখ করে পদটিকে স্পষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা সংজ্ঞার বদলে 'বিবরণ' বা 'বর্ণনা' প্রকাশ করে।
২. গুণগত পরিবর্তন: সংজ্ঞায় কেবল আবশ্যিক ও জাত্যর্থবাচক গুণের উল্লেখ থাকে। কিন্তু বর্ণনায় জাত্যর্থের পাশাপাশি বা তার বদলে উপলক্ষণ বা অবান্তর লক্ষণ প্রকাশ পায়। তথ্য-৩ এ হাত, পা ও চোখের উল্লেখ নিছক বাহ্যিক অবান্তর লক্ষণ।
৩. ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের সমতা: তথ্য-১ এ সংজ্ঞার্থ পদ (মানুষ) এবং সংজ্ঞক পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থ সমান। কিন্তু তথ্য-৩ এর বর্ণনায় পদের সুনির্দিষ্ট জাত্যর্থ প্রকাশ পায় না।
৪. বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব: সংজ্ঞার সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও বৈজ্ঞানিক মূল্য রয়েছে, কিন্তু বর্ণনার কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই এবং এর মূল্য আপেক্ষিক।অতএব, তথ্য-১ হলো নিয়মানুযায়ী সঠিক যৌক্তিক সংজ্ঞা এবং তথ্য-৩ হলো কেবলই একটি বিবরণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও