বাংলা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

এই পদ্মা এই মেঘনা, এই হাজার নদীর অববাহিকায় এখানে রমণীগুলো নদীর মতো, নদী ও নারীর মতো কথা কয়।এই অবারিত সবুজের প্রান্ত ছুঁয়ে নির্ভয়ে নীলাকাশ রয়েছে নুয়েযেন হৃদয়ের ভালোবাসা হৃদয়ে ফোটে আনন্দ বেদনায় মিলন বিরহ সংকটে।

  1. ক)

    'রক্তে আমার অনাদি অস্থি" কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?

    (1)
  2. খ)

    "মুগ্ধ মরণ বাঁকে বাঁকে"- বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    "উদ্দীপকে 'রক্তে আমার অনাদি অস্থি" কবিতার কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে?" ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকটি সমগ্র কবিতার মূলভাব ধারণ করেনি- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'রক্তে আমার অনাদি অস্থি' কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত (পয়ারজাত) ছন্দে রচিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "মুগ্ধ মরণ বাঁকে বাঁকে" বলতে বাংলার নদীমাতৃক রূপ ও প্রকৃতির মায়াবী সৌন্দর্যের বাঁকে বাঁকে লুকিয়ে থাকা মৃত্যু ও ধ্বংসের বাস্তবতাকে বোঝানো হয়েছে।

    কবি দিলওয়ারের 'রক্তে আমার অনাদি অস্থি' কবিতায় সুরমা নদী তথা বাংলাদেশের নদীর সৌন্দর্যের পাশাপাশি নদীভাঙন, বন্যা ও দুর্যোগের করাল গ্রাসের রূপটি তুলে ধরা হয়েছে। নদীর মোহময় রূপ মানুষকে মুগ্ধ করে সত্য, কিন্তু নদীর বাঁকে বাঁকে যে ধ্বংস ও মরণের হাতছানি থাকে, তা নদীপাড়ের মানুষের জীবনকে সবসময় বিপন্নতার মুখোমুখি রাখে। কবি এখানে প্রকৃতির সেই যুগপৎ মায়াবী ও সংহারী রূপের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'রক্তে আমার অনাদি অস্থি' কবিতার নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রাকৃতিক রূপসৌন্দর্য এবং নদীর সঙ্গে মানুষের নিবিড় সম্পর্কের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

    'রক্তে আমার অনাদি অস্থি' কবিতায় কবি নদী ও মাটির সঙ্গে বাঙালির অস্তিত্বের গভীর যোগসূত্র তুলে ধরেছেন। সুরমা নদী কেবল একটি জলধারা নয়, তা কবির পূর্বপুরুষের অস্থি ও রক্তে মিশে থাকা এক অবিনাশী সত্তা। সেখানে নদী যেমন জীবনের প্রতীক, তেমনি তার সৌন্দর্য ও রূপবৈচিত্র্য মানুষের আবেগের সঙ্গে মিশে আছে।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, পদ্মা-মেঘনার মতো হাজার নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা বাংলার রূপ বর্ণনা করা হয়েছে। এখানকার নারীদের সাথে নদীর তুলনা এবং নদীর প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের মিলন-বিরহ ও ভালোবাসার সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকের এই অংশটি 'রক্তে আমার অনাদি অস্থি' কবিতার নদী ও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের যে আন্তরিক ও আত্মিক বন্ধন রয়েছে, সেই দিকটিকেই সার্থকভাবে প্রতিফলিত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকটি সমগ্র কবিতার মূলভাব ধারণ করেনি”— মন্তব্যটি যথার্থ এবং যৌক্তিক।

    'রক্তে আমার অনাদি অস্থি' কবিতায় কবি দিলওয়ার শুধু নদীমাতৃক রূপ বর্ণনা করেননি; বরং নদী ও জন্মভূমির মাটির সাথে বাঙালির ঐতিহাসিক, নৃতাত্ত্বিক ও সংগ্রামী অস্তিত্বের গভীর সংযোগ ফুটিয়ে তুলেছেন। কবির পূর্বপুরুষের অস্থি ও রক্ত যেভাবে সুরমার পলিমাটিতে মিশে রয়েছে, তাতে নদী হয়ে উঠেছে বাঙালির অস্তিত্বের অবিনাশী প্রতীক। একই সঙ্গে নদী যেমন মানুষের আশ্রয় ও মুগ্ধতার জায়গা, তেমনি এর ধ্বংসরূপ এবং মানুষের যুগ যুগ ধরে টিকে থাকার যে ঐতিহাসিক সংগ্রাম—তা কবিতায় গভীরভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

    অন্যদিকে উদ্দীপকে কেবল পদ্মা-মেঘনা অববাহিকার প্রাকৃতিক শোভা, নদীর সাথে নারীর তুলনা এবং আনন্দ-বেদনায় মানুষের ভালোবাসার প্রকাশ ঘটেছে। এখানে নদীর প্রাকৃতিক ও আবেগময় রূপটি দৃশ্যমান হলেও 'রক্তে আমার অনাদি অস্থি' কবিতার মূল সুর—পূর্বপুরুষের ঐতিহ্যের সাথে বর্তমানের অবিচ্ছেদ্য রক্ত ও অস্থির বন্ধন, অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই এবং নদীর করাল গ্রাসের বিপরীতে অবিনাশী চেতনা—উদ্দীপকে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।

    অতএব, উদ্দীপকে নদীমাতৃক বাংলার রূপের একটি খণ্ডচিত্র এলেও সমগ্র কবিতার বহুমাত্রিক ঐতিহাসিক ও দার্শনিক মূলভাব প্রতিফলিত হয়নি। সুতরাং উপর্যুক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন