পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
কত সালে সংবিধানের বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়?
- খ)(2)
বেঙ্গল প্যাক্ট বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে যে আইনের কথা বলা হয়েছে তার অন্য তিনটি বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত আইনে প্রবর্তিত প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে আনুষ্ঠানিক মর্যাদা দেওয়া হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯২৩ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের উদ্যোগে বাংলায় হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তাকে 'বেঙ্গল প্যাক্ট' (Bengal Pact) বলা হয়।
এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল আইনসভা ও স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিনিধিত্ব এবং সরকারি চাকুরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে জনসংখ্যার ভিত্তিতে মুসলমানদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা। পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি রক্ষার নানা শর্ত এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে '১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন'-এর কথা বলা হয়েছে। কারণ এই আইনের মাধ্যমেই সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা এবং প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের বিধান চালু করা হয়েছিল।
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের অন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. কেন্দ্রে দ্বৈত শাসন প্রবর্তন: এই আইনে প্রদেশের দ্বৈত শাসন বাতিল করে কেন্দ্রীয় সরকারে দ্বৈত শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের বিষয়গুলোকে 'সংরক্ষিত' (Reserved) এবং 'হস্তান্তরিত' (Transferred)—এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। প্রতিরক্ষা, বৈদেশিক বিষয় ইত্যাদি সংরক্ষিত বিষয়গুলো গভর্নর জেনারেলের নিজস্ব এখতিয়ারে রাখা হয়।
২. ক্ষমতা বণ্টন নীতি: কেন্দ্র ও প্রদেশগুলোর মধ্যে আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক ক্ষমতা বণ্টনের জন্য তিনটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়—কেন্দ্রীয় তালিকা, প্রাদেশিক তালিকা এবং যৌথ বা সমবর্তী তালিকা। এর মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে কেন্দ্র ও প্রদেশের কাজের সীমানা নির্ধারণ করা হয়।
৩. যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত (Federal Court) গঠন: সংবিধানের ব্যাখ্যা প্রদান এবং কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যকার বা বিভিন্ন প্রদেশের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত বা ফেডারেল কোর্ট প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল 'প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন'। তত্ত্বগতভাবে এই আইনের মাধ্যমে প্রদেশগুলোতে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে শাসনভার অর্পণের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা কার্যকর ও অর্থবহ ছিল না।
প্রথমত, এই আইনে প্রদেশের প্রকৃত ক্ষমতা জনগণের নির্বাচিত মন্ত্রীসভার পরিবর্তে প্রাদেশিক গভর্নরের হাতে ন্যস্ত ছিল। গভর্নরের হাতে ব্যাপক স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা (Discretionary Powers) এবং ব্যক্তিগত বিচারবুদ্ধিজনিত ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছিল। ফলে গভর্নর চাইলে মন্ত্রীসভার পরামর্শ অগ্রাহ্য করতে পারতেন।
দ্বিতীয়ত, গভর্নর প্রয়োজনবোধে যেকোনো সময় প্রাদেশিক আইনসভা ভেঙে দিতে পারতেন এবং জরুরি অবস্থা জারি করে সমগ্র শাসনভার নিজের হাতে তুলে নিতে পারতেন (যেমন ৯৩ ধারা প্রয়োগ)।
তৃতীয়ত, প্রদেশের অর্থব্যবস্থা এবং আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও গভর্নরের চূড়ান্ত ভেটো বা অনুমোদনের ক্ষমতা বহাল ছিল। আইনসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের ওপর গভর্নরের কর্তৃত্ব বজায় থাকায় নির্বাচিত প্রতিনিধিরা স্বাধীনভাবে নীতি নির্ধারণ করতে পারতেন না।
পরিশেষে বলা যায়, ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের যে কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল, তা ছিল বাহ্যিক এবং নিয়ন্ত্রিত। গভর্নরের সর্বময় ক্ষমতার কারণে তা প্রকৃত অর্থে কোনো স্বায়ত্তশাসন দিতে পারেনি; বরং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক স্বার্থ রক্ষার একটি কৌশল হিসেবেই কার্যকর ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও