পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • দেশপ্রেম ও জাতীয়তা • ঢাকা কলেজ • ঢাকা কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
উৎপত্তিগত বা শাব্দিক দিক থেকে জাতি ও জাতীয়তা বলতে একই বংশোদ্ভূত জনসমষ্টিকে বোঝানো হলেও আধুনিককালে জাতি ও জাতীয়তার মধ্যে পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায়। জাতি হচ্ছে জাতীয়তাবাদী চেতনারই ফসল। ভাষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক ঐক্যই বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূলভিত্তি। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ভাষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক জাতীয়তাবাদ উন্মেষের ফলে।
- ক)(1)
জাতি কী?
- খ)(2)
বাঙালি জাতীয়তাবাদ বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
জাতি ও জাতীয়তার মধ্যে পার্থক্য কি কি ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশ সংবিধানে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে সন্নিবেশিত জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে কী জান।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতি হলো এমন এক রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত বা স্বাধীনতাকামী জনসমাজ, যারা সুদৃঢ় জাতীয়তাবাদী চেতনায় ঐক্যবদ্ধ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাঙালি জাতীয়তাবাদ বলতে বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে গড়ে ওঠা অভিন্ন ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐক্য ও চেতনাকে বোঝায়। বাংলা ভাষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে বাঙালির যে একাত্মতা ও রাজনৈতিক আত্মনিয়ন্ত্রণের আকাঙ্ক্ষা ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন ও ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম দেয়, তাই বাঙালি জাতীয়তাবাদ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতি ও জাতীয়তার মধ্যে ধারণা ও প্রয়োগগত দিক থেকে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান:
১. ধারণাগত পার্থক্য: জাতীয়তা মূলত একটি মানসিক বা মনস্তাত্ত্বিক অনুভূতি। সমভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য প্রভৃতির কারণে কোনো জনগোষ্ঠীর মধ্যে যে ঐক্যের চেতনা জাগ্রত হয়, তা হলো জাতীয়তা। অপরদিকে, জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ জনগোষ্ঠী যখন রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে বা করার সংকল্প নেয়, তখন তাকে জাতি বলে।
২. রাজনৈতিক সংগঠন: জাতীয়তার জন্য রাজনৈতিক সংগঠনের অপরিহার্যতা নেই, তবে জাতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সংগঠন এবং সার্বভৌম রাষ্ট্র থাকা বা স্বাধীন হতে চাওয়া আবশ্যক।
৩. সম্পর্ক: জাতীয়তা হলো জাতির পূর্বশর্ত। অর্থাৎ, 'জাতীয়তা + রাজনৈতিক সংগঠন বা সার্বভৌমত্ব = জাতি'।সুতরাং, প্রতিটি জাতিই জাতীয়তা সম্পন্ন জনসমষ্টি, কিন্তু সব জাতীয়তাই জাতিতে রূপান্তরিত হতে পারে না।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের মূল স্তম্ভগুলোর মধ্যে 'জাতীয়তাবাদ' অন্যতম। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯-এ জাতীয়তাবাদের তাৎপর্য তুলে ধরা হয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তাবিশিষ্ট যে বাঙালি জনগোষ্ঠী ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করে জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে, সেই বাঙালি জাতির ঐক্য ও সংহতিই হবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি।
১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চালিকাশক্তি ছিল এই জাতীয়তাবাদী চেতনা। সংবিধানে এই নীতি সন্নিবেশিত করার মূল উদ্দেশ্য হলো জাতি হিসেবে বাঙালির ঐতিহাসিক সংগ্রামকে স্মরণীয় রাখা এবং ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক ও সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে শোষণমুক্ত এক সমাজ বিনির্মাণ করা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও