‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য • ঢাকা কলেজ • ঢাকা কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

ড. মল্লিক পেশায় একজন আইনজীবী, দীর্ঘ পেশাজীবনে আইন বিয়ে অনেক বই লিখেছেন। কিন্তু তিনি মনে করেন, কেবল আইনই স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে না। মানুষ বিবেকবোধ, ন্যায়-নীতি, উচিত-অনুচিতের দ্বারাও পরিচালিত হয়। সেগুলো আইন থেকে পৃথক। তিনি বিশ্বাস করেন সমাজে যদি বৈষম্য বিরাজ করে তা'হলে স্বাধীনতা কখনো ফলপ্রসূ হয় না।

  1. ক)

    মূল্যবোধ কী?

    (1)
  2. খ)

    আইনের অনুশাসন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ড. মল্লিক বিবেকবোধ, ন্যায়-নীতিকে আইন থেকে পৃথক বলেছেন কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে ড. মল্লিকের বিশ্বাসের সাথে তুমি কি একমত? তোমার উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দেখাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মূল্যবোধ হলো সমাজবদ্ধ মানুষের যেসব ধ্যান-ধারণা, বিশ্বাস, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তাদের আচার-আচরণ ও কাজকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালিত করে তার সমষ্টি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আইনের অনুশাসন বলতে বোঝায় আইনের প্রাধান্য ও আইনের দৃষ্টিতে সকলের সমান অধিকার। এর মূল কথা হলো—আইন সবার ঊর্ধ্বে, কোনো ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আইন অনুযায়ীই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে এবং কোনো নাগরিককে বিনা বিচারে বা আইনবহির্ভূতভাবে শাস্তি দেওয়া যাবে না। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই আইনের সমান আশ্রয় ও সুবিধা লাভ করবে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ড. মল্লিক বিবেকবোধ ও ন্যায়-নীতিকে আইন থেকে পৃথক বলেছেন, কারণ এগুলোর উৎস, প্রয়োগ ও রূপ আইনের চেয়ে আলাদা। এ উপাদানগুলো মূলত 'নৈতিকতা'র সাথে সম্পর্কিত।

    আইন হলো রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত ও স্বীকৃত বিধিনিষেধ, যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক বলবৎযোগ্য এবং এটি লঙ্ঘন করলে নির্দিষ্ট শাস্তির বিধান রয়েছে। আইনের একটি সুনির্দিষ্ট ও লিখিত রূপ থাকে এবং এর পরিধি বাহ্যিক আচরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

    অন্যদিকে, বিবেকবোধ, ন্যায়-নীতি ও উচিত-অনুচিতবোধ হলো ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ অনুভূতির বিষয়। এর কোনো লিখিত রূপ নেই এবং রাষ্ট্র সরাসরি এটি জোরপূর্বক কার্যকর করতে পারে না। নৈতিকতা বা বিবেক লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো আইনি শাস্তি নেই, বরং তা ব্যক্তির মানসিক অনুশোচনা বা সামাজিক নিন্দার ওপর নির্ভর করে। তাই প্রকৃতি, উৎস ও প্রয়োগ পদ্ধতির পার্থক্যের কারণেই ড. মল্লিক বিবেকবোধ ও ন্যায়-নীতিকে আইন থেকে পৃথক বলে অভিহিত করেছেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ড. মল্লিকের বিশ্বাসের সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত। সমাজে বৈষম্য বিদ্যমান থাকলে স্বাধীনতা কখনোই অর্থবহ বা ফলপ্রসূ হতে পারে না। কারণ সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতার প্রকৃত বিকাশ অসম্ভব।

    স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পরের পরিপূরক। সাম্য বলতে বোঝায় সুযোগ-সুবিধার সমতা, যেখানে কোনো প্রকার বৈষম্য ছাড়া রাষ্ট্রের সকল নাগরিক তাদের যোগ্যতানুযায়ী আত্মবিকাশের সমান সুযোগ পায়। সমাজে যদি ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য, শ্রেণিভেদ বা সুযোগের অসমতা থাকে, তবে দুর্বল ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদের স্বাধীনতা উপভোগ করতে পারে না। তখন স্বাধীনতা কেবল সুবিধাভোগী উচ্চশ্রেণির একচেটিয়া অধিকারে পরিণত হয়।

    উদ্দীপকে ড. মল্লিক যথার্থই বিশ্বাস করেন যে, কেবল আইন তৈরি করলেই মানুষের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয় না। বৈষম্যযুক্ত সমাজে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগও ব্যাহত হয়। অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য না থাকলে আইনের দৃষ্টিতে সমান অধিকারের ঘোষণাও কাগুজে প্রতিশ্রুতিতে রূপ নেয়। সুতরাং, একটি শোষণমুক্ত, সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে না উঠলে স্বাধীনতা কখনো অর্থবহ বা ফলপ্রসূ হতে পারে না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন