যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: হাসান বলল, "সকল মাছ পানিতে বাস করে। কাতলা এক প্রকার মাছ; সুতরাং কাতলা মাছ পানিতে বাস করে।"দৃশ্যকল্প-২: মালেক বলল, "কবুতর আকাশে উড়ে: কাক আকাশে উড়ে; চিল আকাশে উড়ে; সুতরাং সকল পাখি আকাশে উড়ে।"

  1. ক)

    অমাধ্যম অনুমান কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য থেকে কম ব্যাপক হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ মালেকের বক্তব্য কোন প্রকার অনুমানকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত অনুমানের মধ্যে কোন ধরনের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়? ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে অবরোহ অনুমানে কোনো মাধ্যম ছাড়াই একটিমাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে সরাসরি সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয়, তাকে অমাধ্যম অনুমান বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অবরোহ অনুমানে সার্বিক বা ব্যাপকতর সত্য থেকে বিশেষ বা কম ব্যাপক সত্যে উপনীত হওয়া হয় বলে এর সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য থেকে কম ব্যাপক (বা কখনো সমান ব্যাপক) হয়।

    অবরোহ অনুমানে আমরা একটি প্রতিষ্ঠিত সাধারণ নিয়ম বা সমগ্র শ্রেণির বৈশিষ্ট্য জেনে তা কোনো ব্যক্তি বা ক্ষুদ্রতর শ্রেণির ওপর প্রয়োগ করি। ফলে সিদ্ধান্তে নতুন কোনো ব্যাপ্যতার অন্তর্ভুক্তি ঘটে না; বরং আশ্রয়বাক্যে যা প্রচ্ছন্ন থাকে, তা-ই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট করা হয়। তাই অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্যের চেয়ে বেশি ব্যাপক হতে পারে না, সাধারণত কম ব্যাপক হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২ এ মালেকের বক্তব্য 'আরোহ অনুমান'কে (সুনির্দিষ্টভাবে প্রকৃত আরোহ বা বৈজ্ঞানিক/লৌকিক আরোহের দৃষ্টান্ত) নির্দেশ করে।

    যে অনুমানে কয়েকটি বিশেষ বিশেষ ঘটনার বা বস্তুর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত বা নিয়ম প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাকে আরোহ অনুমান বলে।

    দৃশ্যকল্প-২ এ মালেক একে একে কয়েকটি বিশেষ পাখি যেমন—কবুতর, কাক ও চিলকে আকাশে উড়তে প্রত্যক্ষ করেছে। এই বিশেষ পর্যবেক্ষণগুলোর ওপর ভিত্তি করে সে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে, "সকল পাখি আকাশে উড়ে।" এখানে বিশেষ থেকে সার্বিকে গমন করা হয়েছে এবং আরোহমূলক লম্ফ বিদ্যমান রয়েছে। অতএব, মালেকের বক্তব্যটি একটি আরোহ অনুমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত অনুমানটি হলো 'অবরোহ অনুমান' এবং দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত অনুমানটি হলো 'আরোহ অনুমান'। এদের মধ্যকার প্রধান পার্থক্যগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো:

    ১. গতি বা অভিমুখের পার্থক্য:
    দৃশ্যকল্প-১ এর অবরোহ অনুমানে সার্বিক সত্য ("সকল মাছ পানিতে বাস করে") থেকে একটি বিশেষ ক্ষেত্রে ("কাতলা মাছ পানিতে বাস করে") সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। পক্ষান্তরে দৃশ্যকল্প-২ এর আরোহ অনুমানে কতগুলো বিশেষ দৃষ্টান্ত (কবুতর, কাক, চিল) থেকে একটি সার্বিক সত্যে ("সকল পাখি আকাশে উড়ে") উপনীত হওয়া হয়েছে।

    ২. সিদ্ধান্তের ব্যাপকতা:
    দৃশ্যকল্প-১ এর সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্যের চেয়ে কম ব্যাপক। কিন্তু দৃশ্যকল্প-২ এর সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্যগুলোর চেয়ে অনেক বেশি ব্যাপক।

    ৩. নিশ্চয়তার মাত্রা:
    অবরোহ অনুমানের (দৃশ্যকল্প-১) আকারগত সত্যতা বজায় থাকলে সিদ্ধান্ত শতভাগ নিশ্চিত ও অনিবার্য হয়। অন্যদিকে আরোহ অনুমানে (দৃশ্যকল্প-২) 'আরোহমূলক লম্ফ' থাকায় সিদ্ধান্ত সবসময় সম্ভাব্য বা সাধারণীকরণভিত্তিক হয় (যেমন: সকল পাখি আকাশে উড়ে না, উটপাখিও পাখি)।

    ৪. সত্যতার ধরন:
    অবরোহ অনুমানে আকারের দিক থেকে সত্যতা বিচার করা হয়, কিন্তু আরোহ অনুমানে আকারগত ও বস্তুগত উভয় প্রকার সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়।

    সুতরাং, দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-২ এর মধ্যে অবরোহ ও আরোহ অনুমানের মৌলিক নীতিগত পার্থক্য বিদ্যমান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন