যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৪

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

দৃষ্টান্ত-১: ম্যাডাম ইরিতা বললেন, "মানুষই একমাত্র জীব যে তার নিজস্ব চিন্তাশক্তি, বিচারশক্তি দিয়ে জগতে শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে।"দৃষ্টান্ত-২: ম্যাডাম জয়িতা এ কথার সাথে যুক্ত করলেন, "মানুষ বন্ধুবৎসল, রুচিশীল এবং সামাজিক জীবও বটে।"দৃষ্টান্ত-৩: স্যার ইফফাত বললেন, "সকল মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন।"

  1. ক)

    জাতি কী?

    (1)
  2. খ)

    কোন ধরনের যুক্তিবাক্যে বিধেয়ক থাকে?

    (2)
  3. গ)

    দৃষ্টান্ত-৩ এ কোন ধরনের বিধেয়ক রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃষ্টান্ত-১ ও দৃষ্টান্ত-২ এর বক্তব্য পৃথক কেন? বিধেয়কের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দুটি শ্রেণিসূচক পদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে যখন ব্যাপকতর বা বৃহত্তর ব্যক্ত্যর্থবিশিষ্ট পদটি অপর কোনো সংকীর্ণ ব্যক্ত্যর্থবিশিষ্ট পদকে নিজের অন্তর্ভুক্ত করে, তখন সেই ব্যাপকতর পদটিকে সংকীর্ণ পদটির সাপেক্ষে 'জাতি' (Genus) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শুধুমাত্র সদর্থক (হ্যাঁ-সূচক) যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের সম্পর্কের ভিত্তিতে বিধেয়ক থাকে। নঞর্থক যুক্তিবাক্যে কোনো বিধেয়ক থাকে না। কারণ নঞর্থক যুক্তিবাক্যে বিধেয় পদটি উদ্দেশ্য পদের কোনো শ্রেণি বা সম্পর্কের নির্দেশক হিসেবে স্বীকৃত হয় না, বরং উদ্দেশ্য পদ সম্পর্কে বিধেয়কে পুরোপুরি অস্বীকার বা বিচ্ছিন্ন করা হয়। বিধেয়ক মূলত সদর্থক সম্পর্কের শ্রেণিবিভাগ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃষ্টান্ত-৩ এ উল্লিখিত 'সকল মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন' যুক্তিবাক্যটিতে 'লক্ষণ' বা 'বিভেদক লক্ষণ' (Differentia) বিধেয়ক রয়েছে।

    যে গুণ বা গুণাবলি কোনো শ্রেণিকে তার স্বজাতীয় অন্যান্য শ্রেণি থেকে পৃথক করে এবং যা সেই শ্রেণির আসন্নতম জাতির অন্তর্নিহিত অংশ হিসেবে আবশ্যিক বা জাত্যর্থের অংশ, তাকে বিভেদক লক্ষণ বলে।

    উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-৩ এ মানুষ পদের আসন্নতম জাতি হলো 'জীব' এবং মানুষ পদের মৌলিক জাত্যর্থ হলো 'জীববৃত্তি' ও 'বুদ্ধিবৃত্তি'। এখানে 'বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন' গুণটি বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা মানুষকে অন্যান্য জীব (যেমন: পশু, পাখি ইত্যাদি) থেকে পৃথক করে। যেহেতু 'বুদ্ধিবৃত্তি' হলো মানুষের পূর্ণ জাত্যর্থের একটি অপরিহার্য অংশ এবং এটি মানুষকে অন্য সব জীব থেকে আলাদাকারী মৌলিক গুণ, তাই দৃষ্টান্ত-৩ এর বিধেয়কটি হলো লক্ষণ বা বিভেদক লক্ষণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃষ্টান্ত-১ ও দৃষ্টান্ত-২ এর বক্তব্য বিধেয়কের সম্পর্কের দিক থেকে পরস্পর পৃথক; কারণ দৃষ্টান্ত-১ এ 'উপলক্ষণ' এবং দৃষ্টান্ত-২ এ 'অবা Cantor লক্ষণ' বা 'অবান্তর লক্ষণ' প্রকাশ পেয়েছে।

    বিধেয়কের তত্ত্ব অনুযায়ী, যে গুণ জাত্যর্থের অংশ নয়, কিন্তু জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়, তাকে 'উপলক্ষণ' বলে। অপরদিকে, যে গুণ পদের জাত্যর্থের অংশ নয় এবং জাত্যর্থ থেকে নিঃসৃতও হয় না, অথচ কেবল উদ্দেশ্যের সাথে যুক্ত থাকে, তাকে 'অবান্তর লক্ষণ' বলে।

    দৃষ্টান্ত-১ এ ম্যাডাম ইরিতা মানুষের নিজস্ব চিন্তাশক্তি, বিচারশক্তি এবং জগতের শ্রেষ্ঠত্বের কথা উল্লেখ করেছেন। এই গুণগুলো মানুষের মূল জাত্যর্থ (বুদ্ধিবৃত্তি) থেকে যুক্তিযুক্তভাবে নিঃসৃত হয়েছে। জাত্যর্থের অন্তর্ভুক্ত না হলেও বুদ্ধিবৃত্তি থাকার ফলেই মানুষ চিন্তাশক্তি ও বিচারশক্তির অধিকারী হয়। সুতরাং, দৃষ্টান্ত-১ এ বিধেয়কের 'উপলক্ষণ' (Proper Accident) প্রকাশ পেয়েছে।

    অপরদিকে, দৃষ্টান্ত-২ এ ম্যাডাম জয়িতা মানুষের বন্ধুবৎসল, রুচিশীল এবং সামাজিক জীব হওয়ার কথা বলেছেন। এই গুণগুলো মানুষের জাত্যর্থের অংশ নয় এবং এগুলো জাত্যর্থ (জীববৃত্তি বা বুদ্ধিবৃত্তি) থেকে অনিবার্যভাবে নিশ্চিত রূপেও নিঃসৃত হয় না। এগুলো মানুষের অতিরিক্ত বা আকস্মিক গুণাবলি, যা সকল মানুষের মধ্যে সমানভাবে নাও থাকতে পারে। বিধেয়কের নিয়ম অনুযায়ী এগুলো হলো 'অবান্তর লক্ষণ' (Accident)।

    অতএব, দৃষ্টান্ত-১ এ জাত্যর্থ-নিঃসৃত গুণ বা উপলক্ষণ এবং দৃষ্টান্ত-২ এ জাত্যর্থের সাথে সম্পর্কহীন গুণ বা অবান্তর লক্ষণ ব্যক্ত হওয়ায় উভয়ের বক্তব্য পরস্পর পৃথক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন