জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
ক্রিস্টালাইন মাইসেলি কাকে বলে?
- খ)(2)
স্পাইসিং-বলতে কী বুঝায়?
- গ)(3)
C এর গঠনের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মডেলের চিহ্নিত চিত্র আঁক।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে A ও B যে দুটি প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করছে তাদের মধ্যে কী কী পার্থক্য আছে? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ভিদ কোষপ্রাচীরের সেলুলোজ চেইনের সমান্তরাল বিন্যাসের ফলে সৃষ্ট স্ফটিকাকার গঠনকে ক্রিস্টালাইন মাইসেলি (Crystalline micelle) বলে। এটি কোষপ্রাচীরের ক্ষুদ্রতম গাঠনিক একক হিসেবে বিবেচিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাক-মেসেঞ্জার আরএনএ (pre-mRNA) থেকে নন-কোডিং অংশ ইন্ট্রনস (introns) কেটে বাদ দিয়ে কোডিং অংশ এক্সনগুলোকে (exons) পরস্পর যুক্ত করে কার্যকরী ও পরিপক্ব mRNA তৈরির প্রক্রিয়াকে স্প্লাইসিং (Splicing) বলে।
ইউক্যারিওটিক কোষে ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন প্রাথমিক আরএনএ-তে প্রয়োজনীয় ও অপ্রয়োজনীয় উভয় অংশ থাকে। স্প্লাইসিওজোম নামক জটিল এনজাইম সমষ্টির সহায়তায় ইন্ট্রনগুলো অপসারিত হয় এবং শুধুমাত্র সক্রিয় সংকেতযুক্ত এক্সনগুলো একত্রিত হয়ে প্রোটিন তৈরির জন্য প্রস্তুত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'C' চিহ্নিত অংশটি হলো কোষঝিল্লি বা প্লাজমামেমব্রেন (Plasma Membrane)। প্লাজমামেমব্রেনের গঠনের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মডেল হলো ১৯৭১-১৯৭২ সালে এস. জে. সিঙ্গার এবং জি. এল. নিকলসন কর্তৃক প্রস্তাবিত 'ফ্লুইড মোজাইক মডেল' (Fluid Mosaic Model)।
ফ্লুইড মোজাইক মডেলের প্রধান অংশগুলো হলো:
১. ফসফোলিপিড বাইলেয়ার (দ্বি-স্তরবিশিষ্ট লিপিড স্তর, যার বহির্মুখী পোলার গ্লিসারল 'মাথা' হাইড্রোফিলিক এবং অন্তর্মুখী নন-পোলার ফ্যাটি এসিড 'লেজ' হাইড্রোফোবিক)।
২. মেমব্রেন প্রোটিন (প্রান্তীয় বা পেরিফেরাল প্রোটিন, অন্তর্নিহিত বা ইন্টিগ্রাল প্রোটিন, এবং লিপিড-সংযুক্ত প্রোটিন)।
৩. গ্লাইকোক্যালিক্স (লিপিডের সাথে যুক্ত গ্লাইকোলিপিড এবং প্রোটিনের সাথে যুক্ত গ্লাইকোপ্রোটিনের স্তর)।
৪. কোলেস্টেরল (ফসফোলিপিড অণুগুলোর ফাঁকে ফাঁকে অবস্থান করে)।[পরীক্ষার্থীদের খাতায় ফ্লুইড মোজাইক মডেলের একটি সুস্পষ্ট চিত্র অঙ্কন করে উপরোক্ত অংশসমূহ—ফসফোলিপিড বাইলেয়ার, হাইড্রোফিলিক শীর্ষ, হাইড্রোফোবিক পুচ্ছ, চ্যানেল/ইন্টিগ্রাল প্রোটিন, পেরিফেরাল প্রোটিন, গ্লাইকোপ্রোটিন, গ্লাইকোলিপিড ও কোলেস্টেরল চিহ্নিত করতে হবে।]
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'A' প্রক্রিয়াটি রাইবোজোমের সহায়তায় সাইটোপ্লাজমে সংঘটিত হচ্ছে, যা হলো ট্রান্সলেশন (Translation) এবং 'B' প্রক্রিয়াটি নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে ডিএনএ-এর দ্বি-সূত্রক কাঠামোর উন্মোচনের মাধ্যমে ঘটছে, যা হলো ডিএনএ প্রতিলিপন বা রেপ্লিকেশন (Replication) (বা ট্রান্সক্রিপশন)।
নিম্নে রেপ্লিকেশন (B) ও ট্রান্সলেশন (A) প্রক্রিয়ার মধ্যে মূল পার্থক্যসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সংজ্ঞা:
- রেপ্লিকেশন (B): যে জৈবরাসায়নিক প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃ ডিএনএ থেকে অনুরূপ দুটি অপত্য ডিএনএ অণু সৃষ্টি হয়, তাকে রেপ্লিকেশন বা প্রতিলিপন বলে।
- ট্রান্সলেশন (A): mRNA-তে রক্ষিত জেনেটিক কোডের নির্দেশনা অনুযায়ী রাইবোজোমে নির্দিষ্ট অ্যামিনো এসিডের ক্রমবিন্যাসে প্রোটিন সংশ্লেষণের প্রক্রিয়াকে ট্রান্সলেশন বলে।
২. সংঘটন স্থান:
- রেপ্লিকেশন (B): ইউক্যারিওটিক কোষের নিউক্লিয়াসে (এছাড়াও মাইটোকন্ড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্টে) সম্পন্ন হয়।
- ট্রান্সলেশন (A): সাইটোপ্লাজমে রাইবোজোমের ওপর সম্পন্ন হয়।
৩. ব্যবহৃত ছাঁচ (Template):
- রেপ্লিকেশন (B): ডিএনএ-এর উভয় সূত্রক ছাঁচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- ট্রান্সলেশন (A): mRNA অণু ছাঁচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৪. কাঁচামাল বা উপকরণ:
- রেপ্লিকেশন (B): ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিওসাইড ট্রাইফসফেট (dATP, dGTP, dCTP, dTTP) কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- ট্রান্সলেশন (A): বিভিন্ন অ্যামিনো এসিড, tRNA এবং GTP কাঁচামাল বা শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৫. প্রধান এনজাইম:
- রেপ্লিকেশন (B): মূলত ডিএনএ পলিমারেজ, হেলিকেজ, প্রাইমেজ ও লাইগেজ এনজাইমের ভূমিকা প্রধান।
- ট্রান্সলেশন (A): অ্যামাইনোঅ্যাসাইল-tRNA সিন্থেটেজ ও পেপটিডাইল ট্রান্সফারেজ মূল ভূমিকা পালন করে।
৬. চূড়ান্ত উৎপাদ:
- রেপ্লিকেশন (B): নতুন ডিএনএ অণু তৈরি হয়।
- ট্রান্সলেশন (A): পলিপেপটাইড চেইন বা প্রোটিন অণু তৈরি হয়।
অতএব, কেন্দ্রীয় প্রত্যয় (Central Dogma)-এর আলোকে A (ট্রান্সলেশন) এবং B (রেপ্লিকেশন) প্রক্রিয়া দুটি কোষের বংশগত বৈশিষ্ট্যের সংরক্ষণ, অনুলিপন এবং বহিঃপ্রকাশে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও