বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
আইমান রহমান বিদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষ করে দেশে ফিরে আসে। সে নিজ গ্রামের যুবসমাজকে নিয়ে একটি সংগঠন গড়ে তোলে। তারা প্রতিজ্ঞা করে এলাকা থেকে সকল প্রকার অনিয়ম, অন্যায়, অবিচার দূর করবে। নির্বিচারে গাছ কাটা, নদী থেকে অবৈধভাবে বালি তোলা, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার হয়। কিন্তু প্রভাবশালী মহলের চক্রান্তে একটি মিথ্যা মামলায় আইমান এখন জেলে।
- ক)(1)
ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্টের নাম কী?
- খ)(2)
"মেয়ে লোকের মনের মস্করা সহ্য করবে অতটা দুর্বল নয় সমাজ।"-উক্তিটির তাৎপর্য লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আইমানের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাসের তুলনা কর।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপটি 'লালসালু' উপন্যাসের সমগ্র বক্তব্যকে ধারণ করেনি।"-স্বীকার কর কি? তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্টের নাম মতলুব খাঁ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি দ্বারা তৎকালীন পিতৃতান্ত্রিক গ্রামীণ সমাজে নারীর ওপর সামাজিক অনুশাসন ও পুরুষতান্ত্রিক কর্তৃত্বের কঠোর রূপকে প্রকাশ করা হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে জমিলা মজিদের মতো এক বয়োবৃদ্ধ ও কর্তৃত্বপরায়ণ ব্যক্তির মুখে থুতু নিক্ষেপ করে নিজের অবাধ্যতা প্রকাশ করে। গ্রামীণ কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও পুরুষপ্রধান সমাজে নারী কেবল পুরুষের অধীনস্ত ও অনুগত থাকবে—এটাই ছিল স্বাভাবিক নিয়ম। সেখানে একজন নারীর প্রতিবাদী বা স্বাধীন আচরণ সমাজের কাছে চরম ধৃষ্টতা হিসেবে গণ্য হয়। মজিদ নিজেকে সেই সামাজিক অনুশাসনের ধারক মনে করে জমিলাকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করার জন্য এই চিন্তাটি করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আইমানের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাসের সংস্কারকামী মনোভাব এবং সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ার ক্ষেত্রে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে আক্কাস শহর থেকে লেখাপড়া শিখে গ্রামে ফিরে এসে একটি আধুনিক স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। সে চেয়েছিল কুসংস্কার ও অজ্ঞতার অন্ধকারে নিমজ্জিত গ্রামবাসীকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে। কিন্তু গ্রামের ধর্মব্যবসায়ী মজিদ নিজের আধিপত্য হারানোর ভয়ে ধর্মের দোহাই দিয়ে এবং চক্রান্ত করে আক্কাসের মহৎ উদ্যোগ নস্যাৎ করে দেয় এবং তাকে গ্রামছাড়া করে।
উদ্দীপকের আইমানও বিদেশ থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে গ্রামে ফিরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুবসমাজকে সংগঠিত করে এবং পরিবেশ রক্ষা ও অনিয়ম দূরীকরণে সোচ্চার হয়। কিন্তু আক্কাসের মতোই সে স্বার্থান্বেষী প্রভাবশালী মহলের চক্রান্তের শিকার হয়ে মিথ্যা মামলায় ফেঁসে জেলে যায়। উভয়ের মধ্যেই সমাজহিতৈষী আধুনিক মানসিকতা বিদ্যমান এবং দুজনেই কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকটি 'লালসালু' উপন্যাসের সমগ্র বক্তব্যকে ধারণ করেনি"—এই মন্তব্যের সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।
উদ্দীপকে কেবল একজন শিক্ষিত যুবকের সমাজসংস্কারের প্রচেষ্টা এবং প্রভাবশালী মহলের চক্রান্তের কারণে তার ব্যর্থ হয়ে কারাগারে যাওয়ার দিকটি ফুটে উঠেছে, যা উপন্যাসের আক্কাস চরিত্রের পরিস্থিতির সমতুল্য।
কিন্তু সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' উপন্যাসের পটভূমি ও মূল ভাববস্তু অনেক বেশি বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক। এ উপন্যাসের মূল বিষয় হলো ধর্মকে পুঁজি করে কীভাবে গ্রামীণ সাধারণ ও নিরীহ মানুষকে শোষণ করা হয়। মজিদ নামের এক চতুর ভণ্ড কীভাবে একটি অজ্ঞাত মাজারকে ভিত্তি করে পুরো মহব্বতনগর গ্রামে নিজের একক আধিপত্য, অন্ধবিশ্বাস ও ভীতি কায়েম করে, তা-ই উপন্যাসের মূল উপজীব্য। উপন্যাসে খালেক ব্যাপারীর মতো ধনীদের সাথে মজিদের আঁতাত, রহিমার মতো নারীর অন্ধ আনুগত্য, জমিলার প্রতীকী বিদ্রোহ এবং সর্বোপরি গ্রামীণ মানুষের অজ্ঞতা, ক্ষুধা ও অস্তিত্বের সংকটের গভীর চিত্র উন্মোচিত হয়েছে।
উদ্দীপকটিতে কেবল আধুনিক চিন্তার বিরুদ্ধে কায়েমি স্বার্থান্বেষীদের চক্রান্তের দিকটি আংশিকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। কিন্তু মজিদের ধর্মব্যবসা, গ্রামীণ কুসংস্কার, আধিপত্যবাদ ও মানুষের অস্তিত্বের সংগ্রাম—যা 'লালসালু' উপন্যাসের মূল সুর, তার উপস্থিতি উদ্দীপকে নেই। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, উদ্দীপকটি উপন্যাসের একটি ক্ষুদ্র দিককে স্পর্শ করলেও এর সমগ্র বক্তব্যকে ধারণ করতে পারেনি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও