বাংলা ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
মাদার তেরেসা অকৃত্রিম মাতৃস্নেহের আধার ছিলেন। আলবেনিয়ান বংশোদ্ভূত হয়েও তিনি। তাঁর কাজের জন্য সারা পৃথিবীতে স্মরণীয় হয়ে আছেন। ১৯৫০ সালে তিনি কলকাতায়। মিশনারিজ অব চ্যারিটি হোমে সমগ্র পৃথিবীর দরিদ্র, অসুস্থ, অনাথ ও মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের জন্য কাজ করেন। এই কাজের জন্য ১৯৭৯ সালে তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান করা হয়। সেই পুরস্কারের সমস্ত অর্থ তিনি সেবার কাজে ব্যয় করেন। ১৯৯৭ সালে তিনি মারা যান। কিন্তু পৃথিবীর মানুষ আজও তাঁর নাম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।
- ক)(1)
'সোনার ধান' কীসের প্রতীক?
- খ)(2)
'সোনার তরী' কবিতায় কবির যে জীবনদর্শনের ইঙ্গিত করা হয়েছে তা আলোচনা কর ।
- গ)(3)
“সোনার তরী' কবিতার কোন বিষয়টি মাদার তেরেসার জীবনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
“মাদার তেরেসার জীবনের পরিণতিই 'সোনার তরী' কবিতার মূল উপজীব্য”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'সোনার ধান' মানুষের সৃষ্টিশীল কর্ম বা মহৎ সৃষ্টির প্রতীক।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'সোনার তরী' কবিতায় কবির এই জীবনদর্শন প্রতিফলিত হয়েছে যে, মহাকালের স্রোতে ব্যক্তিসত্তা বা রক্তমাংসের মানুষ নশ্বর ও ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু মানুষের মহৎ সৃষ্টি বা কর্ম অবিনশ্বর ও চিরন্তন। মানুষ তার সারা জীবনের সাধনায় যে উৎকৃষ্ট সৃষ্টি বা ফসল ফলায়, মহাকাল সেই সৃষ্টিকে সমাদরে গ্রহণ করে টিকিয়ে রাখে; কিন্তু সৃষ্টিকর্তা মানুষকে গ্রহণ করে না, ব্যক্তিকে অনিবার্যভাবেই মহাকালের অতল গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মাদার তেরেসার জীবনের সাথে 'সোনার তরী' কবিতার মানুষের অনন্য সৃষ্টি ও কর্মের চিরন্তনতার বিষয়টি সংগতিপূর্ণ।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কবিতায় দেখা যায়, কৃষক রূপী মানুষ তার সারা জীবনের ফলানো সোনার ধান তরণীতে তুলে দেয়। মহাকাল রূপী মাঝি সেই সোনার ধান অর্থাৎ মহৎ সৃষ্টিকে পরম যত্নে গ্রহণ করে নিয়ে যায়। ব্যক্তি মানুষ সেখানে স্থান না পেলেও তার সৃষ্ট কর্ম কালজয়ী হয়ে বেঁচে থাকে।
উদ্দীপকে মাদার তেরেসার মানবসেবার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। তিনি আলবেনিয়ান হয়েও কলকাতায় এসে আজীবন আর্তমানবতার সেবা করে গেছেন। ১৯৯৭ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করলেও তাঁর নিঃস্বার্থ সেবামূলক কাজ ও অবদান বিশ্ববাসী আজও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। অর্থাৎ ব্যক্তি মাদার তেরেসা নশ্বর পৃথিবীর নিয়মে দেহত্যাগ করেছেন, কিন্তু তাঁর মহৎ কর্ম 'সোনার ধান'-এর মতো মহাকালের তরণীতে অক্ষয় হয়ে রয়েছে। এই দিক থেকেই উদ্দীপকের বিষয়টি 'সোনার তরী' কবিতার সাথে সংগতিপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“মাদার তেরেসার জীবনের পরিণতিই 'সোনার তরী' কবিতার মূল উপজীব্য”- মন্তব্যটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
'সোনার তরী' কবিতার মূল উপজীব্য হলো মহাকালের নির্মম বাস্তবতায় ব্যক্তি মানুষের নশ্বরতা এবং সৃষ্টিকর্মের অবিনশ্বরতা। মানুষ তার সমস্ত জীবন উৎসর্গ করে যে কর্ম বা সৃষ্টি রেখে যায়, মহাকাল কেবল সেটুকুই সংরক্ষণ করে। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা মানুষ একসময় অনিবার্য মৃত্যুর মুখে পতিত হয়ে বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যায়, যার শূন্যতা জেগে থাকে নিঃসঙ্গ দ্বীপের মতো।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মাদার তেরেসা তাঁর সমগ্র জীবন আর্ত ও মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন এবং পুরস্কারের সমুদয় অর্থও সেবামূলক কাজে ব্যয় করেন। একসময় পার্থিব নিয়মে ১৯৯৭ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি দেহগতভাবে আজ বেঁচে নেই, কিন্তু তাঁর সেবাকর্ম সমগ্র বিশ্বে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণীয় হয়ে আছে।
'সোনার তরী' কবিতায় কৃষক যেমন তার উৎপাদিত সোনার ধান নৌকায় তুলে দিয়ে নিজে নদীতীরে শূন্য অবস্থায় পড়ে থাকে, তেমনি মাদার তেরেসা তাঁর মহৎ কর্মগুলো মানবজাতির কল্যাণে রেখে নিজে মহাকালের অমোঘ নিয়মে বিদায় নিয়েছেন। ব্যক্তিসত্তার এই অনিবার্য বিলীন হওয়া এবং রেখে যাওয়া কর্মের বেঁচে থাকা—মাদার তেরেসার জীবনের এই পরিণতিই 'সোনার তরী' কবিতার চিরন্তন জীবনসত্যকে ধারণ করে। তাই মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও