ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • ব্যবসায় নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
অতিমাত্রায় পলিথিন উৎপাদন ও ব্যবহার পরিবেশের জন্য অতিরিক্ত ক্ষতিকর। অনেক বছর যাবত দেখা যাচ্ছে নানা রঙের বিভিন্ন ডিজাইনের শক্ত পলিথিনের প্যাকেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী উন্নতমানের প্যাকেটজাত করে বাজারে চলছে। উক্ত শক্ত পলিথিন মাটি, পানি ও পরিবেশের অনেক ক্ষতি সাধন করছে। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে সর্বত্র পলিথিন যা নদী, খাল, বিল, সমুদ্র পর্যন্ত চলে যাচ্ছে। যা দেশের ভবিষ্যৎ পরিবেশের উপর হুমকিস্বরূপ। বর্তমান সরকার এ অবস্থা হতে পরিবেশকেরক্ষা করতে পলিথিন উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধে বিভিন্ন নির্দেশনা জারি করছেন এবং কার্যকর ফল অর্জনের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এরূপ বিরূপ পরিস্থিতিতে গণসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর কঠোরভাবে জোর দিচ্ছেন। এরসুফল ভবিষ্যতে পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা যায়।
- ক)(1)
ব্যবসায় উদ্যোগ কী
- খ)(2)
পরিমেল নিয়মাবলি বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
অতিরিক্ত পলিথিন উৎপাদনে সমাজের কোন পক্ষের প্রতি ব্যবসায়ের সামাজিক দায়বদ্ধতা লঙ্ঘিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"গণসচেতনতাই পারে পলিথিন উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধ করতে"– উদ্ভিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লাভের উদ্দেশ্যে ঝুঁকি নিয়ে নতুন কোনো ব্যবসায়ের পরিকল্পনা করা এবং তা বাস্তবে রূপ দেওয়ার সামগ্রিক উদ্যোগ ও প্রচেষ্টাকে ব্যবসায় উদ্যোগ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরিমেল নিয়মাবলি (Articles of Association) হলো কোম্পানির অভ্যন্তরীণ পরিচালনা সংক্রান্ত বিধিবিধানের দলিল। এতে কোম্পানির দৈনন্দিন অভ্যন্তরীণ কার্যাবলি পরিচালনা, শেয়ার হস্তান্তর ও বাজেয়াপ্তকরণ, পরিচালকদের ক্ষমতা, কর্তব্য ও অধিকার, সাধারণ সভা আহ্বান এবং ব্যবস্থাপনার নিয়মাবলি বিস্তারিতভাবে লিপিবদ্ধ থাকে। এটি কোম্পানির দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অতিরিক্ত পলিথিন উৎপাদনে সাধারণ সমাজ ও পরিবেশের (বা সামগ্রিক জনগোষ্ঠীর) প্রতি ব্যবসায়ের সামাজিক দায়বদ্ধতা লঙ্ঘিত হয়েছে।
একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সমাজ ও পরিবেশ থেকেই প্রয়োজনীয় উপাদান সংগ্রহ করে টিকে থাকে। তাই সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা ব্যবসায়ের অন্যতম প্রধান সামাজিক দায়বদ্ধতা। ব্যবসায়ে এমন কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত নয় যা বাতাস, পানি, মাটি ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা পণ্যের মোড়কীকরণে ক্ষতিকর শক্ত পলিথিন অতিমাত্রায় উৎপাদন ও ব্যবহার করছে। এই অপচনশীল পলিথিন ব্যবহারের পর যত্রতত্র ফেলে দেওয়ার ফলে মাটি, পানি ও খাল-বিল দূষিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে। ব্যবসায়ীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমাজের সাধারণ মানুষের সুস্থ জীবনধারণের অধিকার ব্যাহত করছে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। সুতরাং, এক্ষেত্রে সাধারণ জনগোষ্ঠী ও প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রতি ব্যবসায়ের সামাজিক দায়বদ্ধতা লঙ্ঘিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"গণসচেতনতাই পারে পলিথিন উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধ করতে"—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ ও যৌক্তিক।
পরিবেশের সুরক্ষায় ক্ষতিকর দ্রব্যের ব্যবহার রোধ করতে সরকারি আইন ও নির্দেশনার পাশাপাশি জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সচেতনতা সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করে। আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হলেও স্থায়ী সমাধান আসে সচেতনতার মাধ্যমে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, পলিথিনের অতিমাত্রিক ব্যবহারের কারণে পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, নদী-নালা ও সমুদ্র পর্যন্ত দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে। সরকার এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নানা নিষেধাজ্ঞা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং পাশাপাশি গণসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে। আইন যত কঠোরই হোক না কেন, ভোক্তারা যদি পলিথিন বর্জন না করে এবং বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ বা কাপড়ের থলে ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ না হয়, তবে পলিথিনের চাহিদা হ্রাস পাবে না।
চাহিদা না থাকলে উৎপাদকরাও তা তৈরি করতে নিরুৎসাহিত হবে। তাই সাধারণ মানুষ যখন পলিথিনের ক্ষতিকর দিক উপলব্ধি করে নিজ উদ্যোগে তা বর্জন করবে, তখনই কার্যকরভাবে এর উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধ হবে। অতএব, পরিবেশ সুরক্ষায় কেবল সরকারি বাধ্যবাধকতা নয়, বরং গণসচেতনতাই পলিথিন বন্ধের মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও