অর্থনীতি ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত। এদেশের ভূখণ্ড উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ক্রমশ ঢালু। পূর্বে সামান্য উঁচু ভূমি ছাড়া সমগ্র দেশের ভূমি সমভূমি। জলবায়ু মোটামুটি উষ্ণ, আর্দ্র ও সমভাবাপন্ন। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। এই জলবায়ুতে নানারকম ফসল উৎপাদিত হয়। এর সাথে আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের ফলে সবজিসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে যা দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

  1. ক)

    পরিবেশ বলতে কী বোঝ?

    (1)
  2. খ)

    বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান দুইটি বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশে বিদ্যমান প্রাকৃতিক পরিবেশে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক বিকাশের সম্ভাবনা উদ্দীপকের আলোক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানুষ ও অন্যান্য জীব সম্প্রদায়ের পারিপার্শ্বিক অবস্থা—যেমন মাটি, পানি, বায়ু, জলবায়ু, উদ্ভিদ ও প্রাণীজগৎ—যা তাদের জীবনধারা ও বিকাশকে প্রভাবিত করে, তার সামগ্রিক রূপকেই পরিবেশ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান দুইটি বৈশিষ্ট্য নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

    ১. কৃষির ওপর নির্ভরশীলতা: বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রধানত কৃষিনির্ভর। দেশের অধিকাংশ মানুষের জীবন-জীবিকা এবং কর্মসংস্থান প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সাথে জড়িত। কৃষি খাত দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পের কাঁচামাল জোগান দেয়।

    ২. দ্রুত বর্ধনশীল শিল্প ও সেবা খাত: সাম্প্রতিক দশকগুলোতে দেশের অর্থনীতিতে কাঠামোগত পরিবর্তন এসেছে। কৃষি খাতের পাশাপাশি তৈরি পোশাক শিল্প, ওষুধ, চামড়া এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও ব্যাংকিং সেবা খাতের অবদান জিডিপিতে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা অর্থনীতিকে বহুমুখী করে তুলছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রকৃতি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

    ১. ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূপ্রকৃতি: বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত একটি নদীমাতৃক দেশ। এদেশের ভূখণ্ড উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ক্রমশ ঢালু। দেশের অধিকাংশ অঞ্চলই সমভূমি; কেবল পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে কিছু পাহাড়ি ও সামান্য উঁচু ভূমি রয়েছে। সমতল ভূমি হওয়ায় এটি কৃষি ও অবকাঠামো নির্মাণের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

    ২. জলবায়ু: বাংলাদেশের জলবায়ু মোটামুটি উষ্ণ, আর্দ্র ও সমভাবাপন্ন। মৌসুমি বায়ুর সুস্পষ্ট প্রভাবের কারণে এখানে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।

    ৩. উর্বর মৃত্তিকা ও কৃষিবান্ধব পরিবেশ: পলিগঠিত সমভূমি এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে এখানকার মাটি অত্যন্ত উর্বর। এই অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণেই ধান, পাট, গম, চা এবং বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ও নানাবিধ ফসল সহজেই ও প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত বাংলাদেশের অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক বিকাশের ক্ষেত্রে এক অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। নিম্নে এ বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:

    ১. কৃষির আধুনিকায়ন ও বাণিজ্যিকীকরণ: উদ্দীপকে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, উর্বর সমতল ভূমি এবং অনুকূল জলবায়ুর সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত বীজ ও সেচ ব্যবস্থার সমন্বয়ের ফলে উৎপাদন বহুলাংশে বাড়ছে। এটি খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি কৃষিপণ্যের বাণিজ্যিকীকরণ ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের বিকাশ ঘটাচ্ছে।

    ২. রপ্তানি বহুমুখীকরণ: দেশের চাহিদা মিটিয়ে শাকসবজি ও কৃষিজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। গুণগত মান বৃদ্ধি করে আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষিপণ্য, তাজা সবজি, ফলমূল ও ফুল রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং রপ্তানি খাতকে বহুমুখী করা সম্ভব।

    ৩. কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়ন: উন্নত কৃষি প্রযুক্তির প্রসার ও বহুমুখী ফসল চাষের ফলে গ্রামীণ পর্যায়ে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, যা দারিদ্র্য দূরীকরণে ও গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।

    ৪. কৃষিভিত্তিক শিল্পের প্রসার: পর্যাপ্ত কাঁচামাল সরবরাহের সুযোগ থাকায় দেশের ভেতরে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও অ্যাগ্রো-ফার্মিং দ্রুত বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    পরিশেষে বলা যায়, বিদ্যমান প্রাকৃতিক পরিবেশের সুযোগ নিয়ে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে কৃষিনির্ভরতা থেকে একটি শক্তিশালী শিল্পায়িত ও রপ্তানিমুখী টেকসই অর্থনীতিতে রূপান্তর ঘটাতে সক্ষম হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন