যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
হাত্র ও শিক্ষকের কথোপোকথন:হাত্র: পুকুরের পানির নিচে একটি সোনার পাত্রের অস্তিত্ব আছে। যা একটি মেয়েকে মেরে ফেলেছে।শিক্ষক: এসব ঘটনার কার্যকারণ সংক্রান্ত কোন ব্যাখ্যা নেই।
- ক)(1)
ব্যাখ্যা কী?
- খ)(2)
মিশ্রকার্য হলো পৃথককরণের একত্রিত ফল- বুঝিয়ে দাও।
- গ)(3)
উদ্দীপকে মেয়েটির মৃত্যু নিয়ে ছাত্রটির বক্তব্যে যুক্তিবিদ্যার কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে- ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
পাঠ্যবইয়ের আলোকে উদ্দীপকের হাত্র ও শিক্ষকের বক্তব্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো জটিল, অস্পষ্ট ও দুর্বোধ্য বিষয়কে সহজ, সরল ও বোধগম্য করার প্রক্রিয়াকেই যুক্তিবিদ্যায় ব্যাখ্যা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রকৃতিতে যখন দুই বা ততোধিক কারণ একসঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি যৌথ বা যৌগিক কার্য উৎপন্ন করে, তখন তাকে মিশ্রকার্য বলে। মিশ্রকার্যের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা কারণের ক্রিয়া সম্মিলিত হয়ে একটি স্বতন্ত্র বা নতুন রূপ ধারণ করে। কারণগুলোকে পৃথকভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, সামগ্রিক ফলটি মূলত তাদের পৃথক পৃথক ক্রিয়ারই একটি একত্রিত বা সমন্বিত রূপ। তাই মিশ্রকার্য হলো পৃথক কারণগুলোর একত্রিত ফল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মেয়েটির মৃত্যু নিয়ে ছাত্রটির বক্তব্যে যুক্তিবিদ্যার 'লৌকিক ব্যাখ্যা' ফুটে উঠেছে।
লৌকিক ব্যাখ্যা হলো সাধারণ মানুষের অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার, অলৌকিক বা অতিপ্রাকৃতিক ধারণাভিত্তিক ব্যাখ্যা। সাধারণ মানুষ ঘটনার অন্তর্নিহিত বৈজ্ঞানিক নিয়ম বা কার্যকারণ সম্পর্ক অনুধাবন না করে কাল্পনিক ও অদৃশ্য কোনো শক্তি বা অন্ধবিশ্বাসের ওপর ঘটনার দায় চাপিয়ে দেয়।
উদ্দীপকে ছাত্রটি দাবি করে যে, পুকুরের পানির নিচের কোনো সোনার পাত্রের অস্তিত্ব মেয়েটিকে মেরে ফেলেছে। পানিতে ডুবে মৃত্যুর মতো একটি প্রাকৃতিক ঘটনাকে যুক্তি ও বিজ্ঞানের নিয়মে না দেখে ছাত্রটি সোনার পাত্রের মতো কাল্পনিক ও অলৌকিক ধারণার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে। এখানে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বা কার্যকারণ সম্বন্ধ নেই। সুতরাং, যুক্তিবিদ্যার দৃষ্টিকোণ থেকে ছাত্রটির বক্তব্যটি লৌকিক ব্যাখ্যার নিখুঁত রূপ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছাত্র ও শিক্ষকের বক্তব্যের মধ্যে মূলত 'লৌকিক ব্যাখ্যা' ও 'বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা'র মধ্যকার সুস্পষ্ট বৈসাদৃশ্য ও তুলনামূলক চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। পাঠ্যবইয়ের আলোকে এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিম্নে দেওয়া হলো:
১. ভিত্তির ভিন্নতা: ছাত্রটির বক্তব্য লৌকিক ব্যাখ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত, যার ভিত্তি হলো অন্ধবিশ্বাস, অমূলক কল্পনা ও অজ্ঞতা। পক্ষান্তরে, শিক্ষকের বক্তব্য বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর প্রতিষ্ঠিত, যার ভিত্তি হলো কার্যকারণ নিয়ম ও বস্তুগত পর্যবেক্ষণ।
২. কার্যকারণ সম্বন্ধ: ছাত্রের বক্তব্যে মেয়েটির মৃত্যুর কারণ হিসেবে কাল্পনিক সোনার পাত্রকে দায়ী করা হয়েছে, যার সাথে মৃত্যুর কোনো বাস্তব কার্যকারণ সম্পর্ক নেই। শিক্ষক স্পষ্টভাবে বলেছেন, "এসব ঘটনার কার্যকারণ সংক্রান্ত কোনো ব্যাখ্যা নেই"—যা নির্দেশ করে যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় কার্যকারণ সম্পর্ক থাকা অপরিহার্য।
৩. অলৌকিকতা বনাম যৌক্তিকতা: ছাত্রের ব্যাখ্যা অতিপ্রাকৃতিক ও মনগড়া বিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল, যা ব্যক্তিনির্ভর ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার অযোগ্য। অন্যদিকে শিক্ষকের মনোভাব ইঙ্গিত করে যে, প্রাকৃতিক ঘটনার ব্যাখ্যা হতে হবে বাস্তব ও প্রমাণযোগ্য প্রাকৃতিক নিয়মের সাহায্যে।
৪. সার্বজনীনতা ও গ্রহণযোগ্যতা: ছাত্রের লৌকিক ব্যাখ্যা কুসংস্কারাচ্ছন্ন হওয়ায় তা যুক্তিযুক্ত নয় এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে শিক্ষকের অবস্থান বৈজ্ঞানিক সত্যের অনুসারী হওয়ায় তা যুক্তিনির্ভর এবং সর্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য।
সুতরাং, উদ্দীপকে ছাত্রের বক্তব্য কুসংস্কারপ্রসূত লৌকিক ব্যাখ্যা এবং শিক্ষকের বক্তব্য যুক্তিসঙ্গত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও