জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • কোষ রসায়ন • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

'A' ও 'B' জীবদেহে বিদ্যমান দুইটি জৈব রাসায়নিক বস্তু। 'A' যৌগের একক অ্যামাইনো এসিড। 'B' যৌগটি জীবদেহের জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় প্রভাবকের ভূমিকা পালন করে।

  1. ক)

    জিন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    দ্বি-নিষেক বলতে কী বুঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'B' যৌগটির ক্রিয়া-কৌশল ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    জীবদেহে উদ্দীপকের 'A' যৌগের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জীবের নির্দিষ্ট কোনো বংশগত বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী DNA বা ক্রোমোজোমের কার্যকর একককে জিন (Gene) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গুপ্তবীজী উদ্ভিদের ভ্রূণথলিতে একই সাথে একটি পুং-জননকোষ ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট (2n) এবং অপর পুং-জননকোষটি গৌণ নিউক্লিয়াসের সাথে মিলিত হয়ে ট্রিপ্লয়েড (3n) শস্য কোষ গঠন করার প্রক্রিয়াকে দ্বি-নিষেক (Double fertilization) বলে। এ প্রক্রিয়ায় দুটি পুং-জননকোষের পৃথক নিষেক ক্রিয়া প্রায় একই সময়ে ঘটে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'B' যৌগটি জীবদেহের জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় প্রভাবক বা জৈব অনুঘটক হিসেবে ভূমিকা পালন করে, সুতরাং 'B' যৌগটি হলো এনজাইম (Enzyme)।

    এনজাইমের ক্রিয়া-কৌশল নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. এনজাইম-সাবস্ট্রেট জটিল গঠন: প্রতিটি এনজাইমের একটি সুনির্দিষ্ট সক্রিয় স্থান (Active site) থাকে। সাবস্ট্রেট (S) এনজাইমের (E) সক্রিয় স্থানের সাথে নির্দিষ্টভাবে যুক্ত হয়ে একটি অস্থায়ী 'এনজাইম-সাবস্ট্রেট জটিল' (ES Complex) গঠন করে:
    E + S ⇌ ES Complex
    ২. বিক্রিয়ার সক্রিয়ণ শক্তি হ্রাস: এনজাইম বিক্রিয়াটিতে সাবস্ট্রেটের সক্রিয়ণ শক্তি (Activation energy) উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়, যার ফলে রাসায়নিক বিক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত গতিতে সম্পন্ন হয়।
    ৩. উৎপাদ সৃষ্টি ও এনজাইমের পুনরুত্থান: সাবস্ট্রেটটি উৎপাদে (Product, P) রূপান্তরিত হওয়ার পর এনজাইম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং এনজাইম নিজে অপরিবর্তিত থেকে পুনরায় নতুন বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়:
    ES Complex → E + P

    এমিল ফিশারের 'তালা-চাবি মতবাদ' (Lock and Key Hypothesis) এবং কোশল্যান্ডের 'আবেশিত ফিট মতবাদ' (Induced-fit Hypothesis) দ্বারা এনজাইম ও সাবস্ট্রেটের এই নির্ভুল ক্রিয়া-কৌশল সুপ্রতিষ্ঠিত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'A' যৌগের একক হলো অ্যামাইনো এসিড, সুতরাং 'A' যৌগটি হলো প্রোটিন (Protein)। জীবদেহে প্রোটিনের গুরুত্ব অপরিসীম, যা নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. গঠনগত উপাদান: প্রোটিন কোষপ্রাচীর, প্লাজমামেমব্রেন, সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু এবং দেহকোষের মূল গাঠনিক উপাদান। যেমন— কেরাটিন (চুল, নখ), কোলাজেন (ত্বক, অস্থি ও তরুণাস্থি) ইত্যাদি দেহ গঠনে প্রধান ভূমিকা রাখে।
    ২. শারীরবৃত্তীয় ও বিপাকীয় নিয়ন্ত্রণ: জীবদেহের সকল এনজাইমই মূলত প্রোটিন, যা বিপাকীয় সমস্ত রাসায়নিক বিক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ ও ত্বরান্বিত করে।
    ৩. হরমোন হিসেবে নিয়ন্ত্রণ: ইনসুলিন, গ্লুকাগন, থাইরক্সিন ইত্যাদির মতো বহু জীবনরক্ষাকারী হরমোন প্রোটিনধর্মী, যা দেহের বৃদ্ধি ও রক্তের গ্লুকোজসহ বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় ভারসাম্য রক্ষা করে।
    ৪. পরিবহন কাজ: রক্তের হিমোগ্লোবিন একটি প্রোটিন, যা দেহজুড়ে অক্সিজেন পরিবহন করে। এছাড়া কোষপর্দায় প্রোটিন বাহক হিসেবে অণু-পরমাণু পরিবহন করে।
    ৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: দেহে রোগ প্রতিরোধ সৃষ্টিকারী অ্যান্টিবডি হলো ইমিউনোগ্লোবুলিন নামক প্রোটিন, যা বহিরাগত জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে রক্ষা করে।
    ৬. চলন ও শক্তি উৎপাদন: অ্যাকটিন ও মায়োসিন প্রোটিন পেশিসংকোচন ও চলনে সহায়তা করে। তীব্র খাদ্যাভাব বা জরুরি অবস্থায় প্রোটিন জারিত হয়ে শক্তিও যোগায়।

    অতএব, গঠন থেকে শুরু করে বিপাক এবং প্রতিরক্ষা পর্যন্ত জীবদেহের সামগ্রিক অস্তিত্ব ও কার্যকারিতা টিকিয়ে রাখতে প্রোটিনের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন